আসুন! গভীরভাবে ভাবি; চিন্তাকে শাণিত করি

মুফতী হারুন ইজহার (হেফাজতের কেন্দ্রীয় নেতা)


মুফতী হারুন ইজহার‘পশুবলি নয়, মনপশুর কোরবানী’ ‘ধর্ম যার যার উৎসব সবার’ ‘সার্বজনীন ঈদ’ ‘সার্বজনীন দূর্গাপূজা’ এ জাতীয় শব্দগুলোর প্রবক্তাদের আমরা কি বলব?

অবশ্যই হয়ত বলব সেক্যুলার।কিন্তু আদতেই কি সেক্যুলারিজমের ডেফিনেশন এবং তার ইতিহাস কি ঐ শ্রেণির সাথে যায়? না, যায় না। তারা একটা ভনিতা করছে সেক্যুলারিজমের নাম ভাঙ্গিয়ে।এই সেক্যুলারিজম আমার শত্রু।তবে মানসম্মত শত্রু। যাকে আমার মোকাবেলা করতে হয় প্রচন্ড যুক্তি দিয়ে। কিন্তু ঐ বাঙ্গালী প্রগতিবাজরা তাত্ত্বিকতার লড়ায়ে আমার সমকক্ষ নয়।তারা ভন্ড।সেক্যুলারিজমের পরিভাষাগত তাত্ত্বিক মানদন্ডে উত্তীর্ণ না হয়েও তারা যে নিজেদের উপর ধর্মনিরপেক্ষবাদের তকমা আরোপ করে সেজন্যই আমি তাদেরকে ভন্ড বলছি।তাদের স্বরুপ কি? তা থেকে পর্দা না উঠাতে পারলে আমাদের চিন্তার লড়াই কেবল ভুল পথেই এগুবে।

বৈশ্বিক এবং আঞ্চলিক পরিমন্ডলে আদর্শিক ও সাংস্কৃতিক যে চ্যালেঞ্জ আমাদের জন্য তৈরি হয়ে আছে তা বাহ্যিক রুপে সেক্যুলার অবয়বে হাজির হলেও তার প্রাণ ও মনের সুপ্ত জায়গায় ঐ ক্রুসেড আর ঐ পৌত্তলিকতার প্রেতাত্মাই ভর করে আছে অতি সন্তর্পণে।

ইউরোপে লিবারেলিজমের মন্ত্রণা ধর্মীয় ঐতিহ্যের উপর আঘাত হানলেও তা ইংরেজদের ক্রুসেডের চেতনাকে পূর্ণাঙ্গভাবে আধুনিক বিংশ শতাব্দীতে অপ্রাসঙ্গিক করতে পারেনি।বংলাদেশের বাস্তবতায় ঠিক ঐ আদলেই এখানকার ধর্ম নিরপেক্ষবাদী বাঙ্গালী সংস্কৃতি পৌত্তলিকতার সূক্ষ চেতনা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। গোপাল হালদার সহ নিরপেক্ষ লেখকগণের নির্মোহ বিশ্লেষণগুলোতে বাঙ্গালী সংস্কৃতির উপরোক্ত স্বরুপটি বার বার উম্নোচিত হয়েছে।

ব্যাপারটাকে আমি এভাবে বলি ; এদেশের তথাকথিত ঐ বিশেষ সেক্যুলার শ্রেণির সাহিত্যকর্মীরা বাহ্যত হিন্দুবাদী নয় বটে,তবে তারা আগাগোড়াই হিন্দু বান্ধব।ছন্দের পতন ঘটে কেবল মুসলমানদের বেলায়। অর্থাৎ সাংস্কৃতিক চেতনায় তারা ইসলামবাদী তো নয়ই বরং উল্টো ইসলামবিদ্বেষী। বঙ্কিমে হিন্দুত্বের ঝাল প্রকট। বাঙালী মুসলিম সমাজে এর দ্বারা হিতে বিপরীত হবে তাই তাদের কৌশল হল দক্ষ রবীন্দ্র হাতের তুঁলিতে আঁকা হিন্দুত্বকে বাঙালিত্বের পাইপ দিয়ে চালান করা।

পশুবলির স্থলে মনপশুর কোরবানীর তত্ত্ব দ্বারা গরু বান্ধব পৌত্তলিকতার আহ্বানই করা হচ্ছে তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ মানবতাবাদী শ্লোগানের আড়ালে।

ধর্মান্ধতাশ্রিত ধর্মনিরপেক্ষতার এক চমৎকার কসরৎ! সাবাস বাঙ্গালী সেক্যুলারিজম!

একটা কথা বলে রাখি; প্রথমে কলমের খোঁচা,পরে প্রোপাগান্ডা এরপর রাজনৈতিক প্রয়াস অতঃপর চূড়ান্ত পর্বে আইনগত উদ্যোগ- ‘ধর্মনিরপেক্ষকরণ’ র প্রকল্পগুলো এভাবে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশে।আসুন! গভীরভাবে ভাবি। চিন্তাকে শাণিত করি। আরো কত কত উপসর্গ জন্মের আগেই।


ফেইসবুক থেকে নেয়া