আমেরিকার কারাগার থেকে মুক্তি পাচ্ছেন ড. আফিয়া সিদ্দিকী?

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | মুসলিম বিশ্ব ডেস্ক



পাকিস্তানের স্নায়ু বিজ্ঞানী ড. আফিয়া সিদ্দিকী মার্চের ১৬ তারিখ মুক্তি পেতে পারেন। এমন খবর প্রকাশ করেছে পাকিস্তান ভিত্তিক অনলাইন পত্রিকা সিয়াসাত।

প্রকাশিত খবরে বলা হয়- বৃহস্পতিবার ড. আফিয়ার বোন ফাওজিয়া সিদ্দিকী পাকিস্তানের গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পাকিস্তানের বিশিষ্ট মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও ইমরান খানের ঘনিষ্ঠজন মকবুল জান-এর সঙ্গে এক টিভি টকশোতে অংশ নিয়ে তিনি এই তথ্য জানান।

ড. ফাওজিয়া সিদ্দিকীকে ফোন কফারন্সের মাধ্যমে টকশোতে সংযুক্ত করা হয়।

টকশোতে মকবুল জান তাকে ড. আফিয়া সম্পর্কে প্রশ্নে করলে তিনি বলেন, ‘আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছিলাম। তিনি আমাকে বলেছেন, ১৬ মার্চ আফিয়া পাকিস্তানে ফিরবেন। আল্লাহ তাকে নিরাপদে পাকিস্তানে ফিরিয়ে নিয়ে আসুন।’

এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘১৬ বছর আফিয়া আমেরিকার কারাগারে বন্দী। এই সময় সে মুক্ত ও স্বাধীন থাকলে পাকিস্তানের গর্ব হিসেবে কাজ করতে পারতো।’

এদিকে ড. আফিয়া সিদ্দিকীর মুক্তি বা পাকিস্তানে ফেরার বিষয়ে দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কিছু বলা হয়নি।

প্রসঙ্গত, পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত স্নায়ু বিজ্ঞানী ড. আফিয়া সিদ্দিকী যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারে বন্দি আছেন। তিন সন্তানের জননী, ৪৬ বছর বয়সী এই বিজ্ঞানীকে আফগানিস্তান থেকে গ্রেফতার করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, আফগানিস্তানে তিনি মার্কিন সেনাদের ওপর হামলার চেষ্টা করেছিলেন।

বিচারকার্য শেষে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত আফিয়া সিদ্দিকীকে ২০১০ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর ৮৬ বছর কারাদন্ড দেয়।

গত ৯ অক্টোবর পাকিস্তানি কনসাল জেনারেল হিউস্টন কারাগারে দেখা করতে গেলে ড. আফিয়া সিদ্দিকী তার মাধ্যমে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের কাছে একটি চিঠি পাঠান।

জানাগেছে, সেই চিঠিতে তিনি তার মুক্তির জন্য প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের কাছে সহযোগিতা চান।

তিনি বলেন, “ইমরান খান অতীতে আমার অনেক সাহায্য করেছেন। তিনি যেন আমার মুক্তির জন্য চেষ্টা করেন। আমি বন্দিত্ব থেকে মুক্তি চাই। আমেরিকা আমাকে বেআইনিভাবে শাস্তি দিচ্ছে। আমাকে অপহরণ করে আমেরিকায় নিয়ে আসা হয়েছে।”

এরপর আফিয়া সিদ্দিকী সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাকিস্তানের অবস্থান তুলে ধরা হয়।

দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘ড. আফিয়ার সবরকম মানবাধিকার যেন রক্ষা করা হয় পাকিস্তান সেটাই চায়।’