নৈতিক শিক্ষার অভাবে মানুষ ধ্বংসাত্মক কাজে জড়িয়ে পড়ছে: চরমোনাই পীর

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

মুফতী সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করীমইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমীর চরমোনাই পীর মুফতী সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করীম বলেছেন, ৯২ ভাগ মুসলমানের দেশে ইসলাম ও মুসলমানের দুর্দিন চলছে। মানুষ মনুষ্যত্ব হারিয়ে পশুত্বকে গ্রহণ করছে। ফলে পিতা সন্তানকে, সন্তান পিতা-মাতাকে হত্যা করছে। সর্বত্র এক অরাজকতা বিরাজ করছে। তিনি বলেন, মুসলমান অধ্যুষিত দেশে হিন্দুয়ানী কালচার শুরু হয়ে গেছে। এখন পশুর বিয়ে দেয়ার মত ঘটনা ঘটিয়ে হিন্দুয়ানী সংস্কৃতি জানান দিচ্ছে।

তিনি বলেন, এধরণের হিন্দুয়ানী সংস্কৃতি রুখে দিতে হবে।

চরমোনাই পীর বলেন, নৈতিকতা বিবর্জিত তৌহিদী জনতার সেন্টিমেন্টকে পাশ কাটিয়ে একতরফাভাবে শিক্ষানীতি ও শিক্ষাআইন চূড়ান্ত করার ক্ষেত্র প্রস্তুত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, হিন্দুত্ববাদ ও নাস্তিক্যবাদ প্রতিষ্ঠার বিতর্কিত সিলেবাস সংশোধন করা ছাড়া নতুন বছরের বই বিতরণের চেষ্টা করলে কারোর জন্যই মঙ্গল হবে না।

আজ সন্ধ্যায় রাজধানীর কাওরান বাজারস্থ কিচেন মার্কেটের সামনে অনুষ্ঠিত বিশাল ইসলামী মহাসম্মেলন প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। এতে অন্যান্যের মধে নহিসত পেশ করেন জামিয়া কারীমিয়ার সিনিয়র মুহাদ্দিস মুফতি মুহাম্মদ ওয়ালীউল্লাহ, দীনি সংগঠন ঢাকা বিভাগীয় ছদর হাফেজ মাওলানা খলিলুর রহমান, আম্বরশাহ জামে মসজিদের খতীব মাওলানা মাজহারুল ইসলাম। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দেওয়ান আরিফুল ইসলাম ফারুক, হাজী শাহ মোঃ কামাল মানিক, হাজী লোকমান হোসেন, মোঃ জহিরুল ইসলাম। সম্মেলন পরিচালনা করেন মোঃ ইলিয়াস হোসাইন।

পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, মানুষের যদি প্রকৃত আদর্শ শিক্ষা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ না থাকে তাহলে মানুষ কোনো অন্যায়কে অন্যায় বলে মনে করে না। সরকার যদি এর প্রতি গুরুত্ব দিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা না গ্রহণ না করে তাহলে পরিণামে একদিন চরম মুল্য দিতে হবে। তাই দেশের স্বার্থে এসব দুষ্ট চক্রকে ধ্বংস করা সরকারের একান্ত দায়িত্ব বলে আমরা মনে করি ।

তিনি বলেন, সন্ত্রাস ও উগ্রতা বিস্তারে প্রচলিত ধর্মহীন শিক্ষাই দায়ী। দেশময় জঙ্গিবাদের হামলাকে কেন্দ্র করে সর্বত্র এক অজানা ভয় ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। জনমনে ইসলাম সম্পর্কে বিরুপ ধারণা সৃষ্টি হচ্ছে।

চরমোনাই পীর বলেন, সিলেবাস থেকে অনেক মুসলিম কবি-সাহিত্যিকদের ইসলামী ভাবধারায় রচিত প্রবন্ধ, গল্প ও কবিতা পাঠ্য বই থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। এর পরিবর্তে পাঠ্য বইতে নতুন করে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে হিন্দু ধর্ম সম্পর্কীয় বিভিন্ন বিষয়াদী। অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে এমন সব প্রবন্ধ, গল্প ও কবিতা যা আমাদের স্বাধীতনাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। যা আমাদের মুসলিম সমাজ ও সভ্যতাকে চ্যালেঞ্জ করে। এধরণের নাস্তিক্যবাদী শিক্ষা বহাল রেখে দেশকে সন্ত্রাস ও জঙ্গিমুক্ত করবেন না।