জানুয়ারি ২৪, ২০১৭

অতিমাত্রার সনদপ্রীতি থেকে ষড়যন্ত্রের পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে: মুফতি সাখাওয়াত

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%ab%e0%a6%a4%e0%a6%bf-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%96%e0%a6%be%e0%a6%93%e0%a7%9f%e0%a6%be%e0%a6%a4-%e0%a6%b9%e0%a7%81%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%a8


মুফতি সাখাওয়াত হুসাইন, সব মহলেই বেশ পরিচিত নাম, তারুণ্যের অহংকার, আপসহীন ও সংগ্রামী জননেতা। বারবার কারানির্যাতিত আলেমে দ্বীন, দেশের আলোচিত টকশো আলোচক। একই সাথে লেখক ও গবেষক। সম্প্রতি কওমি সনদ নিয়ে চলমান বিতর্ক প্রসঙ্গে তিনি সংক্ষিপ্ত এক সাক্ষাৎকারে কথা বলেছেন ‍‍ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সাথে।



ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম: বর্তমানে ক্বওমি ঘরানার আলেমদের মধ্যে সনদের স্বীকৃতি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। এ নিয়ে যদি কিছু বলতেন?

মুফতি সাখাওয়াত: কওমি মাদরাসা ইসলাম ও দেশের অতন্দ্র প্রহরী এবং মানবতা ও দুজাহানের কল্যাণকামীদের দুর্গ। মানুষ গড়ার কারখানা। অপরদিকে, সনদ শিক্ষামানের স্বীকৃতি স্বরূপ। কোনরূপ সরকারী সহযোগিতা ছাড়া কওমি প্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষাখাতে যে অবদান রাখছে, তা ইতিহাসে বিরল। তাই আমি মনে করি সনদের স্বীকৃতি তাদের প্রাপ্য।


ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম: ক্বওমি মাদ্রাসায় অধ্যাপনার পাশাপাশি ঈমান-আক্বীদাভিত্তিক অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতেরও আপনি একজন সক্রীয় নেতা। শোনা যায়, বেফাক ও হেফাজত সনদ চায় না, এমন উক্তির বাস্তবতা সম্পর্কে আপনার অভিমত কি?

মুফতি সাখাওয়াত: সঠিক নয়। তবে কতিপয় চিহ্নিত লোকদের অতিমাত্রার সনদপ্রীতি থেকে ষড়যন্ত্রের পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে।


ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম: কী ধরনের ষড়যন্ত্র?

মুফতি সাখাওয়াত: আদৌ কি সরকার সনদের স্বীকৃতি দিতে চাচ্ছে, না সনদের স্বীকৃতির নামে মাদরাসাগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিতে যাচ্ছে, এ নিয়ে আমরা স্পষ্ট ধারণা পাওয়ার চেষ্টা করছি। কেননা বর্তমান শিক্ষাআইন ও পাঠ্যসূচির উপর আলেম উলামা ও দ্বীনদার মানুষের জোর আপত্তি থাকা সত্তেও সরকার কোন ভ্রূক্ষেপ করছে না। অথচ পৌত্তলিক চেতনাসমৃদ্ধ এই পাঠ্যসূচি প্রায় দেড় কোটি শিক্ষার্থীর ঈমান-আকীদা হুমকির মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। আলিয়া মাদরাসা ইসলামী শিক্ষা কাটছাঁট ও সাধারণ বিষয় যাচ্ছেতাই অন্তর্ভুক্তির ফলে স্বকীয়তা হারিয়ে নামে মাত্র মাদরাসা আছে। সুতরাং কওমি মাদরাসার ঐতিহ্য ও স্বকীয়তা ঠিক রেখে যদি সনদ পাওয়া যায়, তাতে কারো দ্বিমত থাকার কথা নয়। কিন্তু সন্দরে স্বীকৃতির মধ্য দিয়ে আমরা সরকারের নিয়ন্ত্রণে বা ক্বওমি মাদ্রাসাসমূহের স্বকীয়তা ও আদর্শ হুমকির মুখে পড়ছে কিনা, এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া ছাড়াই সনদের জন্য মরিয়া হয়ে উঠা কওমি মাদরাসা ধ্বংসের ষড়যন্ত্র ছাড়া আর কি হতে পারে?


ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম: ছাত্রদের উদ্দেশ্যে কিছু বলুন।

মুফতি সাখাওয়াত: পড়াশুনার পাশাপাশি দেশ, জাতি ও আদর্শের বিষয়ে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। ঘরে বাইরে সর্বাবস্থায় ইসলামী সংস্কৃতি ও কৃষ্টিকালচারকে ঊর্ধ্বে রাখার প্রয়াস চালাতে হবে। বিভিন্নভাবে বর্তমানে ইসলামী চেতনাবোধের উপর আঘাত হানা হচ্ছে। সে বিষয়েও ছাত্রদেরকে উস্তাদদের কাছ থেকে কর্মজীবনে এসবের মোকাবেলার কাজ করার নীতিমালা সম্পর্কে নির্দেশনা নিতে হবে। চলাফেরা ও আচরণে আদব-আখলাক ও বিনয়-নম্রতা এবং সহনশীলতার প্রতি যত্নবান হতে হবে। দেশে বিদেশে ইসলামের বিরুদ্ধে যে ষড়যন্ত্র চলছে, এর বিরুদ্ধে যে কোন সময় প্রতিবাদ মুখোর হয়ে উঠার মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হবে। আল্লাহ আমাদের সহায় হউন।