মার্চ ২৪, ২০১৭

সনদ ইস্যুতে আল্লামা শফীকে নোয়াখালী ও লক্ষীপুর জেলার আলেমদের সমর্থন

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

unnamed-5

আজ সকাল ১০টায় নোয়াখালী ও লক্ষীপুর জেলার কওমি মাদ্রাসাসমূহের পরিচালকদের ৩০ সদস্যের এক প্রতিনিধি দল কওমি সনদের স্বীকৃতি প্রশ্নে বেফাক সভাপতি আল্লামা শাহ আহমদ শফীর গৃহীত অবস্থানের প্রতি সর্বাত্মক সমর্থন থাকার কথা জানাতে দারুল উলূম হাটহাজারী মাদ্রাসায় তাঁর সাথে দেখা করেন।

নোয়াখালী মিরওয়ারিশপুর হোসাইনিয়া মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা নিজাম উদ্দীনের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে ছিলেন, মাওলানা সফি উল্লাহ (পরিচালক চৌমুহনী ইসলামিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসা), মাওলানা মোশাররফ হোসাইন (পরিচালক, আমানতপুর ইসলামিয়া মাদ্রাসা), মাওলানা শিব্বির আহমদ (পরিচালক, চরমুটুয়া মাদ্রাসা), মাওলানা নূরুল ইসলাম (পরিচালক, হাজিরহাট মাদ্রাসা), মাওলানা আতাউল্লাহ (পরিচালক, জামেয়া ইসলামিয়া খাজুরিয়া), মাওলানা ইউসুফ (পরিচালক, জামেয়া ওসমানিয়া চাটখিল), মাওলানা নোমান আহমদ (পরিচালক, জামেয়া মাদানিয়া মাইজদি), মাওলানা মোস্তাকুন্নবী, মাওলানা ইয়াকুব কাসেমী, মাওলানা মনজুর সিদ্দিক (পরিচালক, হরিনায়ণপুর মাইজদি), মাওলানা দেলোয়ার হোসেন (জামেয়া ওসমানিয়া নোয়াখালী) প্রমুখ। লক্ষীপুর জেলা থেকে মাওলানা আবু তাহের (পরিচালক, চরমুটুয়া আল-আরাবিয়া মাদ্রাসা), মাওলানা মামুনুর রশীদ (পরিচালক- আশরাফুল মাদারেস বটতলী), মাওলানা কলিমুল্লাহ (পরিচালক- লামচরি আরাবিয়া মাদ্রাসা), মাওলানা বশীর আহমদ (পরিচালক- আল-মুঈন একাডেমী মাদ্রাসা), মাওলানা নূরুদ্দীন (পরিচালক- রায়পুর মাদ্রাসাতুন নূর), মাওলানা মুকতাদির (পরিচালক, ফারুকিয়া মাদ্রাসা), মাওলানা আমীর হোসেন (পরিচালক, মুহিউচ্ছুন্নাহ জালালিয়া মাদ্রাসা) প্রমুখ।

unnamed-6

কওমী মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদীসের সনদের মান নির্ধারণী ইস্যুতে বেফাক সভাপতি শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী’র অবস্থান ব্যাখ্যা করে তাঁর উপস্তিতিতে বক্তব্য রাখেন প্রেসসচিব মাওলানা মুনির আহমদ। এরপর নোয়াখালী ও লক্ষীপুর জেলার সফরকারী দলের সদস্যগণ পৃথক পৃথকভাবে দাঁড়িয়ে কওমী মাদ্রাসার সনদ ইস্যুতে আল্লামা শাহ আহমদ শফীর পক্ষে সর্বাত্মক সমর্থন ব্যক্ত করে বলেন, বেফাক সভাপতি সারাদেশের কওমি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও ওলামায়ে কেরামের ঐক্যের প্রতীক। নোয়াখালী ও লক্ষীপুর জেলার কোন একটি মাদ্রাসাও তাঁর সিদ্ধান্তের বাইরে এককদমও পা রাখবে না। তারা চলমান সনদ ইস্যুকে কওম ও মিল্লাতের বিরুদ্ধে সুগভীর ষড়যন্ত্র আখ্যায়িত করে বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসুদ উলামায়ে কেরামের সম্মিলিত সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে একের পর এক বিতর্কিত ও ক্ষতিকর কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা বলেন, কওমি মাদ্রাসা পরিচালনার মুখ্য উদ্দেশ্য রেজায়ে মাওলা বা আল্লাহর পূর্ণ সন্তুষ্টি অর্জন এবং রাসূল (সা.)এর সুন্নাহ ও নির্দেশনা অনুযায়ী মুসলিম জীবন ও সমাজ গঠন। সনদ কখনোই মূল লক্ষ্য নয়। তারা বলেন, স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভারতের দেওবন্দের মতো সনদের মান পাওয়া গেলে অবশ্যই ভাল। অন্যথায় নেসাবের ক্ষতি করে আমরা সনদের মান অর্জনের তোয়াক্কা করবো না। বৃটিশ শাসনামল থেকে জনগণের সাহায্য-সহযোগিতা নিয়ে যেভাবে স্বাধীনভাবে পবিত্র কুরআন-হাদীসের শিক্ষা দিয়ে আসছে এসব প্রতিষ্ঠান, আগামীতেও সেভাবেই আমরা চলতে চাই। ভারতের মতো অমুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ একটা বৃহৎ দেশে সংখ্যালঘু মুসলমানদের পরিচালিত কওমি মাদ্রাসাসমূহ স্বাধীনভাবে চলছে। অথচ ৯২ ভাগ মুসলিম অধ্যুষিত বাংলাদেশে ইসলামী শিক্ষার বিরুদ্ধে একেরপর এক চক্রান্ত চলছে। এটা চরম হতাশাজনক।

unnamed-7

প্রতিনিধি দলের সদস্যদের উদ্দেশ্যে বেফাক সভাপতি আল্লামা শাহ আহমদ শফী বলেন, কওমী মাদ্রাসাসমূহ দারুল উলূম দেওবন্দের উসূল তথা নীতি-আদর্শ মতে পরিচালিত হয়। সনদের ইস্যুসহ যে কোন বিষয়ে দেওবন্দের নীতি-আদর্শের পরিপন্থী কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই। ভারতের দারুল উলূম দেওবন্দ যেভাবে পরিচালতি হয়, সনদের মান নির্ধারণের বিষয়ে দারুল উলূম দেওবন্দের নীতিমালা যেরকম, আমরা সেভাবে চলতে চাই।

প্রতিনিধি দলের উদ্দেশ্যে আল্লামা শাহ আহমদ শফী আরো বলেন, বাংলাদেশের কওমি মাদ্রাসার সনদের সরকারী মান নির্ধারণ না থাকাটা এখনকার নতুন সমস্যা নয়। এটা বৃটিশ শাসনামল থেকেই চলে আসছে। কিন্তু হঠাৎ করে কওমি সনদের সরকারী স্বীকৃতি দিতে অতি ধর্মনিরপেক্ষতাবাদি সরকারের দিক থেকে অতি আগ্রহ প্রকাশ এবং কারো কারো দিক থেকে যেনতেনভাবে এই স্বীকৃতি গ্রহণে অতিউৎসাহী তৎপরতা গভীর ষড়যন্ত্রের দিকনির্দেশ করে। গত পাঁচ ছয় বছরের সংবাদ ও ঘটনা পর্যালোচনা করলে এমন ষড়যন্ত্রের জোরালো ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতিতে উলামায়ে কেরামের জোরদার ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।