মোহাম্মদ আলীকে ট্রাইব্যুনাল থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে: আইনমন্ত্রী

2016_02_14_18_4মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কৗঁসুলি মোহাম্মদ আলীকে বরখাস্ত করেছে আইন মন্ত্রণালয়।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অনলাইন বাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

গত ৪ ফেব্রুয়ারি মোহাম্মদ আলীকে ট্রাইব্যুনালের সব মামলা থেকে প্রত্যাহার করে অফিস আদেশ জারি করেন ট্রাইব্যুনালে প্রধান কৌঁসুলি গোলাম আরিফ টিপু। ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলির সেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মোহাম্মদ আলীকে বরখাস্ত করলো আইন মন্ত্রণালয়।

সর্বশেষ গত ১৪ ফেব্রুয়ারি রবিবার শৃঙ্খলা ও আচরণবিধি ভঙ্গ এবং গুরুতর পেশাগত অসদাচরণের অভিযোগে মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আইন মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠান প্রধান কৌঁসুলি গোলাম আরিফ টিপু।

প্রধান কৌঁসুলির কার্যালয় সূত্র জানায়, আইনসচিব, অ্যাটর্নি জেনারেল ও ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের দপ্তরে চিঠির অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।

ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, কৌঁসুলি মোহাম্মদ আলীকে আল-বদর শামসুল হক গং ও হোসেন তরফদারসহ ট্রাইব্যুনালের অন্যান্য মামলার তদন্ত কার্যক্রম থেকে প্রত্যাহার করা হলো।পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত তিনি ট্রাইব্যুনালে কোনো মামলা পরিচালনা করতে পারবেন না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ট্রাইব্যুনালের চারজন কৌঁসুলি জানিয়েছেন, সম্প্রতি ময়মনসিংহ-৭ আসনের সাংসদ ও জাতীয় পার্টির নেতা এমএ হান্নানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামিন দিতে ট্রাইব্যুনালের এক বিচারককে ঘুষের প্রস্তাব দেন মোহাম্মদ আলী। এ বিষয়টি জানতে পেরে মোহাম্মদ আলীকে সব মামলা থেকে প্রত্যাহার করেন প্রধান কৌঁসুলি।

অন্য একজন কৌঁসুলি বলেন, মোহাম্মদ আলী জামিনের বিনিময়ে ঘুষের এই প্রস্তাব দেয়ার পর ট্রাইব্যুনালের তিন বিচারক প্রধান কৌঁসুলিকে ডেকে পাঠান। বিচারকেরা সাফ জানিয়ে দেন, মোহাম্মদ আলীকে যেন আর ট্রাইব্যুনালের ত্রিসীমানায় না দেখা যায়। এর পরপরই প্রধান কৌঁসুলি তাকে সব মামলা থেকে প্রত্যাহার করেন।

মোহাম্মদ আলী অবশ্য তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান, প্রধান কৌঁসুলিই ভালো বলতে পারবেন কেন আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।

জামিনের বিনিময়ে ঘুষের প্রস্তাব দিয়েছেন কি না-এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অ্যাবসলিউটলি ফলস, আনথিংকেবল অ্যান্ড আনট্রু (সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, অচিন্তনীয় ও অসত্য)।

এর আগেও কৌঁসুলি মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে সাভারে জমিদখলসহ বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছিল।

ট্রাইব্যুনালের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ব্যক্তিগত অদক্ষতা, অসততার কারণে জনস্বার্থে মোহাম্মদ আলীকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

অপর একটি সূত্রের দাবি, আওয়ামী লীগ ও বাম রাজনীতির কোন্দলের কারণে তাকে ট্রাইব্যুনাল থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি মোহাম্মদ আলী আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য।