জানুয়ারি ২৪, ২০১৭

সনদ ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের জানান দিতে হবে: আল্লামা শফী

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী (1)দেশের কওমি মাদ্রাসা সংশ্লিষ্ট ওলামায়ে কেরামের প্রতি আগামী ১৭ অক্টোবর সোমবার ঢাকা মিরপুর জামেয়া হোসাইনিয়া আরজাবাদ মাদ্রাসায় ওলামা-মাশায়েখ সম্মেলনে শরীক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বেফাক সভাপতি দেশের শীর্ষ আলেম শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী।

তিনি বলেন, সনদ ইস্যুসহ কওমি মাদ্রাসার যে কোন বিষয়ে আমাদেরকে ভারতের দেওবন্দ মাদ্রাসার নজির সর্বাবস্থায় সামনে রাখতে হবে। সকাল ১০টায় শুরু হওয়া উক্ত সম্মেলনকে সফল ও স্বার্থক করে চলমান কওমি সনদ ইস্যুতে আলেমদের ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের জানান দিতে হবে।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয়ভাবে ধর্মনিরপেক্ষ নীতি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দেশের মুসলমানদের চিন্তা-চেতনা থেকে ধর্মীয় ভাবাদার্শ, সংস্কৃতি ও ইসলামী শিক্ষাকে ধ্বংস করে তদস্থলে নাস্তিক্যবাদি ও ভোগবাদি ধ্যানধারণা প্রতিষ্ঠার বহুমুখী আয়োজন চলছে। মুসলমানদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও আদর্শের বিরুদ্ধে একের পর এক অপপ্রচার ও সংকট তৈরি করা হচ্ছে নীলনক্সা মতেই। তারই অংশ হিসেবে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা নিয়ে চতুর্মুখী ষড়যন্ত্র জোরদার করা হচ্ছে। এই ইস্যুকে সামনে এনে একদিকে ওলামায়ে কেরামের মধ্যে নানা সন্দেহ, মতভেদ ও বিভক্তি তৈরীর চেষ্টা চলছে, অন্যদিকে সনদের স্বীকৃতির নামে কওমি মাদ্রাসার খাঁটি ইসলামী শিক্ষার পরিচালন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিতে চাচ্ছে। উদ্দেশ্য একটাই, যেকোনভাবে খাঁটি ইসলামী শিক্ষার জন্যে জনগণের একমাত্র ভরসাস্থল কওমি মাদ্রাসাকে বহুমুখী সংকটে ফেলে এই শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেওয়া।

কারণ, জোর-জুলুম, ঘুষ-দুর্নীতি, অবাধ ব্যভিচার, আধিপত্যবাদসহ সর্বোপরি নাস্তিক্যবাদি ধ্যানধারণার ভোগবাদিতার জন্যে এখন একমাত্র ওলামায়ে কেরামই একমাত্র বাঁধা। জনগণের সাথে উলামায়ে কেরামের নাড়ির সম্পর্ক তারা বুঝে গেছ। তিনি বলেন, সরকার দাওরায়ে হাদীসের কওমি শিক্ষা সনদের মান থাকার যৌক্তিকতা উপলব্ধি করলে, সে পর্যায়ে উচিত শীর্ষ ওলামায়ে কেরামের সাথে খোলামনে আলোচনা করা এবং ওলামায়ে কেরামের সম্মিলিত পরামর্শের আলোকে পদক্ষেপ নেওয়া। কিন্তু আমরা এর উল্টাটাই দেখছি। আলেম সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন কোন ব্যক্তিবিশেষের পরামর্শে কওমি সনদের বিষয়ে সরকার একের পর এক বিতর্কিত পদক্ষেপ নিতে থাকলে, সরকারের ভাবমুর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকবে।

বেফাক সভাপতি বলেন, সোমবারের ওলামা-মাশায়েখ সম্মেলন সফল করার মধ্য দিয়ে আমাদের ঐক্যবদ্ধ জোরালো অবস্থান ও সিদ্ধান্তের জানান দিতে হবে। তিনি বলেন, সাংবিধানিকভাবে ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণের স্বাধীনতা সকল নাগরিকের রয়েছে। এখানে অযাচিত হস্তক্ষেপ করতে কাউকে সুযোগ দেওয়া হবে না। আমাদের সামনে বৃহৎ প্রতিবেশী হিন্দু অধ্যুষিত ভারতের কওমি মাদ্রাসা পরিচালনা পদ্ধতির নজির রয়েছে।

বেফাক সভাপতি বলেন, কওমি মাদ্রাসার শিক্ষাব্যবস্থা সাধারণ শিক্ষার স্কুল-কলেজ থেকেও অনেক বেশি উন্মুক্ত। সুতরাং এসব মাদ্রাসার শিক্ষাদানসহ সকল কার্যক্রম যে কেউ যখন তখন অবলোকন করার সুযোগ রয়েছে। কওমি মাদ্রাসায় মারামারি, দলাদলি ও রাজনৈতিক কারণে সরকার বিরোধী আন্দোলনে জড়িত হওয়ার ঘটনা নেই। আলেমরা শুধু ঈমান, আক্বীদার বিষয়গুলোতেই কথা বলে। যে কারণে কওমি মাদ্রাসার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের মিথ্যাচারে জনগণ বিভ্রান্ত হন না।