নিউজিল্যান্ডে মুসলমানের সংখ্যা; ১৯৫০ সালে ছিল মাত্র ১৫০ জন, এখন লাখের কাছাকাছি

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | আন্তর্জাতিক ডেস্ক


বিশ্বের অনেক দেশের মতো নিউজিল্যান্ডে বর্ণবাদের সমস্যা তেমন ছিল না। শান্তিপূর্ণভাবেই বিভিন্ন জাতি দেশটিতে বসবাস করত। নিউজিল্যান্ডে মুসলমানরা মোটামুটি শান্তিপূর্ণ ভাবেই বসবাস করে আসছিল।

কিন্তু গতকাল (১৫ মার্চ) ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে ভয়াবহ হামলার পর দেশটির মুসলমানদের মধ্যে এখন বিরাজ করছে চরম আতঙ্ক।

নিউজিল্যান্ডে যে ধর্মগুলোর দ্রুত বিস্তার ঘটছে তার মধ্যে ইসলাম অন্যতম। ১৯৯১-২০০৬ এর মধ্যে মুসলিম জনসংখ্যা ছয়গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশটির মোট জনসংখ্যার ১.১% নাগরিক মুসলিম।  ২০১৩ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী নিউজিল্যান্ডে মুসলমানদের সংখ্যা ৪৬১৪৯, যা ২০০৬ সালের আদমশুমারি থেকে ২৮% বৃদ্ধি পেয়েছে। (সূত্র: আল খলিজ অনলাইন)

নিউজিল্যান্ডে ইসলাম প্রবেশ
১৮৭০ সালে দেশটিতে ইসলাম ধর্মের বিকাশ শুরু হয়। ব্রিটিশ শাসন প্রতিষ্ঠার পর ইউরোপ, এশিয়া, মিডলইস্ট ও আফ্রিকাসহ নানা দেশের বহু মানুষ এখানে এসে বসতি স্থাপন করে। নিউজিল্যান্ডে বর্তমানে মুসলমানদের সংখ্যা প্রায় লাখখানেক। নয়নাভিরাম সৌন্দর্যের দেশটিতে ইসলামের প্রচার ও প্রসার হয় মূলত অভিবাসীদের মাধ্যমে। সে সময় স্বর্ণ অনুসন্ধানকারী পেশার ১৫ জন চীনা মুসলমান জীবিকার অন্বেষণে পাড়ি জমিয়েছিলেন নিউজিল্যান্ডে। ওটাগোর ডানস্টানের স্বর্ণক্ষেত্রে তারা কাজ করতেন।

পরে ১৯০০ সালের শুরুর দিকে গুজরাটের তিনটি মুসলিম পরিবার সেখানে বসতি স্থাপন করে। তারপর ১৯৬০ সাল পর্যন্ত সময়ে পূর্ব ইউরোপ এবং ভারত থেকে আসা আরও কিছু অভিবাসী মুসলমান সেখানে বসবাস শুরু করে স্থায়ীভাবে।

নিউজিল্যান্ড সরকারের হিসাবমতে, ১৯৫০ সালে নিউজিল্যান্ডে মুসলমান অধিবাসী ছিল মাত্র ১৫০ জন। ১৯৬০ সালে এ সংখ্যা উন্নীত হয় ২৬০-এ। অভিবাসী মুসলমানদের বড় আকারে বসতি স্থাপন শুরু হয় ১৯৭০ সালে। সে সময় ফিজি থেকে আসা ভারতীয় বংশোদ্ভূত মুসলমানরা নিউজিল্যান্ডে বসতি স্থাপন শুরু করে। তাদের অনুসরণ করে ১৯৯০ সালের মধ্যে যুদ্ধবিধ্বস্ত অনেক দেশের উদ্বাস্তু মুসলমানরা পাড়ি জমায় নিউজিল্যান্ডে। এরপর থেকেই নিউজিল্যান্ডে মুসলিম জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়তে থাকে।

বর্তমানে নিউজিল্যান্ডে মুসলমানের সংখ্যা প্রায় লাখের কাছাকাছি। ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে ধর্মীয় শিক্ষা অর্জন করে এ দেশে এসেছেন, এমন অনেক যোগ্য ও অভিজ্ঞ আলেমও রয়েছেন দেশটিতে। তারা নিউজিল্যান্ডে ইসলাম প্রচার ও সেখানকার মুসলিমদের ইসলামি শিক্ষায় শিক্ষিত করার পেছনে দিন রাত শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন।

নিউজিল্যান্ডের প্রায় ৭৭% মুসলমান বিদেশে জন্মগ্রহণ করেছে, তাদের অধিকাংশই ভারতীয়। অনুপাত হিসেবে মুসলমানদের মধ্যে ২৯% ভারতীয়, আর মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় ২১%।

ধর্মীয় শিক্ষার ক্ষেত্রেও মুসলমানরা এগিয়ে রয়েছে। নিউজিল্যান্ডের মুসলিম কমিউনিটিতে তাদের আবাসস্থল ঘেঁষে মসজিদগুলো গড়ে তোলা হয়েছে। মসজিদসংলগ্ন কমপ্লেক্সে শিশুদের প্রাথমিক ধর্মীয় শিক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়াও বেশি কিছু হিফজ মাদরাসাও গড়ে উঠেছে। কয়েকটি মসজিদের উদ্যোগে ‘সানডে স্কুল’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ছুটির দিন শিশুদের দিনব্যাপী ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া হয় তাতে।

সূত্র: আল খলিজ অনলাইন


নিউজিল্যান্ডে মসজিদে হামলা; শহীদের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৯ জনে
মার্চ ১৫, ২০১৯
ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | আন্তর্জাতিক ডেস্ক


নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে শুক্রবার জুমার নামাজের সময় খ্রিষ্টান সন্ত্রাসবাদীর হামলায় এখন পর্যন্ত শহীদ হয়েছেন ৪৯ জন মুসলিম। নিউজিল্যান্ড ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম স্টাফ ও কাতার ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।

আজ (১৫ মার্চ) নিউজিল্যান্ডের সাউথ আইল্যান্ডে আল নূর মসজিদে স্বয়ংক্রিয় রাইফেল দিয়ে অন্তত ৫০টি গুলি করা হয়েছে।

স্থানীয় সময় দুপুর দেড়টার দিকে যখন এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, তখন জুমার নামাজের প্রস্তুতি চলছিল।

পার্শ্ববর্তী লিনউড মসজিদেও হামলায় নিহতের ঘটনা ঘটেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, একটি আধা স্বয়ংক্রীয় শর্টগান ও রাইফেল দিয়ে সাউথ আইল্যান্ডে আল নূর মসজিদে অন্তত ৫০টি গুলি ছোড়েন ২৮ বছর বয়সী ব্রেনটন ট্যারেন্ট। সে নিউ সাউথ ওয়েলসের গ্রাফটন থেকে এসেছেন।

হামলায় জড়িত সন্দেহে এখন পর্যন্ত এক নারীসহ চার ব্যক্তিকে কারাগারে আটক রাখা হয়েছে।

আটকের সময় তাদের একজন সুইসাইড ভেস্ট পরা অবস্থায় ছিলেন।

হত্যাকাণ্ড ঘটনার আগে টুইটারে ৮৭ পাতার ইশতেহার আপলোড করেছেন হামলাকারী। এর মাধ্যমে সন্ত্রাসী হামলার আভাস আগেই সে দিয়েছিল।

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্দা আরডান এ হামলাকে নিউজিল্যান্ডের জন্য সবচেয়ে অন্ধকার দিন বলে উল্লেখ করেছেন।

সূত্র : এফপি