জানুয়ারি ২৪, ২০১৭

বেফাকের বৈঠকে সিদ্ধান্ত: মাসউদের নেতৃত্বে গঠিত কমিশনকে প্রত্যাখান

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

unnadedসরকার পন্থী হিসেবে পরিচিত বিতর্কিত আলেম মাওলানা ফরিদ উদ্দীন মাসউদের নেতৃত্বে গঠিত কমিশন প্রত্যাখ্যান করেছে দেশের প্রধান কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাক।

বেফাক সভাপতি শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফীর সভাপতিত্বে আজ (২৯ সেপ্টেম্বর) বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় কওমি মাদ্রাসা চট্টগ্রামের দারুল উলূম হাটহাজারী মাদ্রাসায় বেফাক শীর্ষ নেতৃবৃন্দের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বৈঠকে বেফাক নেতৃবৃন্দ কোনরূপ আলোচনা না করে গত ২৭ সেপ্টেম্বর আকস্মিকভাবে কওমি মাদরাসার স্বীকৃতি নিয়ে ৯ সদস্যের কমিটি গঠন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারি করা প্রজ্ঞাপনকে কওমি মাদ্রাসা ও ওলামায়ে কেরামের ঐক্যে বিভক্তি আনার ষড়যন্ত্র বলে উল্লেখ করেন।

তারা বলেন, কওমি সনদের সরকারী স্বীকৃতির বিষয়ে সকল বোর্ড ও শীর্ষ ওলামা-মাশায়েখের সম্মিলিত পরামর্শের ভিত্তিতে একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের লক্ষ্যে বেফাক সভাপতি আল্লামা শাহ আহমদ শফী আগামী ১৭ অক্টোবর ঢাকায় জাতীয় ওলামা-মাশায়েখ সম্মেলন আহ্বান করেছেন। যা বিভিন্ন মিডিয়ায় ব্যাপক প্রচারিত হয়েছে। উক্ত সম্মেলনে শরীক হওয়ার জন্যে দেশের সকল কওমি মাদ্রাসা বোর্ডের প্রতিনিধি ও শীর্ষ আলেমদেরকে আমন্ত্রণ জানানোসহ ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। অথচ ১৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় ওলামা-মাশায়েখ সম্মেলন আয়োজনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে কোনরূপ পূর্ব আলোচনা ছাড়াই আকস্মিকভাবে কওমি সনদের বিষয়ে একতরফা কমিটি গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি এবং ১৫ দিনের মধ্যেই সুপারিশ করার সময় নির্ধারণ দেওয়া, কওমি মাদ্রাসার স্বাধীনতা, স্বকীয়তা ও আদর্শ বিরোধী গভীর ষড়যন্ত্র ছাড়া আর কিছু নয়।

বৈঠকে বেফাক নেতৃবৃন্দ বলেন, কওমি সনদের সরকারী স্বীকৃতির বিষয়ে উৎসাহ লক্ষ্য করে বিভিন্ন পর্যায় থেকে স্বীকৃতির নামে কার্যতঃ আলেমদের পায়ে শেকল পরানোর চক্রান্ত চলছে বলে আশংকা প্রকাশ করে মতামত দিয়েছেন অনেকেই। শিক্ষামন্ত্রণালয়ের একতরফা নতুন কমিটি গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি এমন সন্দেহকে আরো জোরালো করেছে। তারা বলেন, ইতিমধ্যেই উক্ত কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত অনেক সদস্যই এ বিষয়ে অবগত নন বলে স্পষ্ট জানিয়ে বলেছেন, তারা নতুন আইনের নামে কওমি মাদ্রাসার উপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ কায়েমের প্রক্রিয়ায় নিজেদের নাম দেখে বিব্রতবোধ করছেন।

