প্রসঙ্গ তাবলীগ জামাত ও বিশ্ব ইজতেমা: অতীতের মূল্যায়ন ও আগামীর ভাবনা : মাওলানা মামুনুল হক

মাওলানা মামুনুল হক


তাবলীগ জামাত বিষয়ে বাংলাদেশের আলেম সমাজ এ যাবৎ যা কিছু করেছেন তাবলীগ জামাতের প্রতি তাদের মাত্রাতিরিক্ত আবেগ ও ভালোবাসা থেকেই করেছেন এবং মোটের উপর বলা যায় একাজ তারা ইখলাস ও ঐকান্তিকতার সাথেই করেছেন ৷ তবে যা কিছু করেছেন সবটাই যে নির্ভুল এবং শতভাগ সঠিক করেছেন এমনটা দাবি করার শক্তিশালী কোন যুক্তি নেই ৷ তবে দীর্ঘ এই কার্যক্রমের এখন একটি উপসংহারে উপনীত হবার পর্যায় এসেছে ৷ এ পর্যায়ে অতীতের কর্মকাণ্ডগুলোকে পর্যালোচনায় এনে ভবিষ্যতের জন্য সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা অত্যধিক জরুরি ৷ সেটা করা না গেলে অতীতের অর্জনগুলোই শুধু ভন্ডুল হবে না, বরং আগামীতে তাদেরকে সমূহ সংকটের মুখোমুখি হতে হবে ৷ ওলামায়ে কেরাম এর কার্যক্রম ও তাবলীগ জামাতের বর্তমান সার্বিক পরিস্থিতি কে সামনে রেখে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর পর্যালোচনা, আগামী দিনের কর্মপন্থা নির্ধারণ, আলেম-ওলামা ছাত্রজনতা ও তাবলীগের সাধারণ সাথী সকলের জন্যই জরুরী-

দারুল উলুম দেওবন্দ থেকে মাওলানা সাদ কান্ধলভীর ব্যাপারে আপত্তি উত্থাপিত হওয়ার পরই বাংলাদেশের ওলামায়ে কেরাম নড়েচড়ে বসেন ৷ প্রথমেই কাকরাইলের দায়িত্বশীলদেরকে এ বিষয়ে তাদের অভিযোগের কথা জানান এবং মাওলানা সাদ কে বাদ দিয়ে বিশ্ব ইজতেমা এবং তাবলীগ জামাতের কাজ পরিচালনার জন্য অনুরোধ করেন ৷ কিন্তু সাদপন্থী ওয়াসিফুল ইসলাম গং নানা ধরনের ছলচাতুরি ও কৌশলের আশ্রয় নিয়ে যে কোন মূল্যে মাওলানা সাদকে বাংলাদেশে আনার এবং তার চিন্তা-দর্শনের উপর তাবলীগ জামাতের কাজ পরিচালনার চেষ্টা চালাতে থাকেন ৷ এক পর্যায়ে তাদের এই অপতৎপরতা প্রতিহত করতে ওলামাযে কেরাম কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন ৷ এটি ছিল তাবলীগ জামাত সংক্রান্ত আলেম সমাজের সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ ৷ ওলামায়ে কেরামের এভাবে কঠোর পদক্ষেপের বিষয়ে কারো কারো আপত্তি থাকলেও বাস্তবতা হল- আলেমগণ যদি শক্ত হাতে বিষয়টিকে প্রতিহত না করতেন তাহলে বাংলাদেশের তাবলীগ জামাতের কাজ মাওলানা সাদ সাহেবের নিয়ন্ত্রণ এবং তার বিভ্রান্ত ধারায় পরিচালিত হয়ে পড়তো ৷ মূলত বাংলাদেশের ওলামায়ে কেরামের বাধার মুখেই মাওলানা সাদ সাহেব এবং তার অনুসারী গ্রুপ মূলধারা থেকে ছিটকে পড়ে এবং এর প্রভাব বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে ৷ সারা পৃথিবীতে মাওলানা সাদ অনুসারীদের কাজের উপর নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি হয় ৷ যদি তখন মাওলানা সাদ সাহেবের আগমনকে রুখে দেওয়া না যেত তাহলে বাংলাদেশে সাদপন্থী বিভ্রান্ত লোকের সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পেত ৷

