মার্চ ২৭, ২০১৭

দ্য ডিপ্লোম্যাটের প্রতিবেদন | বাংলাদেশ ক্রীতদাস রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

dilomatভারত-পাকিস্তানের মধ্যকার সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত সার্ক সম্মেলন বর্জন করেছে ভারত। প্রতিবেশি দেশের পথ অনুসরণ করে বাংলাদেশও একই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা। দুই প্রতিবেশী দেশ যখন একসঙ্গে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেয় তখন বোঝাই যায় এটা পূর্বপরিকল্পত। বা সমঝোতার ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অন্তত ভারত-বাংলাদেশের মধ্যকার বর্তমান সম্পর্ক সেটাই বলে। আর এটা সম্ভব হয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের বদ্যানতায়। কারণ সার্কভুক্ত দেশ মালদ্বীপ, নেপাল, ভুটান বা শ্রীলঙ্কার চেয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক বেশি কাছের।

বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের আমলে ঢাকা-দিল্লির সম্পর্ক আগের চেয়ে আরো সুদৃঢ় হয়েছে। তাত্ত্বিকভাবে সার্বভৌম দুটি দেশের সম্পর্ক সমান হওয়ার কথা। তবে এক্ষেত্রে একটি দেশ এমনভাবে কাজ করতে যাতে তাদের ভাবমূর্তি ‘ক্রীতদাস’ বা ‘আজ্ঞাবহ’ হিসেবে ফুটে ওঠেছে। যেমনটা দেখা গিয়েছিল সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়নে। বাংলাদেশ সম্পর্কে এমনটাই বলা হয়েছে ‘দ্য ডিপ্লোম্যাট’ পত্রিকার এক প্রতিবেদনে।
এতে বলা হয়েছে, ২০০৮ সালে অবাধ নির্বাচনে শেখ হাসিনা বেশ স্বাচ্ছন্দ্যেই তার জয় নিশ্চিত করেন। যেমনটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পর করেছিল কমিউনিস্ট রাষ্ট্র চেকোস্লোভাকিয়া, পোল্যান্ড, হাঙ্গেরি ও পশ্চিম জার্মানি। আওয়ামী লীগ সরকার নিজেদের যে ‘বেদনাদায়ক’ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাড় করিয়েছে তা তারা ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় কখনই শেষ হবে না। যার কারেণে বিচারক নিয়োগের দীর্ঘ সময়ের প্রচলিত প্রথা ভেঙে জেষ্ঠ্যতার ভিত্তিতে নয়, তিনি তার পছন্দের বিচারকদের সর্বোচ্চ আদালতের বেঞ্চে বসিয়েছেন। একই কাজ করেছেন দেশের নির্বাচন কমিশনের বেলায়ও। দুই ক্ষেত্রেই বিষয়গুলোতে ‘টেকনিক্যালি নিরপেক্ষ’ থাকার চেষ্টা করা হয়েছে।

২০১১ সালে তার সরকার আরেক প্রথা ভাঙল। ১৯৯০ এর সময় থেকে বাংলাদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল। শেখ হাসিনার দল যেহেতু পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠ তাই তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আইনটিও বাতিল করল। এখানে বিরোধীদের বাধা দেওয়া বা মত তারা গ্রাহ্যই করেনি। এমনিক শেখ হাসিনার সমর্থকে বিচারকে পরিপূর্ণ সুপ্রিম কোর্টও সাংবিধান সংশোধনীর পক্ষে রায় দেন। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষদের তত্ত্ববধানের পাস হওয়া সংবিধানি সংশোধনী কীভাবে অসাংবিধানিক ঘোষণা করলো তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েই গেছে। যেমনটি হয়েছিল সোভিয়েত ইউনিয়নে।

এত সব কর্মকা-ের পর ভবিষ্যতে বাংলাদেশে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হবে এবং আওয়ামী সরকারের কাজকর্ম ইউরোপীয় ও উত্তর আমেরিকারন দাতাগোষ্ঠী যে সরলভাবে দেখবে তেমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই। এমনকি গণমাধ্যমের ওপরও তারা খড়গহস্ত হয়েছে। আওয়ামী লীগের ‘চেতনা’ বিরোধী সংবাদপত্র ও চ্যানেলগুলোকে বন্ধ করে দিয়েছে শেখ হাসিনার সরকার। বেশ কয়েকজন নামীদামী সাংবাদিককে জেলে আটকে রাখা হয়েছে। ক্ষমতাসীনদের পরিবারের সদস্য নিয়ে কোনো মন্তব্য করলেও সাইবার অপরাধ আইনের আওতায় এনে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হচ্ছে।

এরই মধ্যে ২০১৪ সালে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দল অংশ না নেওয়ায় কোন জায়গা না দেখে নির্বাচন বর্জন করে। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেয় বিরোধী দল। কিন্তু বিরোধী দলের প্রার্থী ও সমর্থকরা বাংলাদেশ ছাত্রলীগের মারধরের শিকার হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে পুলিশি নির্যাতনের শিকারও হতে হয়েছে তাদের।

২০১৫ সালের এটা সবার কাছেই স্পষ্ট হলো শুধু সরকার নয়, অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ব্যবসায়িকদের প্রতিষ্ঠান, বার কাউন্সিল, সাংবাদিকদের সংগঠন। এর বড় উদাহরণ আদালত যখন ‍দুটি বিভাগের মেয়রকে কারাদ- দিলেন। এনজিওগুলোও রয়েছে সরকারের নজরদারিতে। যেহেতু তাদের আর্থিক সহায়তা বিদেশ থেকে আসে। সেই সহায়তা আটকে যাওযার শঙ্কায় তারা সরকারের বিরুদ্ধে গিয়ে নিরপেক্ষ কোনো প্রতিবেদন দিতেও পারছে না।

এমনকি সাংবাদিকরাও এখানে স্বাধীনভাবে তাদের কাজ করতে পারছে না। সাংবাদিকরাও যে স্বাধীন নয় তা বুঝিয়ে দিতে বাংলাদেশের ইংরেজি দৈনিক পত্রিকা দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদকের বিরুদ্ধে ৮৮টি মামলা করা হয়েছে।

এর আগে ১৯৯০ এর দিকে বাংলাদেশের গণতন্ত্র নিয়ে বড় ধরনের পরীক্ষা চালানো হয়েছিল। ওই সময়ে থেকেই শেখ হাসিনা বাংলাদেশে এবং দেশের মানুষকে খুব ভালোভাবে চেনেন এবং জানেন। যেহেতু আইনশৃঙ্খরা বাহিনী তার সঙ্গে আছে সেহেতু কেউ চাইলে তার সরাতে পারেব না। এছাড়া তার সঙ্গে আছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ভারতে অন্যতম মিত্র যুক্তরাষ্ট্র। দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখন ভারকে মতামতকে প্রার্ধান্য দেয়। কাজেই সার্কের মতো আঞ্চলিক সংস্থা নিয়ে তারা যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতেই পারে। এতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। আর ভারতকে অনুসরণ করে বাংলাদেশ যদি সার্ক সম্মেলনে না যাওযার সিদ্ধান্ত নেয় তবে তাতে বেশি বিস্ময়েরও কিছু নেই।

এই প্রতিবেদনটি আমাদের সময়.কম থেকে নেয়া