মৃত্যুর ধরন-মিছিল দেখে অনুমানের ভিত্তিতে শহীদ সংখ্যা নিরূপণ: হানিফ

mahbubul-alam-hanif-290116মুক্তিযুদ্ধের শহীদ সংখ্যা নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধে নিহতের সংখ্যা যে ৩০ লাখ বলা হচ্ছে তা অনুমানের ভিত্তিতে নিরূপণ করা হয়েছে।

যদিও মুক্তিযুদ্ধের শহীদ সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক থাকার সমালোচনা করতে গিয়ে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার শিকার হয়েছেন খালেদা জিয়া। কিন্তু হানিফের বক্তব্যের মাধ্যমে শহীদ সংখ্যাটি যে অনুমান ভিত্তিক তা সরকারি মহল থেকে স্বীকার করে নেওয়া হলো। আর হানিফের বক্তব্য এ কারণে তাৎপর্যপূর্ণ যে শহীদ সংখ্যা অনুমান করতে গিয়ে রাজনীতিক, সাংবাদিক, ইতিহাসবিদ ও গবেষকরাও বিতর্কে লিপ্ত ছিলেন।

শুক্রবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউটে ‘বাংলাদেশ ইউনাইটেড ইসলামী পার্টির’ জাতীয় সম্মেলন ২০১৬ অনুষ্ঠানে শহীদ সংখ্যা নিয়ে কথা বলেন হানিফ।

তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ মানুষ নিহত হয়েছিলেন। এই বিশাল সংখ্যা একজন-দুজনের নাম করে কখনো হিসাব করা যায় না। পৃথিবীর অনেক দেশে যখন এই রকম গণহত্যা হয়েছিল। জার্মানিতে নাৎসি বাহিনীর দ্বারা ইহুদি হত্যা হয়েছিল, ২০১০ সালে রুয়ান্ডাতে গণহত্যা হয়েছিল, এর আগে আণবিক বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ জাপানে গণহত্যা চালিয়েছিল। এরকম আরও অনেক গণহত্যা হয়েছে। সেখানে একজন-দুজন হিসাব করে সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়নি। এটা অনুমানভিত্তিক সংখ্যায় নির্ধারণ করা হয়েছিল। মানুষের মৃত্যুর ধরন দেখে, মিছিল দেখেই হয়তো সংখ্যাটাকে অনুমানভিত্তিকই করা হয়েছে। খালেদা জিয়া মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করে পরিকল্পিতভাবে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করার চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছেন।’

মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত গণহত্যার কথা তুলে ধরে মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, ‘কী নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল! সারা দেশে এখানে-ওখানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল লাশ আর লাশ। লাশের মিছিল ছিল। নদীতে, পুকুরে, এখানে-সেখানে লাশ ভাসত। গণহত্যার চিহ্ন যেন সারা দেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। ৩০ লাখ মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল। তখন শহীদদের সংখ্যা নিয়ে কটাক্ষ করে পাকিস্তানের অপকর্মকে পাকিস্তান যেভাবে অস্বীকার করে আসছে। সেই পাকিস্তানের অপকর্মকে জায়েজ করার জন্য বিএনপি ও জামায়াত একই সুরে তাদের সঙ্গে কথা বলে যাচ্ছে। পাকিস্তান যেভাবে বলেছে—একাত্তর সালে তারা এ দেশের গণহত্যা করে নাই। আজ বিএনপিও গণহত্যার সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলে পাকিস্তানের সেই বক্তব্য সমর্থন করে যাচ্ছে।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জাতির পিতা হওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে বিএনপির নেতা রুহুল কবির রিজভীর বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেন মাহবুব উল আলম হানিফ।

তিন বলেন, ‘আমরা পরিষ্কারভাবে বিএনপির নেতৃবৃন্দকে জানিয়ে দিতে চাই—ইতিহাস বিকৃতি করার ষড়যন্ত্র বন্ধ করুন। বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু এক দিনে হন নাই। ১৯৪৯ সাল থেকে বাংলাদেশের স্বাধিকার আন্দোলনের জন্য উনি সংগ্রাম শুরু করেন। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, ’৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন, ছয় দফার মধ্য দিয়েই আমাদের স্বাধীনতার সোপান রচনা করেছিলেন। ৬৯-এর গণ-অভুত্থানের মাধ্যমে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে ৭০-এর নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে স্বাধীনতার ঘোষণা করেছিলেন। এই স্বাধীনতা এক দিনে আসেনি। এই স্বাধীনতা কোনো ব্যক্তির এক হুইসেলে আসে নাই।’

তিনি বলেন, এই ধৃষ্টতা দ্বিতীয়বার না দেখানোর জন্য আমরা অনুরোধ করে যাচ্ছি। এই জাতির পিতাকে নিয়ে, মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে কটাক্ষ করে এই ধৃষ্টতা যদি ভবিষ্যতে কেউ দেখায়, তাহলে বাংলার জনগণ তাকে ক্ষমা করবে না। সমুচিত জবাব দিয়ে স্বাধীনতা ও ইতিহাস বিকৃত করা ব্যক্তিদের এই বাংলাদেশ থেকে চিরদিনের জন্য উৎখাত করবে।

ইউনাইটেড ইসলামী পার্টির চেয়ারম্যান মাওলানা ইসমাইল হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, কেন্দ্রীয় সদস্য আমিনুল ইসলাম আমিন, ইউনাইটেড ইসলামী পার্টির মহাসচিব মুফতি তাজুল ইসলাম ফারুকী প্রমুখ।