মার্চ ২৪, ২০১৭

মেনদেরস মহান রাষ্ট্রনায়ক ছিলেন; সর্বদা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে তুর্কিরা : এরদোগান

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

এরদোগান

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগান বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী আদনান মেনদেরস দেশ ও জাতির জন্য যে অবদান রেখে গেছেন তা জাতি সর্বদা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। ১৭ সেপ্টেম্বর আদনান মেনদেরস’র ৫৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন।

৫৫ বছর আগে ১৯৬১ সালের এই দিনে তৎকালীন সামরিক জান্তা সাবেক প্রধানমন্ত্রী আদনান মেনদেরসকে ফাসিতেঁ ঝুলিয়ে হত্যা করে। সেই থেকে আদনান মেনদেরস’র অনুসারীরা তাকে স্মরণ করে আসছে। বর্তমানে রাষ্ট্রীয়ভাবে তাকে স্মরণ করা হয়।

%e0%a6%86%e0%a6%a6%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%a8-%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%a8%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b0%e0%a6%b8বাণীতে প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগান আরো বলেন, ‘আদনান মেনদেরস ছিলেন একজন মহান রাষ্ট্রনায়ক, যিনি তুরস্কের উন্নয়ন-অগ্রগতি এবং গণতান্ত্রয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে গেছেন। তিনি আমাদের জাতির রাজনৈতিক জীবনের ‘অন্তর’।’

তিনি তার আত্মার মাগফেরাত কামনা এবং আল্লাহর কাছে সর্বোচ্চ পুরষ্কার কামনা করেন।

অন্যদিকে আদনান মেনদেরস’র ৫৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার ইস্তাম্বুলে এক স্মরণসভার আয়োজন করা হয়। এতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সোলেমান সয়লো, মন্ত্রী ফাতিন রস্তু জরলু এবং অর্থমন্ত্রী হাসান পালাতকান উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, প্রথম বিশ্বযুদ্ধে উসমানী সাম্রাজ্যের পতনের পর আতাতুর্ক পন্থী সেনাবাহিনীর সাথে ক্ষমতাসীন সরকারের বিরোধীদের চরম উত্তেজনার মধ্যে ১৯৬০ সালে তুরস্কে প্রথম সামরিক অভ্যুত্থান ঘটে।

ওই সময় তুরস্কের ক্ষমতাসীন দল ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রধানমন্ত্রী আদনান মেনদেরস ও প্রেসিডেন্ট সেলাল বায়ার বেশ কিছু ধর্মীয় নিয়মনীতির পালনের অনুমতি প্রধান করেন, যা ছিল ইসলামবিদ্বেষী আতাতুর্ক যুগের পরিপন্থী।

%e0%a6%86%e0%a6%a6%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%a8-%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%a8%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b0%e0%a6%b81এর মধ্যে ছিল হাজারেরও উপর মসজিদ খুলে দেওয়া, তুর্কি ভাষার বদলে আরবিতে আজান ও নতুন নতুন মাদ্রাসা চালুর অনুমতি। ওই সরকার তরুণদের জন্য বাধ্যতামূলক সামরিক চাকরির সময়ও কমিয়ে আনার ঘোষণা দেয়।

এরই মধ্যে তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষবাদীরা তুমুল আন্দোলন শুরু করে। এ অবস্থায় ১৯৬০ সালের শুরুর দিকে জরুরি অবস্থা জারি করে ক্ষমতাসীন সরকার। এরপরই তুরস্কের ইতিহাসে প্রথমবারের মত দৃশ্যপটে আসে সেনাবাহিনী।

ওই বছরের ২৭ মে অভ্যুত্থান ঘটায় তারা। তাৎক্ষণিকভাবে প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী ও বেশ কয়েকজন মন্ত্রীকে ‘রাষ্ট্রদ্রোহ’সহ বেশ কয়েকটি অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়।

তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল সেমাল গুরসেল ক্ষমতা কুক্ষিগত করে সেনা-নিয়ন্ত্রিত নতুন রাজনীতির সূচনা করেন, অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী আদনান মেনদেরসকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। তবে প্রথম এ অভ্যুত্থানের ব্যাপ্তিকাল ছিল ১৯৬৫ পর্যন্ত।

গেল ১৫ জুলাই শুক্রবার রাতে দেশটিতে সর্বশেষ একটি অভ্যুত্থানচেষ্টা চালায় সেনাবাহিনীর সদস্যরা, যদিও তা ব্যর্থ হয়েছে।

আঙ্কারার একটি আদালতে তিন দশক আগে সেনাঅভ্যুত্থানের দায়ে বিচার চলছে সাবেক প্রেসিডেন্ট কেনান এভ্রেনের। নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত এবং সেনা শাসনামলে হত্যা-গুম ও নির্যাতনের দায়ে তার এ বিচার চলছে বলে আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

সূত্র: আনাদোলু নিউজ এজেন্সি ও আরটিটিএনএন