মার্চ ২৯, ২০১৭

ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য ব্রিটেনের ক্ষমা চাওয়া উচিত: জাতিসংঘে আব্বাস

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

hmoud-abbas

ফিলিস্তিনে ইহুদিদের জন্য একটি আবাসভূমি প্রতিষ্ঠায় ১৯১৭ সালের বেলফোর ঘোষণার জন্য ব্রিটেনের ক্ষমা চাওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। তিনি বলেন, একই সঙ্গে ব্রিটেনের উচিত ফিলিস্তিনকে একটি রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া।

বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেয়া এক বক্তৃতায় আব্বাস এসব কথা বলেন।

মাহমুদ আব্বাস বলেন, ‘বেলফোর ঘোষণার কারণে ফিলিস্তিনি জনগণকে ব্যাপক দুঃখ-কষ্ট ভোগ করতে হচ্ছে। বেলফোর ঘোষণায় ব্রিটেন বলেছিল, এর মাধ্যমে ফিলিস্তিনে ইহুদিদের জন্য একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা হবে কিন্তু সেখানে বসবাসকারী অন্যদের অধিকার খর্ব করা কোনোমতেই উচিত নয়।’

আব্বাস বলেন, ‘গ্রেট ব্রিটেনের কাছে আমাদের জিজ্ঞাসা, কুখ্যাত এই ঘোষণার ১০০ বছর পর আমরা কি শিক্ষা পেলাম। ওই ঘোষণার ফলে সৃষ্ট বিপর্যয়, দুর্দশা এবং অবিচারের জন্য ফিলিস্তিনি জনগণের কাছে ব্রিটেনকে ক্ষমা প্রার্থণাসহ ফিলিস্তিনের ঐতিহাসিক, আইনি, রাজনৈতিক, বস্তুগত ও নৈতিক দায়িত্ব ব্রিটেনকে বহন করতে হবে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতিসহ সৃষ্ট এসব বিপর্যয় ও দুর্ভোগের ক্ষতিপূরণও করতে হবে। গ্রেট ব্রিটেন অন্তত এতটুকু করে তার দায় এড়াতে পারে।’

এব্যাপারে তাৎক্ষণিকভাবে জাতিসংঘে ব্রিটিশ মিশনের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

আব্বাস তার বক্তৃতায় ১৯১৭ সালের বেলফোর ঘোষণা এবং ১৯৪৮ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের রেজল্যুশনে ফিলিস্তিনকে দুটি রাষ্ট্রে ভাগ করার সিদ্ধান্তসহ ১৯৬৭ সালে ইসরাইল কর্তৃক পশ্চিম তীর ও গাজা দখলের তীব্র সমালোচনা করেন।

১৯১৭ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ পররাষ্ট্র সচিব আর্থার বেলফোর কর্তৃক বেলফোর ঘোষণার মাধ্যমে ফিলিস্তিনে একটি ইহুদি রাষ্ট্রের ভিত্তি স্থাপন করা হয়।

বিশ্ব নেতৃবৃন্দের বার্ষিক এই সমাবেশে আব্বাসের বক্তৃতা দেয়ার কিছু পরেই ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ভাষণ দেন। বেলফোর ঘোষণা উপর আব্বাসের বক্তব্যকে অবজ্ঞা করে তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট আব্বাস কেবল বেলফোর ঘোষণার দৃষ্টিকোন থেকেই তাদের আক্রমণ করছে। ১৯১৭ সালের ওই ঘোষণার জন্য তিনি (আব্বাস) ব্রিটেনের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। যা প্রায় ১০০ বছর পার হল। অতীত নিয়েই তাদের কথা আটকে আছে।’

ইসরাইলের সমালোচনামূলক রেজুলেশন নিয়মিতভাবে পাশ করার জন্য নেতানিয়াহু তার বক্তৃতায় জাতিসংঘের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘জাতিসংঘ এখন একটি নৈতিক প্রহসনে পরিণত হয়েছে।’

একটি অনলাইন ভিডিও মাধ্যমে ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী রিয়াদ আল মাল্কি প্রেসিডেন্ট আব্বাসের পক্ষে একটি বক্তব্যে বলেন, ১৯১৭ সালের বেলফোর ঘোষণার জন্য ব্রিটেনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করার পরিকল্পনা নিচ্ছেন তারা। আগামী জুলাই মাসে আরব লীগের সম্মেলনে বিষয়টি উত্থাপন করা হবে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের সমর্থনের জন্য তিনি আরব লীগের প্রতি আহ্বান জানান।

বৃহস্পতিবারের বক্তৃতায় পারস্পরিক কাদা ছোড়াছুড়িতে ইসরাইল-ফিলিস্তিন শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু নিয়ে সংশয়ের সৃস্টি হয়েছে।

এই সংঘাত নিরসনের জন্য দুটি প্রধান বিষয়কে প্রাধান্য দিতে হবে। আর তা হল, সীমানা নির্ধারণ ও পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতির ভবিষ্যত। এই ইহুদি বসতি স্থাপনকে অধিকাংশ রাষ্ট্রই অবৈধ বলে বিবেচনা করে আসছে। মূলত এর উপরই নির্ভর করছে ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের ভাগ্য ও জেরুজালেমের অবস্থা।

সর্বশেষ ২০১৪ সালে এব্যাপারে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হয়। ফিলিস্তিনিদের আক্রমণে ইসরাইলের ক্রোধ এবং দখলকৃত ভূমির উপর ইসরাইলের বসতি নির্মাণে ফিলিস্তিনিদের সমালোচনায় সেখানে খুব শিগগিরই একটি শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

১৯১৭ সালের নভেম্বর মাসে বেলফোর ঘোষণায় তৎকালীন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আর্থার বেলফোর বলেছিলেন, ‘ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইহুদি জনগণের জন্য জাতীয় আবাসন গড়ে তোলার বিষয়ে ব্রিটিশ সরকার ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে। প্যালেস্টাইনে বর্তমান অ-ইহুদি সম্প্রদায়ের নাগরিক ও ধর্মীয় অধিকার ক্ষুণ্ণ হতে পারে- এমন কোনো কিছুই সেখানে করা হবে না। অন্য দেশে ইহুদীরা যে অধিকার এবং রাজনৈতিক মর্যাদা পেয়ে থাকে কেবল ততটুকুই তারা পাবে।’

সমালোচকদের মতে, ওই সময় আরবরা সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ আরবদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ওই ঘোষণা ব্যর্থ হয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স