জানুয়ারি ২৪, ২০১৭

‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় বিমান থেকে নামিয়ে দেয়া হল মুসলিম যুবককে

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

96481526_n

মোবাইল ফোনে কথা বলার সময় ‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় সাউথওয়েস্ট এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটের যাত্রী ২৬ বছর বয়সী বার্কলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল সায়েন্স গ্রাজুয়েট খাইরুলদিন মাখজুমিকে বিমান থেকে নেমে যেতে বাধ্য করা হয়।

এ বছর এপ্রিলে লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে খাইরুলদিন মাখজুমি এ ঘটনার শিকার হন।

দৈনিক ইন্ডিপেনডেন্টের খবরে বলা হয়েছে, বিমানে আসন গ্রহণের পর তিনি বাগদাদে তার এক চাচাকে ফোন করেন। আগের দিন জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি-মুনের সঙ্গে সান্ধ্যভোজে অংশ গ্রহণের সময় তিনি বান কি-মুনকে কি প্রশ্ন করেছিলেন সে সম্পর্কে ফোনে চাচাকে বলছিলেন।

কথা বলা শেষ করার আগে তিনি আরবি শব্দ ‘ইনশাআল্লাহ’ উচ্চারণ করেন। কথা শেষ করার পর তিনি দেখেন অন্য আসনের এক নারী যাত্রী তার দিকে স্থির চোখে তাকিয়ে আছেন।

সিএনএন’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে খাইরুলদিন বলেন, “শুরুতে ভেবেছিলাম উচ্চস্বরে কথা বলার কারণে তিনি আমার উপর বিরক্ত হয়েছেন। দুই মিনিটের মধ্যে এক ব্যক্তি দুইজন পুলিশকে নিয়ে আমার কাছে আসেন। এত দ্রুত তারা আমার কাছে এলেন যে, আমরা বিশ্বাস হচ্ছিল না। তারা আমাকে বিমান থেকে নেমে যেতে বললেন।”

“এরপর একজন আমাকে পাহারা দিয়ে বাইরে বের করে দেয় এবং আমাকে বলে ‘বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে’ কেন আমি আরবি শব্দ উচ্চারণ করেছি। আমাকে তারা ‘শহীদদের’ সম্পর্কে যা জানি সব খুলে বলতে বলে।”

খাইরুলদিন নিজের পক্ষে ব্যাখ্যা দেওয়ার আগেই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর দিয়ে তার মালপত্র তল্লাশি করা হয়।

ইন্ডিপেনডেন্টকে তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র স্বাধীন মানুষদের ভূমি। এখানে মানুষ আইনের শাসনকে সম্মান করে। এরপরও এদেশে কিভাবে মানুষকে এভাবে হেনেস্তা হতে হয়? এটা সত্যিই খুব বড় ধাক্কা।”

এরপর সাউথওয়েস্ট এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ তাদের ফ্লাইটে খাইরুলদিনকে আর উঠতে দেয়নি এবং টিকিটের পুরো অর্থ ফেরত দিয়ে দেয়।

পরে তিনি ডেল্টা এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে করে গন্তব্যে যান।

সুত্রঃ ইন্ডিপেনডেন্ট ও বিডিনিউজ