স্বজনহারা পরিবারে আর্থিক সহযোগিতায় এগিয়ে আসা নৈতিক দায়িত্ব

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

0552052_nবাংলাদেশের সড়ক-মহাসড়কে মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনার ভয়াবহতা বেড়েই চলছে। প্রতিদিন সড়ক কেড়ে নিচ্ছে তাজাপ্রাণ। কেউ বা বরণ করছেন আজীবনের জন্য পঙ্গুুত্ব। সড়ক দুর্ঘটনা যেন নিত্যদিনের সঙ্গি।

গত শুক্রবার-শনিবার ও রবিবার পর্যন্ত মোট ৩৮ জন নিহত হয়েছেন। বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার মাধ্যমে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। আর আতদের সংখ্য প্রায় হাজারের কাছাকাছি। সড়ক নিরাপদ না থাকায় মানুষের স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি নেই! মৃত্যুর মিছিলের রাস টেনে ধরা যাচ্ছে না। দিন যতই যাচ্ছে ততই উদ্বেগ ও যাতনা বাড়ছে।

গতকাল শনিবার আমার শহর শ্রীমঙ্গল উপজেলায় মোটর সাইকেল ও সিএনজি সংঘর্ষে ১জন নিহত হয়েছেন।

গত শুক্রবার সড়ক দুর্ঘটনায় বিবাড়িয়ার শশই গ্রামে আমার পার্শ্ববর্তি উপজেলা কমলগঞ্জে রুপসপুর এলাকার মাওলানা সাইদুর রহমান, মুফতি সুফিয়ান, তার পিতা, ভাইসহ একই পরিবারের ৪জন এবং নিহত সুফিয়ানের নিকটাত্মীয় চাচাতো ভাই, মামাসহ নিহত হয়েছেন সর্বমোট ৮জন ।
ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা তাদের সকল আশা ও স্বপ্নকে ভেঙ্গে দুঃস্বপ্নে পরিণত করে দিয়েছে । নিহতদের এলাকাজুড়ে শোক চলছে। স্বজনহারানোর কান্না আকাশ বাতাসে ধ্বনিত হচ্ছে!

দুর্ঘটনায় যারা প্রিয়জনকে হারিয়েছন তাদের সান্তনা দেবার ভাষা পৃথিবীর কোন অভিধানে নেই।

তাদের মৃতুতে পরিবার ধ্বংসের পথে! নিহতদের মাঝে মাওলা সাইদুর রহমানের পরিবার নেহায়েত গরিব! সম্পদ-সম্বল বলতে কিছুই নেই।

মাওলানা সুফিয়ানের পরিবারও হয়ে পড়েছে অসহায়! সুফিয়ান পরিবারের প্রতি অনেকেই এগিয়ে আসলেও মাওলানা সাইদুর পরিবারের প্রতি অসহযোগিতা চোখে পড়ার মতো! আমাদের কি দয়া হয় না আলেম পরিবারের প্রতি! বাবা-হারা নিষ্পাপ শিশুর চেহারার প্রতি! স্বামীহারা স্ত্রীর প্রতি! এপরিবারে রুজি করা বা দেখার মতো কেউ আর রইলো না!

আমাদের কি মায়া হয় না দ্বীনি ভাই সুফিয়ানের পরিবারের প্রতি! ছেলেহারা মা ও স্বামী হারা স্ত্রীর প্রতি! পঙ্গুত্ব বরণ করে হাসপাতাল বেডে পড়ে থাকা ভাই কামরানের প্রতি!

আমাদের সামর্থ্য যতটুকুন আছে তা কি বিলিয়ে দিতে পারি না? তাদের দুঃখ-শোক কি শেয়ার করতে পারি না?

অসহায় পরিবাররগুলোর প্রতি আল্লাহপাক করুণা করুন। নিহতদের জান্নাতের সর্ব্বোচ্চ মাকামে সমাসীন করুন-মহামহিমের দরবারে প্রার্থনা এটাই।

মৃত্যু চিরন্তন একথা সত্য। অকস্মাৎ মৃত্যু হতেই পারে তা মেনে নিতে হবে। তবে কিছু মৃত্যু হৃদয়ে নাড়া দেয়, স্মৃতিতে আজীবন থাকে স্মরণ। তাই বলে চালকদের অসতর্কতা-অসচেতনতার কারণে সড়কে স্বাভাবিক মৃত্যুর নিরাপত্তা অনিশ্চিত থাকবে এটা মেনে নেয়া যায় নানা! সড়ক নিরাপদ রাখা সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব।
সড়ক-মহাসড়ক দুর্ঘটনাকে স্রেফ দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দেয়ার সুযোগ সেই। এটাকে দুর্ঘটনা বলে মুত্যুর দায় এড়ানো যাবে না।

পরিশেষে.
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবার পরিচালনার জন্য স্থায়ী আর্থিক অনুদান, বাসস্থানসসহ যাবতিয় সুযোগ-সুবিধা দেয়া গাড়ি মালিক এবং সরকারের দায়িত্ব। সংশ্লিষ্টমহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করতঃ নিহত পরিবারের প্রতি সরকারের সুনজর এবং আহতদের সুচিকিৎসার যাবতিয় ব্যায়ভার বহনের জোর দাবি জানাই।

পাশাপাশি দেশ-বিদেশের সামর্থ্যবান ভাই-বোনদের অনুরোধ জানাই- মাওলানা সাইদুর রহমান, মাওলানা সুফিয়ানসহ সংশ্লিষ্ট পরিবারের প্রতি আর্থিক সহযোগিতার হাত প্রসারিত করুন।
মহান আল্লাহ আপনাদের ইহ এবং পরকালে উত্তম প্রতিদান দান করবেন-ইনশাআল্লাহ।