জানুয়ারি ২২, ২০১৭

যুবদল নেতাকে গ্রেফতার করে টাকা আদায়, এরপর ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

2016-10-01_124434সাভার পৌর যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ আলম নিয়নকে (৩৫) মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে গ্রেফতার করে ‘ছেড়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে টাকা আদায়ের’ পর, ‘বন্দুকযুদ্ধে’ এ নেতার নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

সাভার মডেল থানা পুলিশ জানায়, শাহ আলম নয়ন সাভারের শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসী। তাঁর বিরুদ্ধে সাভার থানায় গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও মানুষ পুড়িয়ে হত্যা এবং পুলিশের ওপর হামলা, অস্ত্র, মাদক ব্যবসা, অপহরণ, হত্যাসহ ১০টি মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় সাভার মডেল থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার নিহত রাজধানীর মোহাম্মদপুরের এলাকায় তাদের নিজ বাড়ি থেকে যুবদলের এ নেতাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এসময় তাদের পরিবারের কাছ থেকে তাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কারও নিয়ে আসে বলে অভিযোগ করেন তার পরিবার।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার গভীর রাতে সাভারে বিরুলিয়া এলাকার অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান শুরু করে। এসময় কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটের সামনে পুলিশের সঙ্গে বন্ধুক যুদ্ধে শাহআলম নয়ন নামের এক যুবক নিহত হয়। পরে তার মৃতদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

নিহত যুবদল নেতার মা রোকেয়া বেগম অভিযোগ করে বলেন, সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এস আই) তন্ময় ও এ এস আই আহসান শুক্রবার রাজধানীর মোহাম্মপুরে তাদের নিজ বাড়ি থেকে অভিযান চালিয়ে তার ছেলেকে গ্রেফতার করে। এসময় তাদের কাছ থেকে নগদ ছয় লাখ টাকা ও কয়েক ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে আসে পুলিশের কর্মকর্তারা।

এছাড়াও বিএনপি ওই নেতাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য সাভারের হেমায়েতপুর এলাকায় তাদের বাসা থেকেও পুলিশের ওই দুই কর্মকর্তারা নগদ আড়াই লাখ টাকা নিয়ে আসে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এছাড়াও আটককৃত বিএনপি নেতার মা আরও অভিযোগ করে বলেন, শুক্রবার রাতে সাভার মডেল থানায় তিনি তার ছেলের সঙ্গে দেখা করতে চাইলে পুলিশ নয়নের সঙ্গে দেখা করতে দেয়নি।

নিহতের মা জানান, এর কিছু সময় পরই নয়নের মুখে কালো কাপড় দিয়ে বেঁধে তাকে নিয়ে থানা থেকে বের হয়ে যায় পুলিশ।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার দিবাগত রাতে যুবদল নেতা শাহ আলম নয়নকে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের নিজ বাসা থেকে আটক করেন সাভার মডেল থানার উপরিদর্শক (এসআই) তন্ময় ও আহসান। পরে শনিবার ভোর রাতে সাভারের বিরুলিয়ার কৃষিবিদ নার্সারির পাশে তাকে নিয়ে অস্ত্র উদ্ধারে যায় পুলিশ।

পুলিশের দাবি, এ সময় ওত পেতে থাকা শাহ আলমের সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ করে গুলি ছোড়ে। পুলিশও আত্মরক্ষার্থে গুলি ছোড়ে। সেই গুলিতে আহত হন নয়ন। পরে পুলিশ তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সুত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন