মার্চ ২৩, ২০১৭

মুন্নি সাহাদের খুটির জোরকেও খুঁজে বের করতে হবে: ওমর ফারুক সাহিল

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

%e0%a6%ae%e0%a6%b0-%e0%a6%ab%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%95-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%b2
ওমর ফারুক সাহিল – ছবি : ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম

কওমি মাদরাসা তথা আলেম ওলামাদের বিরুদ্ধে এক শ্রেণীর লোক সবসময় নিচু মন-মানসিকতা নিয়ে দোষ খোজায় লিপ্ত ছিল এবং আছে। এদের অন্যতম এটিএন নিউজের মুন্নি সাহা। যার কাজের বিপুল সমালোচনা এর আগে বহুবার তার স্বজাতিরাই করে মুখে ফেনা তুলেছে।

ইদানীং যখন মাদরাসা শিক্ষক/ শিক্ষার্থীদের ব্যাপারে দেয়া অপবাদ গুলো একে একে নস্যাৎ হতে দেখছে জাতি, ঠিক তখনি অনেকের মতে সাংবাদিকতার নামে নোংরামি প্রকাশ পাচ্ছে বিতর্কিত এই সাংবাদিক মুন্নি সাহা’র কাছ থেকে। সে বিভিন্ন মাদরাসায় ঢুকে ছোটছোট মাসুম বাচ্চাদের ধরে ধরে অমূলক সব প্রশ্ন করে সাথে বাজে মন্তব্যও জুড়ে দিচ্ছে।

এ বিষয় ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকমের পক্ষ থেকে মন্তব্য জানতে চাওয়া হয়েছিলো, দেশের ইসলামী ঘরানার সুস্থ সাংস্কৃতিক অঙ্গনের আলোচিত ব্যক্তিত্ব, ইসলামী সঙ্গীত দল ঐশীস্বরের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, সুরকার, গীতিকার এবং গায়ক ওমর ফারুক সাহিলের কাছে।

মুন্নি সাহাকে অপসাংবাদিকতায় পটু আখ্যায়িত করে ওমর ফারুক সাহিল বলেন, ‘আসলে রিপোর্টটি দেখে সত্যি খুব অসহ্য লেগেছে। এধরণের প্রতিবেদন কোন উদ্দেশ্য নিয়ে এদেশে প্রচার হতে পারে? কি এমন মহৎ উদ্যোগ কাজ করেছে এর পেছনে খুব চিন্তার বিষয়। যেমন এক বাচ্চাকে প্রশ্ন করেছে” তুমি মাদরাসায় আসার আগে স্কুলে পড়ে কি হতে চাইতে? উত্তরে সে তার অভিব্যক্তি প্রকাশ করলে আবার বলে এখন মাদরাসায় পড়ে কি হতে চাও? শিশুটি তার স্পট উত্তর বড় আলেম (জ্ঞানী) হতে চাই বলতেই আবার প্রশ্ন এখন যদি আমি আবার স্কুলে নিয়ে যাই তাহলে কি হতে চাইবে? এবার শিশুটি যখন তার সরল উত্তর বলল যে, “না আর স্কুলে যাবো না”। তখন মনে হয় কেমন জানি মুখে কৃত্রিম হাসি মেখে একপ্রকার ক্ষিপ্ত হয়েই বলে উঠলো, “কেন যাবেনা আর স্কুলে? হুজুররা মগজ ধোলাই করে দিছে?”।’

তিনি বলেন, ‘এসব উদ্দেশ্য প্রণোদিত আচরণ একটা দ্বীনি শিশু শিক্ষার্থীর সাথে করা এবং তা ঘটাকরে টেলিভিশন স্ক্রিনে প্রদর্শন করা এটা কোন সাংবাদিকতায় পড়ে ঠিক বুঝিনা। তবে এটা ঠিক বুঝে আসে যে এ শিক্ষাব্যবস্থার উপর তার পূর্বের বিদ্বেষমূলক নিল নকশা বাস্তবায়নেরই ধারাবাহিকতা।’

‘এরা চাইছে এই স্বচ্ছ সুন্দর শিক্ষাব্যবস্থাকে জাতীর সামনে অযোগ্য অপ্রয়োজনীয় প্রমাণ করতে। যদিও তা আকাশকুসুম কল্পনা ছাড়া কিছুই করতে পারেনি পারবেও না ইনশাআল্লাহ। যুগে যুগে আমরা এদের অবস্থা জেনে এসেছি যে তাদের এসব বদ কাজের স্থায়িত্ব খুব কম হয়। তবে পরিবেশ নষ্ট করার সাময়িক সফলতা পায় ঠিক।’ যোগ করেন সাহিল।

ওমর ফারুক সাহিলের প্রশ্ন; ‘খুব বেশি চিন্তার উন্মেষ ঘটে এখন কাদের খুশি করতে এরা এতো উঠেপড়ে লেগেছে এই পবিত্র শিক্ষাব্যবস্থার উপরে?’

মুন্নি সাহাদের খুটির জোরকেও খুঁজে বের করা উচিৎ মন্তব্য করে ইসলামী ঘরানার সাংস্কৃতিক অঙ্গনের এই নেতা বলেন, ‘কারা এদের মাঠে নামিয়ে তাদের অসৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে আদাজল খেয়ে নেমেছে? দেশের শান্তি শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে অসংখ্য অগণিত অসংগতির প্রতিবেদন তৈরি না করে এ কোন কাজে লিপ্ত এরা? এগুলো অবশ্যই সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রের নমুনা নিশ্চিত। আমি মনে করি এদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থাগ্রহণের পাশাপাশি এদের খুটির জোরকেও খুঁজে বের করা উচিৎ।’

কেননা এই সংখ্যাধিক মুসলিম অধ্যুষিত বাংলাদেশে দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঢুকে এসব অবাঞ্ছিত প্রশ্ন করার সাহসিকতা প্রতিটি মুসলিম হৃদয়কে ভাবায়।’ যোগ করেন সাহিল।

2016-09-26_135248
ছোট ছোট মাদরাসা শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন বানে জর্জরিত করেছেন মুন্নি সাহা

তিনি আরো বলেন, একজন শিশু শিক্ষার্থী বড় আলেম হতে চাইছে এবং সে এই শিক্ষা ছাড়তে চাইছেনা। তার দ্বীনি শিক্ষার প্রতি এই ভালবাসা মিশ্রিত কথার পরিপ্রেক্ষিতে একজন সচেতন সাংবাদিক কি করে এই প্রশ্ন করে যে, তোমার মগজ ধোলাই করে দিয়েছে শিক্ষকরা!

তাহলে এ সুশিক্ষা থেকে শিক্ষার্থীদের বিমুখ করার জন্যেই কি তার এই সাংবাদিকতা? তার এই প্রতিবেদন টিভি পর্দায় দেখে হাজার ও লক্ষ মুসলিম সন্তুষ্ট হবে বলে মনে করেন কি?

এমন প্রশ্নের জবাবে ওমর ফারুক সাহিল বলেন, ‘অবশ্যই না। এটা বাংলাদেশ! এটা মুসলিম অধ্যুষিত বাংলাদেশ। এখানে ভোরে ঘুম ভাঙে আজানের সুরে। তাই তার এই দ্বীন বিদ্বেষী কথার সুর টিভি চ্যানেলে শত তকমা লাগিয়ে বাজালেও কখনোই বাজবেনা বাঙালি হৃদয়ে।’