এবার চার তরুণীকে আটকে রেখে গণধর্ষণের অভিযোগ

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | নিজস্ব প্রতিনিধি


এবার ফেনী শহরের রামপুর এলাকায় একটি বাসায় চার তরুণীকে আটকে রেখে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার (৭ জানুয়ারি) এক তরুণী বাদী হয়ে কাওসার বিন কাসেমসহ (৩৩) অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ফেনী সদর মডেল থানায় একটি মামলা করেছেন।

মামলা দায়েরের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে রামপুর এলাকা থেকে মো. ওমায়ের (১৯) ও আরিফুল ইসলাম প্রকাশ আরমান (৩৩) নামে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে।

জানাগেছে, রামপুর এলাকায় একটি বাসায় দীর্ঘ ছয়মাস ধরে চার তরুণীকে বিভিন্ন স্থান থেকে এনে আটকে রেখে আসামি নিজে ও তার সহযোগীদের সাথে জোরপূর্বক যৌন সম্পর্ক করতে বাধ্য করা হয়। অসম্মতি জানালে তাদেরকে সিগারেটের ছ্যাকা, বৈদ্যুতিক শক ও মারধর করে বিভিন্নভাবে অমানসিক নির্যাতন চালানো হতো। ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনার ঝড় ওঠে। এলাকাবাসী এ ন্যক্কারজনক ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।

গত সোমবার সকালে ওই বাসার ভেতরে তরুণীদের কান্না ও চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান চালায়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বাসার মালিকসহ নির্যাতনকারীরা পালিয়ে যায়। পরে ওই বাসার দরজার তালা ভেঙে শারীরিক ও মানসিকভাবে হতাশাগ্রস্ত অবস্থায় চার তরুণীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, দীর্ঘ ছয় মাস ধরে ওই বাসায় এভাবে বিভিন্ন স্থান থেকে প্রলোভন ও প্রেমের অভিনয় করে অভিনব কৌশলে কাওসার বিন কাসেমসহ তার সহযোগীরা তাদেরকে বাসায় এনে জোরপূর্বক মাদক সেবন করিয়ে তাদেরকে গণধর্ষণ করা হতো। এমনকি বিভিন্ন সময় অজ্ঞাতনামা লোকজনকে বাসায় নিয়ে এসেও একই কায়দায় তাদের সাথে দৈহিক মিলনে বাধ্য করা হতো। এতে কেউ অস্বীকৃতি জানালে তাদের ওপর নেমে আসত অমানসিক নির্যাতন। তাদেরকে হত্যার হুমকিও দেয়া হতো। এভাবে উদ্ধারকৃত বাদীসহ চার তরুণী তাদের ওপর চালানো যৌন নিপীড়ন ও অমানসিক নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরেন।

ফেনী সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মো. আবু তাহের বলেন, গত সোমবার দুপুরে পুলিশ শারীরিক পরীক্ষা করানোর জন্য চার তরুণীকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। হাসপাতালে ওই তরুণীদের শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে।

মামলা তদন্ত কর্মকর্তা ফেনী শহর পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. শাহজাহান জানান, শহরের রামপুরের ওই বাসা থেকে তরুণীদের উদ্ধার অভিযানের সময় বাসার বিভিন্ন কক্ষ থেকে ৫৩ পিস ইয়াবা বড়িসহ মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম ও নির্যাতনের আলামত জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া মাদক উদ্ধারের ঘটনায়ও থানায় পৃথক মামলা হয়েছে।

সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শহীদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় অভিযুক্ত প্রধান আসামি কাওসার বিন কাসেমকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে। ইতোমধ্যে তার দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে ১০ দিনের পুলিশি রিমান্ড চাওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, গত সোমবার দুপুরে ফেনী সদর হাসপাতালে চার তরুণীর শারীরিক পরীক্ষা শেষে ‘২২ ধারায়’ জবানবন্দি রেকর্ড করার জন্য ফেনীর বিচারিক হাকিমের আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় আদালতকে তারা তাদের ওপর চালানো অমানসিক নির্যাতনের বর্ণনা দেন।


