কক্সবাজারে শতাধিক ঘর উচ্ছেদ: ৭৮ একরের পাহাড় দখলমুক্ত

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | নিজস্ব প্রতিনিধি


কক্সবাজার পৌরসভার ফাতের ঘোনা এলাকায় টানা দুদিন অভিযান চালিয়ে প্রায় ৭৮ একরের একটি পাহাড় অবৈধ দখলদারদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। পাহাড়টিতে গড়ে তোলা শতাধিক কাঁচা-পাকা স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে।

গত মঙ্গল ও বুধবার (২৯ ও ৩০ জানুয়ারি) দুদকের উপ-পরিচালক লুৎফুর কবির চন্দনের নেতৃত্বে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), পরিবেশ অধিদপ্তর ও বন বিভাগ যৌথভাবে এ অভিযান চালায়।

জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সেলিম শেখ জানান, পৌরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ফাতের ঘোনায় সরকারি একটি পাহাড়ের প্রায় ৭৮ একর জমি অবৈধভাবে দখল করে ঘর তৈরি এবং খণ্ডখণ্ডভাবে বেচাকেনা করে আসছিল কিছু অসাধু চক্র। শহরের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি এই পাহাড়টির বিভিন্ন অংশে পাহাড়কাটাও শুরু করে তারা।

সেলিম শেখ আরও জানান, চক্রটি পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি, ঘর নির্মাণ করে ভাড়া দেওয়া, এমনকি পাকা ভবনও নির্মাণ করে। ইতিপূর্বেও প্রশাসন সেই পাহাড়টিতে একাধিকবার অভিযান চালায়। এবার দু’দিনের অভিযানে শতাধিক ঘরবাড়ি উচ্ছেদ করা হয়েছে। এরমধ্যে একতলা বিশিষ্ট ভবনও রয়েছে। পাহাড় কাটায় সন্দেহভাজন ৩ জনকে আটক করা হয়েছে।

দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) এসএম হুমায়ুন কবির বলেন, উচ্ছেদের পর প্রাথমিকভাবে সেখানে চার শতাধিক বিভিন্ন গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে পুরো পাহাড়জুড়ে বনায়ন করা হবে।

পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের সিনিয়র কেমিস্ট কামরুল হাসান বলেন, পাহাড়টির অন্তত ২০টি স্থানে পাহাড় কাটা হয়েছে। পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

দুদকের উপ-পরিচালক লুৎফুর কবির চন্দন বলেন, দীর্ঘদিন অবৈধ দখলে থাকা পাহাড়টি মুক্ত করা হয়েছে। এটি যেন পুনরায় বেদখলে না যেতে পারে সেজন্য প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো হবে। কক্সবাজারের যেসব স্থানে সরকারি পাহাড় দখল করে ঘরবাড়ি তৈরি করা হয়েছে, সেসব বাড়ি-ঘর উচ্ছেদ করার পাশাপাশি অবৈধ দখলে যাওয়া পাহাড় উদ্ধার করতে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি জড়িতদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

এদিকে উচ্ছেদ হওয়া ঘরগুলোর বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, ফাতের ঘোনা পাহাড় থেকে উচ্ছেদ হওয়া বেশিরভাগই দরিদ্র এবং ভূমিহীন। বিনা নোটিশে উচ্ছেদ কার্যক্রম চালানোয় অনেক ভূমিহীন পরিবার তাদের একমাত্র আশ্রয়স্থল হারিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। সেজন্য উচ্ছেদকৃতদের পূনঃর্বাসনের দাবিও জানান তারা।

উচ্ছেদ অভিযানে আরও উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) এসএম হুমায়ুন কবির, জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সেলিম শেখ, পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের সিনিয়র কেমিস্ট কামরুল হাসান ও পরিদর্শক মুমিনুল ইসলাম।

ইনসাফ সাংবাদিকতা কোর্স

ইনসাফ সাংবাদিকতা কোর্সদেশের প্রথম ইসলামী ঘরানার অনলাইন পত্রিকা ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকমের আয়োজনে শুরু হতে যাচ্ছে স্বল্পমেয়াদী সাংবাদিকতা কোর্স।অংশগ্রহণ করতে যোগাযোগ করুন এই নাম্বারে-০১৭১৯৫৬৪৬১৬এছাড়াও সরাসরি আসতে পারেন ইনসাফ কার্যালয়ে।ঠিকানা – ৬০/এ পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০।

Posted by insaf24.com on Monday, October 29, 2018