জানুয়ারি ১৭, ২০১৭

কওমি সনদ ইস্যুতে আল্লামা আহমদ শফী’র সাথে একাত্মতা প্রকাশ করলেন আল্লামা ওলীপুরী

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

2016-10-08_044657ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দ মাদ্রাসার শিক্ষা সনদকে ভারত সরকার কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ ও দাপ্তরিক সম্পর্ক ছাড়াই স্বতঃস্ফূর্তভাবে যেরকম মর্যাদা দেয়, সে আদলে বাংলাদেশের কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদীসের শিক্ষা সনদের মান নির্ধারণের বিষয়ে বেফাকের সভাপতি শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী যে রূপরেখা দিয়েছেন, তার সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মুফাসসিরে কুরআন ও হবিগঞ্জ কওমী মাদরাসা বোর্ডের সভাপতি আল্লামা নূরুল ইসলাম ওলিপুরী। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন আল্লামা ওলীপুর এক ভিডিও বার্তায় এই একাত্মতার কথা প্রকাশ করেন।

আল্লামা নূরুল ইসলাম ওলীপুরী’র প্রদত্ত ভিডিও বার্তাটি ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকমের পাঠকদের জন্য পত্রস্থ করা হলো-

“নাহমাদুহু ওয়ানুসাল্লী আলা রাসূলিহিল কারীম।

প্রথমতঃ কথা হলো, আমি আজ দীর্ঘ দিন যাবত অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছি। যে কারণে আমি কওমি মাদ্রাসার সনদ বিষয়ক আলোচনা বা কর্মকান্ডে উপস্থিতি থাকতে পারছি না। কিন্তু আপনাদের এবিং বিভিন্ন জনদের মুখে শুনতে পাচ্ছি, বাংলাদেশ সরকার কওমি মাদ্রাসার সনদের স্বীকৃতি দিতে চায়।

এ ব্যাপারে আমার কথা হচ্ছে, উপমহাদেশের সমস্ত কওমি মাদ্রাসার মডেল হলো ভারতে অবস্থিত দারুল উলূম দেওবন্দ মাদ্রাসা। দারুল উলূম দেওবন্দ মাদ্রাসার শিক্ষাক্রম ও পরিচালনা ব্যবস্থা অনুযায়ী উপমহাদেশে যেসব মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বা পরিচালিত হচ্ছে, সেসকল মাদ্রাসাকেই কওমি মাদ্রাসা বলা হয়।কওমি সনদের স্বীকৃতি প্রসঙ্গে আমার মতামত হচ্ছে, ভারতে অবস্থিত দারুল উলূম দেওবন্দ মাদ্রাসাকে ভারত সরকার যেভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে, সেই দেওবন্দ মাদ্রাসার অনুসারী সমস্ত কওমি মাদ্রাসাকে পাশ্ববর্তী দেশ বাংলাদেশ সরকারেরও সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই স্বীকৃতি দেওয়া দরকার। আমি যতটা জানি, ভারত সরকার দারুল উলূম দেওবন্দ মাদ্রাসার প্রদত্ত সনদকে তার স্বকীয়তা বজায় রেখেই স্বীকৃতি প্রদান করেছে। অর্থাৎ- দেওবন্দ মাদ্রাসার সিলেবাসে সরকার কোনরূপ হস্তক্ষেপ করেনি। মাদ্রাসা পরিচালনা যেভাবে অতীত থেকেই স্বাধীনভাবে পরিচালিত হয়ে আসছে, সেভাবেই পরিচালিত হবে। শুধুমাত্র মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদীসের সনদকে ভারত সরকার এমএ’র মান দিয়েছে।

তাই বলছিলাম, দারুল উলূম দেওবন্দ মাদ্রাসা যেহেতু সমস্ত কওমি মাদ্রাসার মডেল, সেহেতু দেওবন্দ মাদ্রাসাকে ভারত সরকার যেভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে, বাংলাদেশের কওমি মাদ্রাসাগুলোকেও বাংলাদেশ সরকার সেভাবে স্বীকৃতি দিলে, আমাদের সকল কওমি মাদ্রাসার উচিত তা সাদরে গ্রহণ করা।

আমি আরো শুনেছি, বাংলাদেশের কওমি মাদ্রাসার বৃহত্তম বোর্ড বেফাকের সভাপতি হযরত আল্লামা আহমদ শফী (দা.বা.), যিনি বাংলাদেশের বৃহত্তম কওমি মাদ্রাসা দারুল উলূম হাটহাজারী’র মহাপরিচালক এবং বাংলাদেশের হাজার হাজার আলেমের উস্তাদ। তিনি বর্তমান সরকারের সনদের স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ে ঘোষণার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের সমস্ত কওমি মাদ্রাসার বোর্ডগুলিকে একত্রিত হয়ে পরামর্শ সভায় যোগদান করার আহ্বান জানিয়েছেন। আমি সুস্থ থাকলে আবশ্যই হযরতের আহবানে সাড়া দিয়ে সেখানে যেতাম এবং আমার মতামত সেই পরামর্শ সভায় উপস্থাপন করতাম। আমি আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞ, আপনারা আমার কাছে এসেছেন, আমার মতামত গ্রহণের জন্যে। তাই আমি আমার মতামতটা আপনাদেরকে বলে দিলাম। পাশাপাশি অনুরোধ জানাচ্ছি, আপনারা হাটহাজারী হযরতের আহুত যে কোন বৈঠকে উপস্থিতি হলে, আমার মতামতটা হযরতকে জানিয়ে দিবেন।

হাটহাজারীর হযরত বর্তমানে বাংলাদেশের সকল কওমি বোর্ডমূহকে একত্রিত করে স্বীকৃতি নিতে চাচ্ছেন। যেন এই স্বীকৃতি থেকে কোন কওমি মাদ্রাসা বঞ্চিত না থাকে। আমি মনে করি, এটা একটা মহান উদ্যোগ।

তাই আমাদের হবিগঞ্জে কওমি মাদ্রাসা বোর্ড হবিগঞ্জ নামে একটা আঞ্চলিক বোর্ড আছে, সেই বোর্ডের সভাপতি আমি। আমি আমার বোর্ডের পক্ষ থেকে হযরতের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছি। এবং দেশের অন্যসকল কওমি মদ্রাসার আঞ্চলিক বোর্ড কর্তৃপক্ষগণকেও এই মর্মে অনুরাধ জানাচ্ছি, হাটহাজারী হযরত যদি বাংলাদেশ সরকার থেকে ভারতের দারুল উলূম দেবন্দের অনুরূপ স্বীকৃতি আদায় করতে চান, তাহলে কেউ যেন দ্বিমত না করেন। হযরতের সাথে একাত্মতা পোষণ করে এই স্বীকৃতির বিষয়ে যৌথ সিদ্ধান্তে এগিয়ে আসেন। আল্লাহ আমাদের এই জাতিকে সুপথে পরিচালনার তাওফিক দান করেন; আমীন”।