দ্বিতীয় কাজ যেটি ওলামায়ে কেরাম করেছেন সেটি হল- তাবলীগের অভ্যন্তরে ওয়াসিফুল ইসলাম এবং নাসিম সাহেব এর দাপটে অনেকটা কোণঠাসা হয়ে থাকা সিংহভাগ আলেম মুরব্বীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন ৷ তাদের সহযোগিতা করেছেন ৷ মাঠে ময়দানে তাদের সঙ্গে কাজে শরিক হয়েছেন ৷ এতে করে তাবলীগ জামাতের জিম্মাদার ওলামায়ে কেরাম এবং শূরাপন্থী তাবলীগ জামাতের সাথীরা সংগঠিত ও কাজ গুছিয়ে নিতে পেরেছেন ৷ আলেম সমাজ তাদের পক্ষে না দাড়ালে নিরীহ তাবলীগের সাথীদেরকে এতাআতী গ্রুপের উগ্রপন্থীরা তাবলীগের কাজ থেকে বিদায়ের পায়তারা করত ৷ ফলে তাবলীগের কাজ বাংলাদেশে একতরফা বিভ্রান্তির পথে পরিচালিত হতো ৷

তাবলীগের প্রচলিত এই বিরোধে ওলামায়ে কেরাম তৃতীয় যে কাজটি করেছেন তা হল ব্যাপকভাবে মাওলানা সাদ সাহেবের ভ্রান্তির বিষয়ে মানুষের মধ্যে ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টি করা এবং মাঠে ময়দানে কাজে-কর্মে তাদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে সংগঠিত করা এবং এই বিভ্রান্তির পথে পরিচালিত গ্রুপটির কার্যকলাপকে যতটা সম্ভব ময়দান থেকে উৎখাত করা যায় সে ব্যাপারে নিয়মতান্ত্রিক ও প্রতিবাদী কর্মসূচির মাধ্যমে তাদেরকে প্রতিহত করা ৷ এই ধারাবাহিকতায় তাদের হাত থেকে বিভিন্ন মারকাজ এবং তাবলীগের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো কে হেফাজত করার চেষ্টা চালানো হয় ৷ এটা করতে গিয়েই মূলত ১ লা ডিসেম্বর হামলার শিকার হয় আলেম-ওলামা নিরীহ ছাত্র জনতা ও তাবলীগের সাধারণ সাথীরা ৷ যদিও এই রক্তক্ষয়ী হামলায় ব্যাপকভাবে আলেম-ওলামা মাদরাসাছাত্রদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, রক্ত ঝরেছে, জীবন বিপন্ন হয়েছে ৷ কিন্তু কাজের ক্ষেত্রে এতাআতীদের মুখোশ জাতির সামনে খুলে পড়েছে ৷ ফলে তারা সাধারণ মানুষের কাছে ধিকৃত হয়েছে এবং তাদের কার্যক্রম সংকুচিত হয়ে পড়েছে ৷
মূলত একটি পর্যায় পর্যন্ত এই ওয়াজাহাতি কার্যক্রম, মাওলানা সাদ সাহেবের ভ্রান্তচিন্তার অপনোদন ও এতাতীসম্প্রদায়ের আলেম বিদ্বেষী স্বরূপ তুলে ধরা একান্তই প্রয়োজন ছিল ৷ এই সকল কর্মতৎপরতায় মূলত সাদপন্থীরা তাবলীগ জামাতের মধ্যে একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী গ্রূপ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে গিয়েছে ৷ ব্যাপকভাবে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা তাদের ব্যাপারে সোচ্চার হয়ে উঠেছে ৷ ওলামায়েকেরাম যদি এই পদক্ষেপটি না নিতেন সারাদেশের মসজিদ এবং মাহফিলের মেম্বারগুলো থেকে যদি এই প্রচারণা না চালাতেন তাহলে তাদের বিভ্রান্তি আরো অনেক বেশি বিস্তৃত হত ৷ সর্বশেষ ১ লা ডিসেম্বর তাদের নিশংস হামলাযজ্ঞের পর তাদেরকে যেভাবে জাতির সামনে চিহ্নিত করা গিয়েছে এটিও তাদের জন্য বুমেরাং হয়ে দাঁড়িয়েছে ৷ তারা কোন বিবেচনায় এমন ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছিল আর এমন নৃশংস আক্রমণ করেছিল তা তারাই ভালো জানে ৷ তবে এর মাধ্যমে এই ফেতনা অনেকটাই চুপসে গেছে ৷

