মাওলানা আহমদুল্লাহ আশরাফ ও মাওলানা মোস্তফা আজাদের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ | insaf24.com

মাওলানা আহমদুল্লাহ আশরাফ ও মাওলানা মোস্তফা আজাদের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | নিজস্ব প্রতিনিধি


বাঁ থেকে মাওলানা আহমদুল্লাহ আশরাফ ও মাওলানা মুস্তফা আজাদ (রাহ.)

দেশের দুই বরেণ্য শীর্ষ আলেম হযরত মুহাম্মাদুল্লাহ হাফেজ্জী হুজুর (রাহ.)-এর বড় ছেলে, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের সাবেক আমীরে শরীয়ত মাওলানা শাহ আহমাদুল্লাহ আশরাফ (রাহ.) এবং মিরপুর জামিয়া হোসাইনিয়া আরজাবাদ মাদরাসার মুহতামিম, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ও বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া’র সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা মোস্তফা আজাদ (রাহ.)-এর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ।

২০১৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি, শুক্রবার দুনিয়া থেকে বিদায় নেন ইসলামী অঙ্গনের এ দুই নক্ষত্র।

সেদিন সকাল ৭টা ৩০মিনিটে রাজধানীর ধানমন্ডির শংকর এলাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন মাওলানা শাহ আহমাদুল্লাহ আশরাফ আর সকাল ১০টার কিছু আগে রাজধানীর বেসরকারি ওরিয়ন জেনারেল হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন মাওলানা মোস্তফা আজাদ।

ইলমে হাদীস ও দ্বীনি শিক্ষার প্রচার-প্রসারে ব্রত থাকার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয়ভাবে খেলাফত ও সমাজে ন্যায়-ইনসাফ প্রতিষ্ঠার আন্দোলন-সংগ্রামেও মরহুম এ দুই আলেম খেদমত করে গেছেন আজীবন। জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও অসুস্থ শরীর নিয়ে তাঁরা উভয়ে ঈমান-আক্বীদার আন্দোলনে এবং নানা অপসংস্কৃতি ও দেশবিরোধী অপতৎপরতার প্রতিবাদে রাজপথে মিটিং-মিছিলে শরীক থাকতেন। তাঁদের বর্ণাঢ্য কর্মজীবন এ দেশের আলেম সমাজ ও সৎ রাজনীতিবিদদের জন্য এক অনুকরণীয় আদর্শ।

মাওলানা আহমাদুল্লাহ আশরাফ ১৯৪২ সালে রাজধানীর লালবাগ কিল্লারমোড় বাসভবনে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৮৭ সালে পিতার ইন্তেকালের পর তিনি খেলাফত আন্দোলনের আমীরে শরীয়ত নির্বাচিত হন। দীর্ঘ ২৭ বছর অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে সকল অন্যায় -অবিচারের বিরুদ্ধে এবং দেশ ও ইসলামের হিফাজতে বিভিন্ন আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠা, দেশপ্রেম ও গণমানুষের অধিকার আদায়ে দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অধিকাংশ সময় তাঁর কেটেছে আন্দোলন সংগ্রামে।

নাস্তিক-মুরতাদসহ ইসলাম ও দেশ বিরোধীদের উত্থান ও অপতৎপরতা প্রকাশ পেলেই মাওলানা আহমাদুল্লাহ আশরাফ সর্বপ্রথম প্রতিবাদে রাজপথে নামতেন, আন্দোলনের ডাক দিতেন এবং ঘুমন্ত জাতিকে জাগ্রত করতেন। তিনি ছিলেন এদেশের ১৫ কোটি মুসলমানের ঈমানের কথা উচ্চারনের বজ্রকন্ঠ। জীবনে বহু চড়াই উৎরাই পাড়ি দিয়েছেন,কিন্ত নীতি-আদর্শ থেকে সরে যাননি। বাতিলের সাথে আপোষ করেননি। উপরন্তু তিনি জামিয়া নুরিয়া ইসলামিয়া কামরাঙ্গীরচর ঢাকা, আমিনবাজার মাদরাসা ও লুধুয়া মাদরাসার প্রিন্সিপালের দায়িত্ব পালন করেছেন।

মাওলানা মোস্তফা আজাদ ১৯৫৩ সালের ১০ ই মে গোপালগঞ্জ জেলার সাধুহাটি গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৮ সালে জামিয়া হোসাইনিয়া আরজাবাদে মুজাহিদে মিল্লাত মাওলানা শামছুদ্দীন কাসেমীর নিকট তাফসীর র্কোস সম্পন্ন করেন তিনি। ১৯৭৯ সালে তাকে অত্র মাদরাসার শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেন মরহুম শামছুদ্দীন কাসেমী (রাহ.)। পরে নায়বে মুহতামিম নিযুক্ত হন। ১৯৯৬ সালে শামছুদ্দীন কাসেমী (রাহ.) এর ইন্তেকালের পর মজলিশে শুরায় তিনি মুহতামিম নিযুক্ত হন। মৃত্যুপর্যন্ত তিনি আরজাবাদ জামিয়ার মুহতামিম ছিলেন। রাজনৈতিক ময়দানে তিনি জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সিনিয়র সহসভাপতির পদে ছিলেন।

তিনি একজন বীর মুক্তিযুদ্ধা ছিলেন। ১৯৭১ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধে অংশ নেন। তাঁর (মোস্তফা আজাদের বাবা মেজর বাদশা মিয়া) বাবা ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলসের অবসরপ্রাপ্ত সুবেদার মেজর ছিলেন। তিনি মেজর (অব) জলিলের নেতৃত্বাধীন ৯ নম্বর সেক্টরের (বৃহত্তর খুলনা ও বৃহত্তর বরিশাল অঞ্চল) হয়ে যুদ্ধ করেছেন।