জানুয়ারি ২৩, ২০১৭

ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ হলে মারা যাবে ২ কোটি মানুষ

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

pakistan-flag

কাশ্মীরের উরিতে অজ্ঞাতদের হামলার পর নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে পাকিস্তানে হামলা চালিয়েছে ভারতীয় সেনা। এতে নিহত হয়েছে দুই পাক সেনা। পাকিস্তানের পাল্টা প্রত্যাঘাতে প্রান হারিয়েছে কম পক্ষে ৮ ভারতীয় সেনা। চান্দু বাবুলাল চৌহান (২২) নামের এক ভারতীয় সেনা আটক আছে পাকিস্তানি সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে।

এই অবস্থায় ভারত ও পাকিস্তান একে অপওপর পরমাণু অস্ত্র প্রয়োগের হুঁশিয়ারি দিচ্ছে। যে কোনও মুহূর্তে যুদ্ধ লেগে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই আশঙ্কায় সীমান্ত এলাকা ছেড়ে পালাতে শুরু করেছেন লাখো লাখো মানুষ। এই মুহূর্তে যদি দুই প্রতিবেশী দেশের যুদ্ধ লাগে, তবে ঠিক কী হতে পারে?

পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ বাধলে পরমাণু অস্ত্রের ব্যবহার হওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। LOC পেরিয়ে সেনা অভিযানের পর পরমাণু যুদ্ধের আর্জি জানিয়েছেন শাসক দলের এক সাংসদ। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রীও ভারতকে জবাব দিতে পরমাণু হামলার হুমকি দিয়েছেন। এই অবস্থায় ২০০৭ সালে তিনটি মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদের আগাম সতর্কতার কথা ফের স্মরণে চলে আসছে। তাঁরা বলেছিলেন, দু দেশের মিলিত পরমাণু অস্ত্রসম্ভারের অর্ধেক অর্থাত্‍‌ ১০০টি অস্ত্রের প্রয়োগ করা হলে, প্রাণ যাবে অন্ততপক্ষে দু কোটিরও বেশি মানুষের। মিলিয়ে যাবে গোটা বিশ্বের প্রায় অর্ধেক ওজোন স্তর। আর ‘পারমাণবিক শৈত্য’-এর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে মৌসুমী আবহাওয়া, মার খাবে কৃষিকাজ।

কয়েদিন আগেই ভারতীয় রাজ্যসভায় ক্ষমতাসীন দলের সাংসদ সুব্রহ্মণ্যম স্বামী বলেছিলেন, যদি পাকিস্তানের পরমাণু হামলায় ১০ কোটি মানুষের মৃত্যু হয়, তাহলে ভারতের হামলায় ধুয়ে মুছে যাবে পাকিস্তান। তবে বাস্তবক্ষেত্রে ক্ষয়ক্ষতিটা আরও অনেক ব্যাপক ও বৃহত্তর হবে বলে মনে করছেন বিশেজ্ঞরা। এবং তার প্রভাব শুধু ভারত বা পাকিস্তানেই নয়, পুরো গ্রহের উপরই পড়বে বলে তাঁদের আশঙ্কা।

রাটগারস বিশ্ববিদ্যালয়, কলোরাডো-বোল্ডার বিশ্ববিদ্যালয় ও ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা ২০০৭ সালে বলেছিলেন, ভারত-পাক পরমাণু যুদ্ধ হলে বিস্ফোরণের তীব্রতা ও রেডিয়েশনের জেরে প্রথম সপ্তাহেই মৃত্যু হবে ২.১ কোটি মানুষের। গোটা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যে পরিমাণ প্রাণহানি হয়েছিল, এই সংখ্যাটা তার অর্ধেক। ২০১৫ সাল পর্যন্ত গত নয় বছরে নাশকতার কারণে ভারতে যত লোক মারা গিয়েছেন, এই সংখ্যাটা তার থেকে ২,২২১ গুণ বেশি। এছাড়াও এই যুদ্ধের প্রভাবে আবহাওয়ার যে পরিবর্তন হবে, তার জেরে বিশ্বজুড়ে প্রায় ২০০ কোটি মানুষ অনাহারে ভুগবেন।

সূত্রঃ এই সময় (ইন্ডিয়া টাইমসের-এর বাংলা ভার্সন)