ডিসেম্বর ১০, ২০১৬

দুই দিনে সারাদেশে বজ্রপাতে নিহত ২১ ও আহত  ১১

দুই দিনে সারাদেশে বজ্রপাতে নিহত ২১ ও আহত ১১

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

দেশের বিভিন্ন স্থানে গত দুদিনে বজ্রপাতে ২১ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আরো অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন।

গতকাল সোমবার ও আজ মঙ্গলবার বজ্রপাতের ঘটনায় সুনামগঞ্জে ছয়, কিশোরগঞ্জ পাঁচ, টাঙ্গাইলে তিন, রাজশাহীতে দুই, হবিগঞ্জ দুই, দিনাজপুরে এক ও মানিকগঞ্জে একজন নিহত হয়েছেন।

সুনামগঞ্জের জেলার দিরাই ও শাল্লা উপজেলায় বজ্রপাতে ছয়জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরো ছয়জন। আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দিরাইয়ে বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। আর শাল্লা উপজেলায় সকাল সাড়ে ১০টার দিকে একই ঘটনা ঘটে।

দিরাই উপজেলার নিহত ব্যক্তিরা হলেন মাটিয়াপুর গ্রামের আবদুল হান্নানের ছেলে শামীম মিয়া (৪৫), একই গ্রামের আবদুল হাসিমের ছেলে তহুর মিয়া (৩৫) ও টুকদিরাই গ্রামের আজিদ উল্লাহর ছেলেশিশু শেমরান হোসেন (১১)।

শাল্লা উপজেলায় নিহত ব্যক্তিরা হলেন শ্রীহাইন গ্রামের হায়দার আলীর ছেলে খাইনুল মিয়া (২২), আকিকুল ইসলামের ছেলে ঈমান মিয়া (২০) ও আবদুস সালামের ছেলে হৃদয় মিয়া (১৮)।

এদিকে শাল্লা উপজেলার বেড়া মোহনা নদীতে চিংড়ি মাছ ধরতে গেলে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বজ্রপাতে তিন জেলে নিহত হন। তাঁদের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এ ঘটনায় শিশু মিয়া (২২) নামে এক জেলে আহত হন। তাঁকে শাল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ উপজেলার গুজাদিয়া ইউনিয়নের করমসী গ্রামে বজ্রপাতে এক গৃহবধূ ও তাঁর ছেলে নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ওই গৃহবধূর মেয়ে। আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত দুজন হলেন ললিতা (৪০) ও তাঁর ছেলে রিমন (১৫)। ললিতার স্বামী মারুফ মিয়া একজন কৃষক বলে জানা গেছে।

বজ্রপাতে ললিতার মেয়ে বিউটি (২০) গুরুতর আহত হন। তাঁকে তাড়াইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা সূত্রে জানা যায়, আজ সকালে করমসী গ্রামে নিজ ঘরে অবস্থান করছিলেন ললিতা ও রিমন। এ সময় আকস্মিক বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তাঁদের মৃত্যু হয়।

গত রোববার করিমগঞ্জে বজ্রপাতে দুজন নিহত হন। আর গতকাল সোমবার নিকলীতে দুজন ও কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার যশোদল গ্রামে একজন নিহত হয়।

টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর উপজেলায় বজ্রপাতে একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো একজন। আজ মঙ্গলবার ভোরে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত তিনজন হলেন উপজেলার মাগুনতিনগর গ্রামের আদিবাসী পল্লীর বাসিন্দা নিখিল হাজং (৩৫) এবং তাঁর দুই ছেলে জজ সিং সাং (১০) ও লোটন সিং সাং (৮)।

আহত ব্যক্তির নাম জনতা সিং সাং। তাঁকে মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

রাজশাহী জেলার পুঠিয়া ও তানোর উপজেলায় বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে তিনজন। গতকাল সোমবার বিকেলে হতাহতের এ ঘটনা ঘটে।

পুঠিয়ার শিলমাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সাজ্জাদ হোসেন মুকুল জানান, গতকাল বিকেল ৫টার দিকে ইউনিয়নের অমৃতপাড়া গ্রামে বজ্রপাতে শাহ আবদুল আজিজ (৪৮) নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আহত হন একই গ্রামের উজ্জ্বল হোসেন (২২) ও বিদিরপুর গ্রামের কালাম মণ্ডল (৪৫)। তাঁদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

চেয়ারম্যান জানান, তিনজনই ক্ষেতের মধ্যে আখ কাটছিলেন। এ সময় হালকা বৃষ্টি শুরু হলে বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই আবদুল আজিজের মৃত্যু হয়।

তানোর উপজেলার কলমা ইউপির চেয়ারম্যান লুৎফর হায়দার রশিদ ময়না জানান, ইউনিয়নের কুজিশহর গ্রামে গতকাল বিকেল ৩টার দিকে মেঘাচ্ছন্ন আকাশ থেকে বজ্রপাত ঘটলে সুজন (৩০) নামের এক কৃষক মারা যান। এ সময় সঙ্গে থাকা তাঁর বাবা আশরাফুল আলম (৫০) আহত হন। ঘটনার সময় সুজন ও তাঁর বাবা জমির আইলে ঘাস কেটে বাড়ি ফিরছিলেন।

হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলায় বজ্রপাতে দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। গতকাল সোমবার বেলা ৩টার দিকে উপজেলার কারগাঁও ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন নবীগঞ্জ উপজেলার সাকুয়া গ্রামের ইছহারুল হকের ছেলে জাবেদ মিয়া ও দুর্গাপুর গ্রামের হরিচরণ দাশের ছেলে কৃষ্ণ গোপাল দাশ।

দিনাজপুরে গতকাল সোমবার দুপুরে জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার এলুয়াড়ি ইউনিয়নের ভেড়ম গ্রামে বজ্রপাতে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

নিহত ব্যক্তির নাম মো. সাদ্দাম (৩২)। তিনি এলুয়াড়ি ইউনিয়নের ভেড়ম বাসিয়াপাড়া গ্রামের মো. সজমুদ্দিনের ছেলে।

মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া উপজেলার রাইল্ল্যা গ্রামে বজ্রপাতে মইজুদ্দিন শেখ (৪৮) নামে এক কৃষক নিহত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার সকালে এ ঘটনা ঘটে।