২৭ মার্চ ঢাকায় খতমে নবুওয়াত মহাসম্মেলন; উপস্থিত থাকবেন দেওবন্দের মুহতামিম ও আল্লামা বাবুনগরী | insaf24.com

২৭ মার্চ ঢাকায় খতমে নবুওয়াত মহাসম্মেলন; উপস্থিত থাকবেন দেওবন্দের মুহতামিম ও আল্লামা বাবুনগরী

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | নিজস্ব প্রতিনিধি


আগামী ২৭ মার্চ (বুধবার) রাজধানীর খিলগাঁও উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়াত বাংলাদেশ-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নবুওয়াত মহাসম্মেলন।

এতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন উপমহাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দের মুহতামিম মাওলানা আবুল কাসেম নোমানী ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ মহাসচিব আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী।

বিষয়টি ইনসাফকে নিশ্চিত করেছেন সম্মেলনের আয়োজক আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়াতের সেক্রেটারি মাওলানা নুরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, খতমে নবুওয়াত মুসলমানদের ঈমানের অবিচ্ছেদ্য অংশ, অতএব খতমে নবুওতের আকিদা বিশ্বাসে অটল থাকা তথা ইমানের উপর অটল থাকা। সকল মুসলমানগনের উক্ত মহা সম্মেলনে অংশ নিয়ে ঈমানী দায়িত্ব পালন করা।



নিউজিল্যান্ডে মসজিদে খ্রিষ্টান সন্ত্রাসবাদী হামলার প্রতিবাদে ইসলামী ঐক্যজোটের বিক্ষোভ
মার্চ ১৬, ২০১৯
ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | ডেস্ক রিপোর্ট


নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে খ্রিষ্টান সন্ত্রাসবাদী হামলায় ৪৯জন মুসলিম হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে ইসলামী ঐক্যজোট।

আজ (১৬ মার্চ) শনিবার বাদ আসর বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেইটে এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

মিছিলপূর্ব সমাবেশে ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী বলেছেন, শান্তির দেশ দাবীদার নিউজিল্যান্ডে একজন উগ্র খ্রিষ্টান সন্ত্রাসবাদী হামলার ছক একে প্রকাশ্যে দিবালোকে স্বয়ংক্রিয় বন্দুক তাক করে মসজিদে প্রবেশ করে মুসলমানদের উপর নৃশংস হত্যাযজ্ঞ ঘটালো, অথচ সে দেশের গোয়েন্দা সংস্থা তা আচ করতে পারল না। সেটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। আমি মনে করি, এই হামলা পূর্বপরিকল্পিত এবং মুসলমানদের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। নিউজিল্যান্ড সরকারকে খুনি ব্র্যান্টন ট্যারান্ট এর উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করার আহবান জানাচ্ছি। তা না হলে বাংলাদেশসহ মুসলিম বিশ্ব তথা বিশ্বের শান্তিকামী জনগণ জনগণ নিউজিল্যান্ডের সাথে সব ধরনের কুটনৈতিক সম্পর্ক ত্যাগ করবে। তিনি জাতিসংঘ ও ওআইসিকে এই নারকীয় হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানান।

ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতী ফয়জুল্লাহ বলেন, আল্লাহর ঘর মসজিদে বর্বরতম এই নিষ্ঠুর, পৈশাচিক হত্যাকান্ডের নিন্দা কোন শব্দ বা বাক্যের মাধ্যমে করা যায়, তা আমার জানা নেই। হায়েনাদের এই রক্তের হোলি দেখে আজ সমগ্র পৃথিবীর শুধু মুসলমান নয়, যাদের ভেতর মানবতাবোধ আছে সবার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে।

মুফতী ফয়জুল্লাহ বলেন, নিহতরা সবাই আল্লাহতে বিশ্বাসী নিরপরাধ, নিরস্ত্র মুসলমান। এই অপরাধেই তাদের নিমর্মভাবে হত্যা করা হয়েছে। আজ যদি মুসলমান নামধারি কোন ব্যক্তি পৃথিবীর কোন প্রান্তে এই ধরনের ঘটনা ঘটাতো তাহলে পশ্চিমা শক্তি তান্ডব সৃষ্টি করতো। কিন্তু নিহতরা মুসলিম বলেই তারা নিরুত্তাপ ও দায়সারা বক্তব্য দিচ্ছে। তাদের কাছে মুসলমানদের রক্তের কোন দাম নেই। তারা মনে করে মুসলমানের রক্তের রং সাদা। এই যদি হয় অবস্থা তাহলে হত্যাকারীদের রক্তের রং লাল কিনা তা পরখ করার সময় এসেছে।

তিনি বলেন, আল্লাহর জমিনে আল্লাহতে বিশ্বাসী মুসলমানেরা যদি নিরাপদ না থাকে তাহলে যারা আল্লাহতে বিশ্বাসী নয়, তারা পৃথিবীতে নিরাপদ থাকবে কিনা তা আমাদের ভাবতে হবে। হামলা চালিয়ে মুসলমানদের অগ্রযাত্রা দমানো যাবে না। এই রক্তের মাধ্যমে শুধু নিউজিল্যান্ডে নয়, সমগ্র ইউরোপে ইসলামের আলোকিত আদর্শ পৌছে যাবে। আমি জাতিসংঘ এবং মুসলিম বিশ্বের প্রতিনিধিত্বকারী ওআইসিকে এই নিমর্ম হত্যাকান্ডের বিরুদ্ধে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করার আহবান জানাচ্ছি। যদি তা না করে মুসলমানদের ঘুম পাড়ানোর জন্য লোক কোন কোন পায়তারা বিশ্বের মুসলমানরা মেনে নেবে না।

ইসলামী ঐক্যজোটের ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুর রশিদ মজুমদার বলেন, খ্রিষ্টান সন্ত্রাসবাদী গুলি চালিয়ে মুসল্লীদের হত্যা করে মজজিদকে রক্তের বন্যা বইয়ে দিয়েছে। এই হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত মুসলমানদের আন্দোলন চলবেই।

ইসলামী ঐক্যজোট ঢাকা মহানগর সভাপতি মাওলানা আবুল কাশেমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মিছিল পূর্ব সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন ইসলামী ঐক্যজোটের যুগ্ম মহাসিচব মুফতী তৈয়্যব হোসাইন, মাওলানা শেখ লোকমান হোসাইন, মাওলানা আলতাফ হোসাইন, মাওলানা জিয়াউল হক মজুমদার, মুফতী সাইফুল ইসলাম, মাওলানা একেএম আশরাফুল হক, মাওলানা মনজুর মুজিব, মাওলানা হেদায়েতুল্লাহ গাজী, ছাত্রনেতা মু. খোরশেদ আলম, মু. নুরুজ্জামান, আবুল হাশিম প্রমুখ। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেইটে এসে মুনাজাতের মাধ্যমে শেষ হয়।