প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে মানহানিকর তথ্য, জনকণ্ঠের বিরুদ্ধে মামলা

news_img_117248প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা ও সুপ্রিম কোর্ট বিভাগকে হেয় প্রতিপন্ন ও সুনাম ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগে দৈনিক জনকণ্ঠের সম্পাদক ও নির্বাহী সম্পাদকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার পত্রিকায় উপসম্পাদকীয় প্রকাশ করায় মৌলভীবাজার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পত্রিকার সম্পাদক আতিকুল্লা খাঁন মাসুদ ও নির্বাহী সম্পাদক স্বদেশ রায়ের বিরুদ্ধে এ মানহানির মামলা দায়ের করা হয়।

মৌলভীবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির পক্ষে মামলা দায়ের করেন অ্যাডভোকেট আব্দুল মুমিত চৌধুরী। বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৫০০ ও ৫০১ ধারায় এ মানহানির মামলা দায়ের করা হয়। এরপর মৌলভীবাজারের ১নং আমলি আদালতের অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম বাহাউদ্দিন কাজী সমন জারি করেন। আগামী ১৬ মার্চের মধ্যে এই সমনের জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মামলার বাদী আব্দুল মুমিত চৌধুরী বলেন, ‘প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে গত ৪ফেব্রুয়ারি দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকায় একটি উপসম্পাদকীয় লিখেন স্বদেশ রায়। এই উপসম্পাদকীয়তে বিভিন্ন বিকৃত তথ্য দেওয়া ছিল। যা প্রধান বিচারপতি ও বিচারাঙ্গনের জন্য মানহানিকর। ফলশ্রুতিতে আমি মামলা করেছি।’

আব্দুল মুমিত চৌধুরী বলেন, মামলা আমলে নিয়ে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বাহাউদ্দিন কাজী আসামিদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন। আগামী ১৬ মার্চ আসামিদের আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

মানহানির এ মামলায় মৌলভীবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট তজম্মুল হোসেন, মৌলভীবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির বর্তমান সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল মছব্বির, সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান মুজিব, সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট শান্তি পদ ঘোষ, অ্যাডভোকেট রমাকান্ত দাশ গুপ্ত, মৌলভীবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. কামরুল আহমদ চৌধুরী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ডাডলী ডেরিক, সাবেক সাধারণ সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সাইয়েদ মইন উদ্দিন জুনেল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এ এস এম আজাদুর রহমানসহ ১৫ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

মামলার এজহার সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ ফেব্রুয়ারি দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকায় উপসম্পাদকীয় কলামে ‘অবসরের পর রায় লেখা এজেন্ডা খালেদার, বাস্তবায়নের দায় এখন নতুন কাঁধে’ শিরোনামে একটি লেখা প্রকাশিত হয়। সেখানে লেখা ছিল, “অখ্যাত অনেক মুক্তিযোদ্ধা আছেন তাঁদের কেউ ১৪ দিন নদী সাঁতরে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়েছেন। এমনকি শাহীন মাহমুদের কথা ভাবুন না, ১৬ বছরের একটি মেয়ে ঢাকা থেকে একাকী বেরিয়ে আগরতলা পৌঁছেছেন মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিতে। বিপরীতে হবিগঞ্জ থেকে মাত্র চার মাইল দূরে ভারতীয় সীমান্ত। সেখানে না গিয়ে ২২ বছরের মি. সিনহা গোলাম আযমের সৃষ্ট শান্তি বাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন। তাই কারা এ দেশের মানুষ আর কারা মুনতাসীর মামুনের ভাষায় ‘আটকেপড়া পাকিস্তানি’ এ দেশে সে প্রমাণ ১৯৭১ সালেই হয়ে গেছে।”

এ ধরনের লেখায় প্রধান বিচারপ্রতি ও সুপ্রিম কোর্টকে অবমাননা করায় এ মামলা দায়ের করা হয়েছে।