৩০ ডিসেম্বরের ভোট ডাকাতির মহোৎসবকে নির্বাচন বললে গুনাহ হবে: অধ্যক্ষ ইউনুস

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | ডেস্ক রিপোর্ট


ছবি: আনাস আব্দুল্লাহ

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুছ আহমদ বলেছেন, ৩০ ডিসেম্বর ভোট ডাকাতির মহোৎসবের মাধ্যমে জনগণের ম্যান্ডেটকে নিজেদের পক্ষে ঘোষণা করা জঘন্য অপরাধ। ৩০ ডিসেম্বর যে তামাশা হয়েছে এটাকে নির্বাচন বললে গুনাহ হবে। এ নির্বাচন নিয়ে রাষ্ট্রীয় মিথ্যাচার চলছে। ক্ষমতাসিনদের এমন মিথ্যাচারে দেশের মানুষতো হাসেই, শিশুরাও প্রশ্ন করা শুরু করছে যে, এমপি এমন মিথ্যা বললে আমরা কি শিখব? এটা চলতে থাকলে আসমানী গজব আসার সম্ভাবনা থাকে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আয়োজিত নির্বাচন পরবর্তী এক পর্যালোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নগর দক্ষিণ সভাপতি মাওলানা ইমতিয়াজ আলম এর সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সহ-সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুর রহমান, আলহাজ্ব আলতাফ হোসেন, সেক্রেটারী মাওলানা এবিএম জাকারিয়া, আলহাজ্ব আব্দুল আউয়াল, ডা. শহীদুল ইসলাম, মাওলানা নজরুল ইসলাম, এইচ এম সাইফুল ইসলাম, আলহাজ্ব মনোয়ার খান প্রমুখ।

মাওলানা ইউনুছ আরো বলেন, আলহামদুলিল্লাহ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতা-কর্মীদের আমরা আদর্শ শিক্ষা দিতে সক্ষম হয়েছি। তারা ভোটকে পবিত্র আমানত মনে করে। তিনি সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, জনগনের ভোটে আমরা নির্বাচিত হয়েছি, এমন অসত্য বচন থেকে দয়া করে বিরত থাকুন। নতুবা দেশবাসী ও এমনকি আগামী প্রজন্ম আপনাদের শুধু ঘৃনাই করবে। তিনি পীর সাহেব চরমোনাইর প্রস্তাব অনুযায়ী নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে পূনরায় নির্বাচন দাবী করেন।


ইনসাফ সাংবাদিকতা কোর্স

ইনসাফ সাংবাদিকতা কোর্সদেশের প্রথম ইসলামী ঘরানার অনলাইন পত্রিকা ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকমের আয়োজনে শুরু হতে যাচ্ছে স্বল্পমেয়াদী সাংবাদিকতা কোর্স।অংশগ্রহণ করতে যোগাযোগ করুন এই নাম্বারে-০১৭১৯৫৬৪৬১৬এছাড়াও সরাসরি আসতে পারেন ইনসাফ কার্যালয়ে।ঠিকানা – ৬০/এ পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০।

Posted by insaf24.com on Monday, October 29, 2018


আল্লামা শফী’র প্রশ্ন; একটা শিক্ষা বোর্ডের প্রধান হওয়ার পরেও আমি কি করে নারী শিক্ষা বিরোধী হলাম!
জানুয়ারি ১২, ২০১৯
ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | এম মাহিরজান


জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসার ১১৮ তম মাহফিলে দেয়া আল্লামা শাহ আহমদ শফী’র একটি বক্ত্যবের খণ্ডাংশ বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রচার করা হচ্ছে। এতে করে বিভিন্ন মহলে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ায় বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি।

