ধর্ম মন্ত্রণালয়ে কোনো ধরণের অন্যায় কাজ হতে দেয়া হবে না : ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ আব্দুল্লাহ

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | নিজস্ব প্রতিনিধি


ধর্ম মন্ত্রণালয়ে কোনো ধরণের অন্যায় কাজ হতে দেয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ আব্দুল্লাহ।

মন্ত্রণালয় ও এর আওতাধীন দপ্তর বা সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারিদের উদ্দেশ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ধর্ম একটি পবিত্র বিষয়। ধর্ম মন্ত্রণালয়ে কোনো ধরণের অন্যায় কাজ হতে দেয়া হবে না।

মঙ্গলবার বিকেলে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পরিচিতি ও কার্যক্রম অবহিতকরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

সব ধর্মের কল্যাণেই উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে জানিয়ে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ধর্মীয় মূল্যবোধ সম্পন্ন আধুনিক সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের অগ্রযাত্রায় ধর্ম মন্ত্রণালয় সামনের সারিতে থাকবে।

তিনি আরও বলেন, প্রতিটি ধর্মের ধর্মীয় রীতি-নীতি, অনুশাসন পালনের সুযোগ করে দেয়া আমার দায়িত্ব। এক্ষেত্রে ধর্ম মন্ত্রণালয় ও এর আওতাধীন দফতর বা সংস্থাসমূহ স্ব স্ব দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করলে আমার দায়িত্ব পালন করা সহজ হবে।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনিছুর রহমানের সভাপত্বিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কাজী হাসান আহমেদ ও ড. মোয়াজ্জেম হোসেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজাল, ওয়াকফ প্রশাসক মো. শহিদুল ইসলামসহ মন্ত্রণালয় ও আওতাধীন দফতর সংস্থা ও প্রকল্পসমূহের কর্মকর্তাবৃন্দ।


আল্লামা শফীকে নিয়ে ড. কামালের অশালীন মন্তব্য; কী বলছেন জোটভুক্ত ইসলামী দলের নেতারা?
জানুয়ারি ১৫, ২০১৯
ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | এম মাহিরজান


গত ১১ জানুয়ারি দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসার ১১৮ তম বার্ষিক মাহফিলে দেয়া মাদরাসাটির মহাপরিচালক ও হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফীর বক্তব্যের খণ্ডিত অংশ নিয়ে কিছু কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের ওপর ভিত্তি করে গতকাল সোমবার (১৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে বিবৃতিতে দেন গণফোরামের সভাপতি ডক্টর কামাল হোসেন।

বিবৃতিতে তিনি আল্লামা শাহ আহমদ শফী সম্পর্কে অশালীন মন্তব্য করেন। ডক্টর কামাল আল্লামা শফীকে নারী বিদ্বেষী, স্বাধীনতার চেতনাবিরোধী, সংবিধানবিরোধী ও ফতোয়াবাজ বলে আখ্যায়িত করেন।

ডক্টর কামালের বিবৃতি প্রসঙ্গে মন্তব্য জানতে চাইলে ২০ দলীয় জোটের শরীক দল খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ডক্টর আহমদ আব্দুল কাদের বলেন, প্রথমত আমরা ডক্টর কামালের এই মন্তব্যের সাথে একমত নই। এবং আমরা মনে করি ডক্টর কামাল যে অবস্থানে আছেন, সেখান থেকে এ ধরনের মন্তব্য করা দুঃখজনক। আল্লামা শাহ আহমদ শফী একজন বয়োবৃদ্ধ আলেম, তিনি ধর্মীয় দিক বিবেচনায় তার বক্তব্য দিয়েছেন। যে কেউ এই বক্তব্যের সাথে দ্বিমত পোষণ করতেই পারে। কিন্তু এর মানে এই নয় যে তাঁকে গ্রেপ্তারের দাবী তোলা যাবে! এটা বাড়াবাড়ি।

আপনারা ২০ দলীয় জোটে আছেন, জোট আবার ঐক্যফ্রন্টে আছে, ডক্টর কামাল ঐক্যফ্রন্টের গুরুত্বপূর্ণ নেতা…..। আপনারা কি জোটের বিষয় কিছু ভাবেছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে আহমদ আব্দুল কাদের বলেন, শুধু এই বিষয় নিয়ে নয়, সামগ্রিক ভাবে ইসলামপন্থীদের জোট নিয়ে ভাবতে হচ্ছে। আমরা ভাবছিও।

২০ দলীয় জোটের আরেক শরীক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সহসভাপতি মাওলানা জুনাইদ আল হাবীব বলেন, আমরা ডক্টর কামালের এ ধরণের মন্তব্যের কড়া প্রতিবাদ জানাই। তার অতীতের ইসলাম বিরোধী কর্মকাণ্ডের কথা আমরা ভুলে যাইনি। তিনি তসলিমা নাছরিনের পক্ষাবলম্বন করেছিলেন। তিনি কাদিয়ানীদের পক্ষে আদালতে মামলা করেছিলেন। তিনি আজীবন ইসলাম বিরোধী চক্রের দালালী করেছেন।

তিনি বলেন, বিগত কয়েকমাস গণতন্ত্রের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন করায় সমাজে ডক্টর কামালের একটা ভাল ইমেজ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু এধরণের মন্তব্য করে তিনি আবারো তার পূর্বের জনবিচ্ছিন্ন অবস্থায় ফিরে যাচ্ছেন।

ডক্টর কামালের নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্টের মঞ্চে আপনাদের দেখা গেছে, নির্বাচনের আগে আপনারা এক সাথে কাজ করেছেন…। এমন প্রশ্নের জবাবে মাওলানা জুনাইদ আল হাবীব বলেন, এটা ভুল কথা যে আমরা ডক্টর কামালের নেতৃত্বে কাজ করেছি। হ্যাঁ আমরা ঐক্যফ্রন্টের মঞ্চে গিয়েছি। তবে তা ডক্টর কামালের নেতৃত্ব মেনে নয়। আমরা ঐক্যফ্রন্টের মঞ্চে গিয়েছি ২০ দলীয় জোটের হয়ে। আমরা ২০ দলীয় জোটের শরীক দল হিসেবে ঐক্যফ্রন্টের মঞ্চে গিয়েছি। আলাদা ভাবে ঐক্যফ্রন্টের সাথে আমাদের দলের কোন সম্পর্ক নেই। তাই ডক্টর কামালের নেতৃত্ব মানার প্রশ্নই উঠেনা। আর ২০ দলীয় জোট হয়ে আমরা এইজন্যই সেখানে গিয়েছি যে দেশে আজ গণতন্ত্র বলতে কিছু নেই। দেশের মানুষের অধিকার নেই। দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষার আন্দোলনে যারাই একমত হয়েছে, আমরা তাদের সাথে এক মঞ্চে উঠেছি। তবে সেটা কোন ভাবেই ডক্টর কামালকে নেতা মেনে নয়।

ইসলাম ও ইসলামী ব্যক্তিত্বদের বিরুদ্ধে কথা বললে জোট হোক বা জোটের বাহিরের কেউ হোক, কাউকেই ছাড় দেয়া হবেনা বলেও মন্তব্য করেন মাওলানা জুনাইদ আল হাবীব।