ইনসাফ সাংবাদিকতা কোর্স

ইনসাফ সাংবাদিকতা কোর্সদেশের প্রথম ইসলামী ঘরানার অনলাইন পত্রিকা ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকমের আয়োজনে শুরু হতে যাচ্ছে স্বল্পমেয়াদী সাংবাদিকতা কোর্স।অংশগ্রহণ করতে যোগাযোগ করুন এই নাম্বারে-০১৭১৯৫৬৪৬১৬এছাড়াও সরাসরি আসতে পারেন ইনসাফ কার্যালয়ে।ঠিকানা – ৬০/এ পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০।

Posted by insaf24.com on Monday, October 29, 2018


মিয়ানমারের বিবৃতির কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ
Date: জানুয়ারি ০৯, ২০১৯
ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | নিজস্ব প্রতিনিধি


মিয়ানমারের উগ্র বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ‘আরাকান আর্মি’ ও সশস্ত্র রোহিঙ্গা গোষ্ঠী ‘আরসা’ নিয়ে বাংলাদেশকে জড়িয়ে দেশটির রাষ্ট্রপতি কার্যালয়ের মুখপাত্রের দেওয়া বিবৃতির কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা।

মঙ্গলবার কূটনৈতিক চ্যানেলে মিয়ানমারকে এ প্রতিবাদপত্র পাঠানো হয়ে। বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

মিয়ানমার সরকারকে দেওয়া প্রতিবাদপত্রে ঢাকা বলে, বাংলাদেশে আরাকান আর্মি কিংবা আরসার কোনো ঘাঁটি নেই। মিয়ানমারের রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের মুখপাত্র আরাকান আর্মি ও আরসা নিয়ে বাংলাদেশকে জড়িয়ে গণমাধ্যমে যে বিবৃতি দিয়েছে তা মিথ্যা ও মনগড়া।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো বার্তায় বলা হয়, গত ৭ জানুয়ারি একাধিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, মিয়ানমারের রাষ্ট্রপতি কার্যালয়ের মুখপাত্র মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে দুইটি আরাকান আর্মি ও তিনটি আরসার ঘাঁটি রয়েছে। দেশটির এমন মন্তব্যে বাংলাদেশ আহত ও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানানোসহ এমন মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ কড়া প্রতিবাদ জানাচ্ছে।

মিয়ানমারের রাষ্ট্রপতি কার্যালয়ের মুখপাত্রের মন্তব্য মিথ্যা ও ভিত্তিহীন উল্লেখ করে বার্তায় বলা হয়, বাংলাদেশের মাটিতে সন্ত্রাসীদের কোনো স্থান নেই। সন্ত্রাস বিষয়ে বাংলাদশ কোনো ছাড় দেয় না। তাই বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিদেশি সন্ত্রাসীদের কার্যক্রম চালানোর কোনো প্রশ্নই ওঠে না।

সন্ত্রাস ও চরমপন্থা নির্মূলে বাংলাদেশ বিশ্বকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করছে উল্লেখ করে বার্তায় বলা হয়, বাংলাদেশের ভেতরে বিদেশি কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর অস্তিত্ব থাকার প্রশ্নই আসে না। বাংলাদেশ বিদেশি কোনো সন্ত্রাসী বা বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীকেও প্রশ্রয় দেয় না। বাংলাদেশের নিরাপত্তা প্রহরীরা সার্বক্ষণিকভাবে সীমান্তসহ সারাদেশের নিরাপত্তা নিশ্চিতে অক্লান্ত পরিশ্রম করছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বার্তায় আরও বলা হয়, সন্ত্রাস ও চরমপন্থা নির্মূল করতে বাংলাদেশ প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করছে। এ লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করতে বাংলাদেশ একাধিকবার মিয়ানমারকে আমন্ত্রণ জানালেও দেশটি এখন পর্যন্ত ইতিবাচক কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।