ইমাম হুসাইন (রা.) মসজিদের পাশে শায়িত হলেন বিশ্ব-বিশ্রুত সাংবাদিক হাসনাইন হাইকাল

হাসনাইন হাইকালবিশ্ব-বিশ্রুত মিশরীয় সাংবাদিক, ইতিহাসবিদ ও বিশ্লেষক হাসনাইন হাইকাল গতকাল বুধবার ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

কিংবদন্তীতুল্য এই সাংবাদিকের মৃত্যুতে মিশরের প্রেসিডেন্ট সিসিসহ বিশ্বের বেশ কয়েকজন রাষ্ট্রপ্রধান গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। হাইকালকে তার ওসিয়ত অনুযায়ী কায়রোর ঐতিহাসিক ইমাম হুসাইন (রা.) মসজিদের পাশে দাফন করা হয়েছে।

হাইকালের বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর। তিনি ১৭ বছর ধরে মিশরের বিখ্যাত দৈনিক ‘আলআহরাম’-এর সম্পাদক ছিলেন।

হাইকাল ছিলেন মিশরের সাবেক প্রেসিডেন্ট জামাল আবদুন নাসেরের উপদেষ্টা। নাসেরের মৃত্যুর সময় তিনি তার শয্যার পাশে উপস্থিত ছিলেন।

হাইকাল বহু বছর ইরানে ছিলেন। ইরানের তেল-শিল্পের জাতীয়করণ সংক্রান্ত তার প্রতিবেদনগুলো গোটা মিশরকে নাড়া দিয়েছিল এবং এর ফলে মিশরের নেতা নাসের সুয়েজ খালকে জাতীয়করণ করার নির্দেশ দেন।

বহু বইয়ের লেখক ছিলেন হাইকাল হাসনাইন। ‘ইতিহাসের সঙ্গে দ্বিতীয় সাক্ষাৎ’ তার অন্যতম সাড়া-জাগানো বই। এ বইয়ে তিনি বিশ্বের বিখ্যাত সাত জন ব্যক্তিত্বের সঙ্গে তার সাক্ষাতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। এ সাত ব্যক্তিত্ব হলেন, জুয়ান কার্লোস, আলবার্ট আইনস্টাইন, জওহরলাল নেহেরু, ইউরি আন্দ্রোপভ, ইরানের মুহাম্মাদ রেজা পাহলাভি, জেনারেল মন্টিগোমারি ও রকফেলার। হাইকাল ছিলেন ইরানের ইসলামী বিপ্লবের গুণমুগ্ধ শুভাকাঙ্ক্ষী ও আরব রাজা-বাদশাহদের সেবাদাস চরিত্রের কট্টর সমালোচক। তিনি ইসলামের নামে যে কোনো ধরনের চরমপন্থার বিরোধিতা করে গেছেন। ‘মিশর ইতিহাস থেকে বের হয়ে যাচ্ছে’ বলে হাইকাল সিসিকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন।

আরব বিশ্বের সাম্প্রতিক সংকটগুলোর জন্য তিনি ইহুদিবাদী ইসরাইলের লোভ ও আধিপত্যকামীতাকে দায়ী করেছেন। ইরান আরব বিশ্বের জন্য হুমকি নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।

সিরিয়ার জনগণের ওপর বিশেষ কোনো ব্যবস্থা চাপিয়ে দেয়া উচিত নয় বলে হাইকাল মনে করতেন। বাশার আসাদের সঙ্গে আপোষ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছিলেন, আমরা ইসরাইলের সঙ্গে আলোচনায় বসতে পারলে আসাদের সঙ্গে কেনো তা করছি না? আসাদের চেয়ে ভালো কোনো নেতা থাকলে সিরিয়ায় আসাদের পতন ঘটত বলে তিনি মন্তব্য করেছিলেন।

দায়েশ বা আইএসআইএলকে আরবদের কোন্দলের ফসল বলে অভিহিত করে হাইকাল বলেছিলেন, ইসরাইল আরবদের মধ্যে দ্বন্দ্ব ও গৃহযুদ্ধই চেয়েছে।