বৈঠকে বেফাক নেতৃবৃন্দসহ শীর্ষ আলেমগণ একমত পোষণ করে বলেন, দেশের আলেম সমাজের ঐক্যের প্রতীক ও আমাদের সকলের মুরুব্বী শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফীর নেতৃত্ব এবং জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃত বৃহৎ কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাকের সাথে ফলপ্রসূ আলোচনা ছাড়া একতরফা গঠিত কোন কমিটি মেনে নিবে না। বেফাক নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, দেওবন্দী উসূল, স্বাধীনতা ও স্বকীয়তা বজায় রেখে কওমি সনদের সরকারী স্বীকৃতির প্রয়োজনীয়তাকে আমরা অস্বীকার করছি না। কিন্তু ইসলাম বিরোধী শিক্ষানীতি, প্রস্তাবিত বিতর্কিত শিক্ষা আইন এবং নাস্তিক্যবাদ ও হিন্দুত্ববাদের বিষয়াবলী বাদ দিয়ে স্কুল পাঠ্যবই সংশোধনের বিষয়ে যে সময়ে সর্বস্তরের আলেম সমাজের নেতৃত্বে সরব আলোচনা ও আন্দোলন গড়ে ওঠছিল, সে সময়ে হঠাৎ কওমি সনদের স্বীকৃতির বিষয়ে আলোচনাকে সরব করে তোলা গভীর প্রশ্ন তৈরী করে। তারা বলেন, তবুও আমরা সনদের স্বীকৃতির বিষয়কে উপেক্ষা করিনি।

বেফাক সভাপতি আল্লামা শাহ আহমদ শফীর নেতৃত্বে আগামী ১৭ অক্টোবর রাজধানী ঢাকায় জাতীয় ওলামা-মাশায়েখ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে, ইনশাআল্লাহ। উক্ত সম্মেলনে শরীক হওয়ার জন্যে ইতিমধ্যে দেশের সকল কওমি মাদ্রাসা বোর্ডের প্রতিনিধিসহ শীর্ষ আলেমদেরকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সেখানে সকলের মতামত ও পরামর্শের ভিত্তিতে কওমি সনদের সরকারী স্বীকৃতির প্রসঙ্গসহ সকল বিষয়ে সম্মিলিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বৈঠকে বক্তব্য রাখেন বেফাক সহ-সভাপতি মাওলানা আশরাফ আলী, মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমী, মাওলানা জুনায়েদ বাবুনগরী, মাওলানা মুফতী ওয়াক্কাস, মাওলানা আনওয়ার শাহ, মুফতী আব্দুস সালাম চাটগামী, মুফতী নূর আহমদ, মহাসচিব মাওলানা আব্দুল জাব্বার জাহানাবাদী, মাওলানা আব্দুল হামিদ পীর সাহেব মধুপুর, মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস ফরিদাবাদ, মাওলানা হাফেজ নূরুল ইসলাম, মুফতী মাহফুজুল হক, মাওলানা সাজেদুর রহমান, মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব, মাওলানা হাফেজ তাজুল ইসলাম, মাওলানা ইদরিস নাজিরহাট, মাওলানা সালাহ উদ্দীন নানুপুরী, মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, মাওলানা জুবায়ের আহমদ, মুফতী জসীম উদ্দীন, মাওলানা মুহাম্মদ ওমর, মাওলানা আশরাফ আলী নিজামপুরী, মাওলানা সলিম উল্লাহ, মুফতী সাখাওয়াত হোসাইন, মুফতী নূরুল আমীন, মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস আরজাবাদ, মুফতী আবু ইউসুফ, মুফতী রেজাউল করীম, মাওলানা আহমদ উল্লাহ প্রমুখ।

বৈঠকে আগামী ৩ অক্টোবর সোমবার সকাল ১০টায় চট্টগ্রামের দারুল উলূম হাটহাজারীতে দেশের আলেম সমাজের মুরুব্বী শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফির আহ্বান ও সভাপতিত্বে বেফাকসহ সকল বোর্ডের প্রতিনিধি ও দায়িত্বশীলদের নিয়ে সনদের স্বীকৃতির প্রসঙ্গে আলোচনার জন্যে একটি যৌথ সভা আয়োজনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এই লক্ষ্যে বৈঠক শেষে আল্লামা শাহ আহমদ শফী’র পক্ষ থেকে একটি আমন্ত্রণপত্র ইস্যু করে সংশ্লিষ্টদের কাছে পৌঁছানোর জন্যে বেফাককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।