তাবলীগ জামাতের চলমান এই ফিতনা নির্মূলে ওলামায়েকেরাম চতুর্থ যে কাজটি করেছেন সেটি হল প্রশাসন ও সরকারকে এ ব্যাপারে সচেতন করার চেষ্টা করা এবং প্রশাসন ও সরকারের মধ্যস্থতা ও সহযোগিতায় মাওলানা সাদ সাহেবের বিভ্রান্ত চিন্তা থেকে বাংলাদেশের মুসলমানদেরকে এবং তাবলীগ জামাতকে হেফাজত করার চেষ্টা করা ৷ দুই পক্ষের বিরোধ ও নানা আনুষঙ্গিক কারণে তাবলীগ জামাতের বিষয়টিতে সরকার ও প্রশাসনও ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়ে পড়েছে এবং এখন বিশ্ব ইজতেমা ও কাকরাইলের অবস্থানকে কেন্দ্র করে তাবলীগ জামাতের কাজের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই সরকারের হাতে ৷ ওলামায়েকেরাম অধিকাংশ ক্ষেত্রে সরল বিশ্বাসে সরকারের উপর আস্থা রেখে চলেছেন ৷ অনেক ক্ষেত্রে তারা প্রশাসন ও সরকারের সহযোগিতায় ফিতনার মুকাবেলা করতে চাচ্ছেন ৷ কিন্তু তারা বেমালুম ভুলে যাচ্ছেন, খোদ এই জাতীয় প্রশাসন ও সরকারের সহযোগিতায় দীনী কাজ করা মস্ত বড় এক ফিতনা ! হুকুমত বা সরকার যত ভালোই হোক না কেন, তারা যখন কাউকে কোনো সহযোগিতা করে, সুযোগমত এর কয়েকগুন বিনিময় উসূল করে ছাড়ে ৷ নিজেদের অনৈতিক ও অন্যায় সুবিধা হাসিল করে নেয় ৷ এজন্যই আলেমসমাজকে সরকারের দুয়ারে ধর্ণা দিতে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে ৷ দেওবন্দের উসুলে হাশতেগানার মধ্যে মাদ্রাসা পরিচালনার মতো নিছক এবং নিরেট দীনী কর্মকাণ্ডেও সরকারের কোন অনুদান গ্রহণ কিংবা কোন প্রকার সংশ্লিষ্টতাকে পরিহার করার নীতি রাখা হয়েছে ৷ কেননা সরকারি আনুকূল্য লাভ করতে গিয়ে অনেক চড়া মূল্য পরিশোধ করতে হয় ৷ সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে আলেম সমাজ দুটি বিষয়ে সরকারের আনুকূল্য লাভে দেনদরবার ও নানা রকম তদবির পরিচালনা করেছেন ৷ তার প্রথমটি হলো কওমি মাদ্রাসা সনদের স্বীকৃতি, যা কেবল দাবি আদায় ও অধিকার হিসেবে পাওনা ছিল ৷ কিন্তু বোর্ডের পারস্পরিক বিরোধের জের ধরে কিভাবে কোন পক্ষ স্বীকৃতি আদায় করবে সেটা ছিল অনেকটাই সরকারের আনুকূল্যের বিষয় ৷ সেই আনুকূল্য হাসিল করার জন্য অনেক তোষামোদি করা হয়েছে ৷ দ্বিতীয় যে বিষয়ে কওমি ওলামায়ে কেরাম সরকারের আনুকূল্য লাভের অধিক পরিমাণ আগ্রহী ছিলেন সেটি হল দাওয়াত এবং তাবলীগের কাজ ৷ সরকার দুটি বিষয়েই একটা পর্যায় পর্যন্ত আনুকূল্য ও কৃপার দৃষ্টি দিয়েছে ঠিক, কিন্তু সেটি বিনিময় ও শর্তহীন ছিল না ৷ শোকরানা মাহফিল ও শাপলার দায় অস্বীকারের মাধ্যমে তার বিনিময় আদায় করে নিয়েছে ৷ এভাবে যদি তাবলীগ জামাতের কাজে সরকারের দাক্ষিণ্য গ্রহণ করার তৎপরতা অব্যাহত থাকে তাহলে এমন আরও বহু আত্মমর্যাদাবিরোধী ঘটনা আমাদেরকে প্রত্যক্ষ করতে হবে ৷
যদি প্রশ্ন করা হয় তাহলে কি আলেমসমাজ সরকারের সাথে সম্পর্ক রাখবে না ? কোন বিষয়ে সরকারের সহযোগিতা নিবে না ? এই প্রশ্নের কোরআন সুন্নাহ, ইসলামী ঐতিহ্যের ইতিহাস ভিত্তিক উত্তর হল, আলেমসমাজ সরকার ও প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক রাখবে তাদেরকে যাবতীয় অন্যায় অনাচার থেকে বিরত রাখার জন্য, যতটা সম্ভব ভালো কাজে তাদেরকে অগ্রসর করার জন্য, সরকারের নিয়ন্ত্রণে নিজেদের কার্যকলাপ পরিচালনা করার জন্য নয় ৷ আর সেটা তত বেশি সম্ভব হবে যত বেশি আলেমসমাজ সরকারের প্রতি অমুখাপেক্ষি থাকবে ৷

তাবলীগ জামাতের চলমান সংকটে বিশ্ব ইজতেমাকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে একটি বিষয়ে লক্ষণ ভালোই মনে হচ্ছে-তাবলীগ জামাত নিয়ে সরকারের লুকোচুরি ও সর্বশেষ ভূমিকায় যদি আমাদের মোহভঙ্গ ঘটে !
চলমান সংকটে কিছু ভুল সমীকরণ করা হয়েছিল ৷ মাওলানা সাদপন্থীদের শক্তিমত্তার বিষয়গুলোকে যথাযথভাবে মূল্যায়নে করা হয়নি ৷ তারা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে যথেষ্ট ক্ষমতার মালিক ৷ তারা যে কোনো মূল্যে তাদের এই সকল শক্তি, ক্ষমতা, তদবীর ও কূটনৈতিক কার্যক্রমের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান মজবুত করার চেষ্টা করবে এটাই স্বাভাবিক ৷ এক্ষেত্রে আলেম সমাজ তাদের সঙ্গে দীর্ঘ মেয়াদী সংঘাতে জড়িয়ে পড়লে নিজেদের কাজে ব্যঘাত ঘটবে ৷ ওৱামায়ে কেরাম তাদের যাবতীয় ভ্রান্তি জনসম্মুখে প্রচার করে দিয়েছে, মানুষকে বুঝিয়ে দিয়েছে আর যতটুকু অবশিষ্ট ছিল সেটা ১ লা ডিসেম্বর হিংস্র ও নগ্ন হামলার মাধ্যমে নিজেরাই স্বরূপ প্রকাশ করে দিয়েছে ৷
এখন ওলামায়ে কেরামের নিজেদের কাজে নিজেদের মতো করে মনোনিবেশ করাই শ্রেয় ৷ তাবলীগের ভেতর এবং বাহিরের সকল আলেম-ওলামা মিলে আগামী দিনের তাবলীগের কাজের রূপরেখা তৈরি করা এবং কুরআন-সুন্নাহ ও তিন হযরতজ্বীর অামলের নমূনা সামনে রেখে দাওয়াতের আজিমুশশান এই কাজকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে ময়দানে নেমে পড়তে হবে ৷ ওলামা ও তোলাবা ব্যাপকভাবে কাজে অংশগ্রহণ করে কাজের শূন্যতা পূরণ করাতে হবে ৷ আর অন্যান্য বাতিলপন্থীরা যেভাবে নিজেদের হালতের উপর চলছে, বেদআতি, মাযহাব বিরোধী, ভন্ড দেওয়ানবাগী, রাজারবাগী, কুতুববাগী, চন্দ্রপুরী, আটরশী ও মাইজভান্ডারীদের মতসাদপন্থীদেরকেও নিজেদের হালতে ছেড়ে দিলেই চলবে ৷ মানুষের সামনে হকের পরিচয় তুলে ধরার পর বাতিলের ব্যাপারে সতর্ক করন ছাড়া আর কি করণীয় থাকতে পারে? প্রত্যক্ষ ময়দানে তাদেরকে সকল ক্ষেত্রে প্রতিরোধ প্রতিহত করা আলেম সমাজের পক্ষে সম্ভব নয় ৷ সুতরাং এ পথে আর বেশিদূর পথচলা কল্যাণকর হবে বলে মনে করি না ৷ এজতেমার ময়দান ও কাকরাইল নিয়ে বিরোধ মিটিয়ে কাজে ঝাপিয়ে পড়তে হবে ৷ আর মসজিদে মসজিদে স্থানীষভাবে সাধারণ মানুষকে এদের ব্যপারে সচেতন করতে হবে ৷ তাবলীগের মুরুব্বী হযরত মাওলানা জুবায়ের সাহেব যেমনটি বিভিন্ন সভায় বলেছেন যে, হক ও বাতিল কখনই একসাথে চলতে পারে না ৷ হয় বাতিলপন্থীদের কে নিজেদের বাতিল পরিহার করে হকের পথে ফিরতে হবে অন্যথায় ভিন্ন ভিন্ন পথ বেছে নিতে হবে ৷


ফেসবুক থেকে