খালাকে আটকে রেখে তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ ২ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | ডেস্ক রিপোর্ট


মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় জোর করে ইয়াবা সেবন করিয়ে এক তরুনীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের ‍দুই এসআইয়ের বিরুদ্ধে। ডাকবাংলোর একটি রুমে ২ রাত ২ দিন আটকে রেখে ওই ‍পুলিশ কর্মকর্তারা তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ করেছেন ওই তরুণী। এসময় পাশের আরেকটি রুমে আটকে রাখা হয় ভুক্তভোগী ওই তরুণীর খালাকে।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে মানিকগঞ্জ পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। অভিযুক্তরা হলেন সাটুরিয়া থানার এসআই সেকেন্দার হোসেন ও এএসআই মাজহারুল ইসলাম। তবে তারা ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

নির্যাতনের শিকার ওই তরুণী মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগে জানান, সাভারের আশুলিয়া এলাকার তার এক খালা সাটুরিয়া থানার এসআই সেকেন্দারের কাছে প্রায় ৩ লাখ টাকা পান। পাওনা টাকা আদায়ে বুধবার বিকালে ওই খালা তাকে নিয়ে সাটুরিয়া থানায় যান।

এসআই সেকেন্দার তাদের দুইজনকে নিয়ে থানা সংলগ্ন সাটুরিয়া ডাক বাংলোতে যান। কিছুক্ষণ পর সেখানে থানার আরেক এসআই মাজহারুল ইসলাম উপস্থিত হন। তরুণী ও তার খালাকে আলাদা রুমে আটকে রাখে তারা। এর পর ভয়ভীতি দেখিয়ে ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তা তরুণীকে ইয়াবা সেবন করিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে তারা।

২ রাত ২ দিন পর শুক্রবার সকালে তরুণী ও তার খালার হাতে ৫ হাজার টাকা তুলে দিয়ে সেকেন্দার তাদের সাটুরিয়া থেকে চলে যেতে বলেন। ধর্ষণের ঘটনা কাউকে জানালে তরুণীকে ক্রসফায়ারের ভয় দেখানো হয় বলে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

নির্যাতনের শিকার ওই তরুণী সাভারে ফিরে প্রথমে তার এক পরিচিত সাংবাদিকের কাছে এ ঘটনা জানান। সংবাদকর্মীদের মাধ্যমে মৌখিকভাবে এ ঘটনা জানার পর মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপার শনিবার রাতেই অভিযুক্ত এসআই সেকেন্দার ও মাহারুলকে থানা থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন।

রোববার ওই তরুণী মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপারের কাছে উপস্থিত হয়ে ঘটনার বর্ণনা দেন এবং দুই এসআইয়ের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযুক্ত উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) সেকেন্দার হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আশুলিয়া এলাকার রহিমা বেগম তার কাছে পাওনা টাকার জন্য সাটুরিয়ায় এসেছিলেন। রহিমাকে কিছু টাকাও তিনি দিয়েছেন। তরুণীকে আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।

তাহলে কেন তাকে প্রত্যাহার করা হলো এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে বলেন আমি কিছুই জানি না।

সাটুরিয়া অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুর ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার সাটুরিয়া ডাকবাংলোতে ওই নারীকে এসআই সেকেন্দার হোসেনের সাথে পাওনা টাকা নিয়ে কথা কাটাকাটি করতে দেখা গেছে। বিষয়টি সেকেন্দারকে দ্রুত মিটিয়ে ফেলার কথা বলা হয়েছিল। ওই সময় অভিযোগকারী তরুণীকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে কোন অভিযোগ দেননি।

শনিবার রাতে পুলিশ সুপার অভিযুক্ত দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে সাটুরিয়া থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করেছেন।

এ ব্যাপারের পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামীম জানান, রাতেই মৌখিক অভিযোগ পেয়ে অভিযুক্ত দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে সাটুরিয়া থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। দোষী প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।