আজ গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি তাঁর গতকালের বক্তব্যের ব্যাখ্যায় বলেন, ”গতকাল ১১ জানুয়ারি ২০১৯ ইং তারিখে জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী’র বার্ষিক মাহফিলে দেয়া আমার বক্তব্যের একটি খণ্ডাংশ বিভিন্ন মিডিয়ায় ভুল ভাবে উপস্থাপন করায় জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে বলে আমি জানতে পেরেছি। বক্তব্যে আমি মূলত বলতে চেয়েছি ইসলামের মৌলিক বিধান পর্দার লঙ্ঘন হয়, এমন প্রতিষ্ঠানে মহিলাদের পড়াশুনা করানো উচিৎ হবেনা। আমাদের মনে রাখতে হবে যে, ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। এখানে শিক্ষা থেকে শুরু করে রাষ্ট্র পরিচালনাসহ যাবতীয় সকল কিছুই রয়েছে। ইসলামে নারীদের শিক্ষার বিষয় উৎসাহিত করা হয়েছে এবং সকলেই অবগত যে, উম্মুল মুমিনিন হজরত মা আয়িশা রাঃ ছিলেন একজন প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস। তিনি শিক্ষাগ্রহণ না করলে উম্মত অনেক হাদিস থেকে মাহরুম হয়ে যেত। তবে এর পাশাপাশি ইসলামের একটি মৌলিক বিধান হচ্ছে পর্দা। নারীদের পর্দার বিষয় ইসলামে সুস্পষ্ট নীতিমালা রয়েছে। আমি আমার বক্তব্যে বলতে চেয়েছি, শিক্ষা গ্রহণ করতে গিয়ে যেন পর্দার বিধান লঙ্ঘন করা না হয়। কারণ আমাদের দেশের বেশীরভাগ সাধারণ শিক্ষাকেন্দ্রগুলোতে সহশিক্ষা দেয়া হয়, অর্থাৎ ছেলে-মেয়ে একই সাথে শিক্ষা গ্রহণ করে থাকে। এতে করে পর্দার লঙ্ঘন হয়। আমি মূলত এই সহশিক্ষা গ্রহণেই মানুষকে সতর্ক করতে চেয়েছি।”

আল্লামা শফী বলেন, ”আমি জানতে পেরেছি যে, বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে আমাকে নারী বিদ্বেষী ও নারী শিক্ষা বিদ্বেষী বলে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তারা আমার বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা দাড় করাচ্ছে। আমি হাইয়াতুল উলইয়ালিল জামিয়াতিল কওমিয়া’র চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। আপনারা জানেন যে হাইয়ার অধীনে হাজার হাজার নারী শিক্ষার্থীরা উচ্চ শিক্ষার সনদ গ্রহণ করে থাকেন। ইতিমধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের সমমান প্রধান করেছেন। এতে করে আমাদের দেশের লাখো মাদরাসা ছাত্র ও ছাত্রীরা দাওয়ারে হাদিস পাশ করে মাস্টার্সের সমমান অর্জন করছেন। যে সম্মিলিত বোর্ডের অধীনে পরীক্ষা দিয়ে হাজার হাজার নারী রাষ্ট্র স্বীকৃত উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত বলে পরিগণিত হচ্ছে, সেই বোর্ডের প্রধান হয়ে আমি কিভাবে নারী শিক্ষার বিরোধী হলাম তা বোধগম্য নয়।”

তিনি বলেন, ”আমি আবারো বলছি যে, আমি বা আমরা নারী শিক্ষার বিরুদ্ধে নই, তবে নারীর জন্য নিরাপদ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিষয় আমরা আগেও সতর্ক করেছি, এখনো করছি। আমরা চাই নারীরা উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হোক, তবে সেটা অবশ্যই নিরাপদ পরিবেশে থেকে এবং ইসলামের মৌলিক বিধানকে লঙ্ঘন না করে। শিক্ষা গ্রহণ অবশ্যই জরুরী, তবে সেটা গ্রহণের জন্য আমরা আমাদের কন্যাদের অনিরাপদ পরিবেশে পাঠাতে পারিনা। আমরা যেমন নিরাপদ পরিবেশে রেখে নারীদের সর্বোচ্চ শিক্ষায় (দাওরায়ে হাদিস সমমান মাস্টার্স) শিক্ষিত করে যাচ্ছি, আপনারাও সেভাবে নিরাপদ ব্যবস্থা করে শিক্ষা দান করুন। আমরা উৎসাহিত করব আপনাদের। আমরা চাই এ দেশের নারীরা শিক্ষিত হোক, কারণ মা শিক্ষিত হলেও সন্তান সঠিক শিক্ষা পাবে। নারীদের শিক্ষা গ্রহণের জন্য পরিবেশ তৈরি করুন। যেখানে পরিচালক থেকে শুরু করে কর্মকর্তারা সকলেই নারী থাকবেন। সে ধরনের শিক্ষা দানের ব্যবস্থা থাকলে আমরা তাতে উৎসাহিত করবো ইন শা আল্লাহ। পরিশেষে আমি অনুরোধ করব যে, আমার বক্তব্যের খণ্ডাংশ প্রচার করে জাতিকে বিভ্রান্ত করবেন না।”