মার্চ ২৮, ২০১৭

ক্বওমি সনদের স্বীকৃতি প্রসঙ্গে শাইখুল ইসলাম আল্লামা আহমদ শফী’র মূল্যবান দিক-নির্দেশনা

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

শাইখুল-ইসলাম-আল্লামা-শাহ-আহমদ-শফী


হেফাজত আমীর শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী’র প্রেস সেক্রেটারি ও মাসিক মুঈনুল ইসলাম-এর নির্বাহী সম্পাদক মাওলানা মুনির আহমদের ফেইসবুক পোস্ট থেকে নেয়া।


১। “মনে রাখতে হবে, ক্বওমি মাদ্রাসাসমূহ রাষ্ট্রীয় কোষাগারের অর্থে নয়, বরং সরাসরি জনগণের সাহায্য সহযোগিতায় পরিচালিত হয়। আমাদের যে কোন ভুল পদক্ষেপে যদি জনগণ তথা ক্বওম মুখ ফিরিয়ে নেয়, তখন ক্বওমি মাদ্রাসা আর ক্বওমি থাকবে না। ক্বওমের কাছে উলামায়ে কেরাম তাদের মর্যাদা, খ্যাতি ও অবস্থান হারাবে”। তিনি বলেন, “উলামায়ে কেরামের দুনিয়াবী মোহ বিসর্জন দিয়ে ইসলামী শিক্ষা ও দাওয়াতী কার্যক্রমের প্রচার-প্রসার, দ্বীনের জন্যে একনিষ্ঠ মেহনত ও আত্মত্যাগে উদ্বুদ্ধ হয়েই ক্বওম তথা জাতি অকুণ্ঠ চিত্তে ক্বওমি মাদ্রাসা ও উলামায়ে কেরামকে সবসময় সর্বাত্মক সমর্থন সহযোগিতা দিয়ে আসছে”।


শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী

 

২। “জনগণ উলামায়ে কেরামকে ইসলামের জন্যে ত্যাগ-তিতীক্ষার আদর্শকে সমুন্নত রেখে দ্বীন-ইসলামের খেদমতেই সবসময় নিবেদিত হয়ে চলা; দেখতে চায়। সুতরাং যে কোন উক্তি, বক্তব্য ও সিদ্ধান্ত নিতে দুনিয়াবী খ্যাতি, মোহ ও স্বার্থের বিষয়ে আত্মত্যাগী হয়ে ইসলামী শিক্ষার প্রচার-প্রসার এবং মুসলিম জাতিসত্ত্বার চেতনাবোধ ও দ্বীন-ইসলামের স্বার্থকে সমুন্নত রাখার বিষয়টাকে প্রাধ্যান্য দিতে হবে”।


শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী

৩। তিনি আরো বলেছিলেন, “ক্বওমি আলেমদের কাছ থেকে সনদের সরকারী স্বীকৃতি বিষয়ে বাড়াবাড়ি পর্যায়ের আচরণ বা এ নিয়ে নিজেদের মধ্যে বিতর্কে জড়িয়ে পড়া ক্বওম তথা জনগণ ভালভাবে কখনোই নিবে না। সনদের সরকারী স্বীকৃতি ছাড়াই জনগণ আমাদেরকে যুগ যুগ ধরে স্বীকৃতি ও বরণ করে আসছে। সনদের সরকারী স্বীকৃতি নিয়ে আলেমদের আচরণ বাড়াবাড়ি পর্যায়ে গেলে ক্বওম তথা জনগণ সরকারী মাদ্রাসার মতো ক্বওমি মাদ্রাসা থেকেও মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার ভয় তৈরী হতে পারে। আর তখন সনদের সরকারী স্বীকৃতি মিললেও সবচেয়ে মূল্যবান জনগণের স্বীকৃতি হারানোর আশংকা জাগবে। সর্বাবস্থায়, ক্বওমি মাদ্রাসাকে কওমের প্রত্যাশা ও চাহিদা মতে পরিচালিত করতে হবে”।


শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী

৪। “আমরা নিজেরা সনদের স্বীকৃতির জন্যে সরকারের কাছে দেন-দরবার করা কখনোই ঠিক হবে না। আমরা সম্মিলিতভাবে এমন একটা নীতিমালা তৈরী করার চেষ্টা করছি, যে নীতিমালার আলোকে সরকার যদি স্বতঃস্ফূর্তভাবে ক্বওমি সনদের স্বীকৃতি দিতে চায়, তবে দিতে পারে। অন্যথায় স্বকীয়তা বিসর্জন দিয়ে বা অবস্থান দুর্বল করে আমরা সনদের স্বীকৃতি নেওয়ার তোয়াক্কা করব না”।


শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী

৫। “আমরা ক্বওমি সনদের স্বীকৃতির প্রয়োজনীয়তাকে অস্বীকার করছি না। তবে ইসলাম বিরোধী শিক্ষা আইন, নাস্তিক্যবাদি ও হিন্দুত্ববাদি চেতানার স্কুল পাঠ্যবই, বিতর্কিত শিক্ষা আইন এবং শিক্ষা বিভাগের নীতিনির্ধারণী ও গুরুত্বপূর্ণ পদসমূহে একটি বিশেষসম্প্রদায়ের লোকজনের প্রাধ্যানতার বিষয়ে আমাদের যৌক্তিক দাবী পূরণকে আমরা প্রাধান্য দিতে চাই। কারণ, এসব বিষয়ে সমাধানে না পৌঁছালে শুধু জাতীয় পর্যায়ে ইসলামী চেতনাবোধ বিলীন করার ষড়যন্ত্রই বাস্তবায়িত হবে না, পাশাপাশি ক্বওমি মাদ্রাসা শিক্ষার স্বকীয়তা এবং লক্ষ্য-উদ্দেশ্যকেও মারাত্মক হুমকির মুখে ঠেলে দেবে”।


শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী