মসজিদে গণহত্যার দায় ট্রাম্প ও পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলোকেও নিতে হবে: ব্রিটিশ সাংবাদিক ইভোন রিডলি | insaf24.com

মসজিদে গণহত্যার দায় ট্রাম্প ও পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলোকেও নিতে হবে: ব্রিটিশ সাংবাদিক ইভোন রিডলি

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | আন্তর্জাতিক ডেস্ক


ব্রিটিশ সাংবাদিক ও লেখক ইভোন রিডলি বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো শ্বেতাঙ্গ রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি পশ্চিমা মূলধারার গণমাধ্যমগুলো নিউজিল্যান্ডের দু’টি মসজিদে চালানো খ্রিষ্টান সন্ত্রাসবাদী হামলার দায় এড়াতে পারে না।

তিনি এক নিবন্ধে লিখেছেন, পশ্চিমা রাজনীতিবিদ ও গণমাধ্যমগুলোকে এখনই ইসলাম-বিদ্বেষী প্রচারণায় বিরতি দিয়ে ক্রাইস্টচার্চের গণহত্যায় তাদের কি ভূমিকা আছে তা নিয়ে আত্মসমালোচনায় বসতে হবে।

শুক্রবার নিউজিল্যান্ডের দুই মসজিদে হামলা চালান ২৮ বছর বয়সি খ্রিষ্টান সন্ত্রাসবাদী ব্রেনটন ট্যারান্ট। নিজের মাথায় ক্যামেরা লাগিয়ে ১৭ মিনিট ধরে চালানো গণহত্যার ভিডিও তিনি ইন্টারনেটে লাইভ শেয়ার করেন। অনেকটা ভিডিও গেম খেলার মতো করে তিনি মুসল্লিদের ওপর পাশবিক গণহত্যা চালান।

এর আগে টুইটারে একটি ‘ইশতেহার’ প্রকাশ করে তিনি নিজের ইসলাম-বিদ্বেষী চিন্তাধারার কথা তুলে ধরেন। নিজেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একজন সমর্থক হিসেবে তুলে ধরে হামলাকারী বলেন, পুনরুজ্জীবিত শ্বেতাঙ্গ পরিচয়ের প্রতীক হিসেবে আমি অবশ্যই ট্রাম্পের একজন সমর্থক।

ইশতেহারে তিনি আরও বলেন, আমি মুসলিমদের অপছন্দ করি। আমি সেসব মুসলিমকে ঘৃণা করি, যারা অন্য ধর্ম থেকে এসে মুসলিম হয়।

এ সম্পর্কে ব্রিটিশ সাংবাদিক ইভোন রিডলি আরো লিখেছেন, নিউজিল্যান্ডে যা ঘটেছে সেজন্য ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় এসে ইসলাম বিদ্বেষী যে প্রচারণা শুরু করেছেন তাকে অবশ্যই দায়ী করতে হবে।

সেইসঙ্গে অন্যান্য যেসব শ্বেতাঙ্গ রাজনীতিবিদ পশ্চিমা মূলধারার গণমাধ্যমকে ব্যবহার করে মুসলমানদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়িয়ে দেওয়াকে পাশ্চাত্যে একটি স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত করেছেন। কাজেই তিনি এই মুহূর্ত থেকে এই ঘৃণ্য প্রক্রিয়ার ইতি টানার আহ্বান জানান।

তথ্যসূত্র: পার্সটুডে



নিউজিল্যান্ডে মসজিদে খ্রিষ্টান সন্ত্রাসবাদী হামলার প্রতিবাদে ইসলামী ঐক্যজোটের বিক্ষোভ
মার্চ ১৬, ২০১৯
ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | ডেস্ক রিপোর্ট


নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে খ্রিষ্টান সন্ত্রাসবাদী হামলায় ৪৯জন মুসলিম হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে ইসলামী ঐক্যজোট।

আজ (১৬ মার্চ) শনিবার বাদ আসর বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেইটে এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

মিছিলপূর্ব সমাবেশে ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী বলেছেন, শান্তির দেশ দাবীদার নিউজিল্যান্ডে একজন উগ্র খ্রিষ্টান সন্ত্রাসবাদী হামলার ছক একে প্রকাশ্যে দিবালোকে স্বয়ংক্রিয় বন্দুক তাক করে মসজিদে প্রবেশ করে মুসলমানদের উপর নৃশংস হত্যাযজ্ঞ ঘটালো, অথচ সে দেশের গোয়েন্দা সংস্থা তা আচ করতে পারল না। সেটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। আমি মনে করি, এই হামলা পূর্বপরিকল্পিত এবং মুসলমানদের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। নিউজিল্যান্ড সরকারকে খুনি ব্র্যান্টন ট্যারান্ট এর উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করার আহবান জানাচ্ছি। তা না হলে বাংলাদেশসহ মুসলিম বিশ্ব তথা বিশ্বের শান্তিকামী জনগণ জনগণ নিউজিল্যান্ডের সাথে সব ধরনের কুটনৈতিক সম্পর্ক ত্যাগ করবে। তিনি জাতিসংঘ ও ওআইসিকে এই নারকীয় হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানান।

ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতী ফয়জুল্লাহ বলেন, আল্লাহর ঘর মসজিদে বর্বরতম এই নিষ্ঠুর, পৈশাচিক হত্যাকান্ডের নিন্দা কোন শব্দ বা বাক্যের মাধ্যমে করা যায়, তা আমার জানা নেই। হায়েনাদের এই রক্তের হোলি দেখে আজ সমগ্র পৃথিবীর শুধু মুসলমান নয়, যাদের ভেতর মানবতাবোধ আছে সবার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে।

মুফতী ফয়জুল্লাহ বলেন, নিহতরা সবাই আল্লাহতে বিশ্বাসী নিরপরাধ, নিরস্ত্র মুসলমান। এই অপরাধেই তাদের নিমর্মভাবে হত্যা করা হয়েছে। আজ যদি মুসলমান নামধারি কোন ব্যক্তি পৃথিবীর কোন প্রান্তে এই ধরনের ঘটনা ঘটাতো তাহলে পশ্চিমা শক্তি তান্ডব সৃষ্টি করতো। কিন্তু নিহতরা মুসলিম বলেই তারা নিরুত্তাপ ও দায়সারা বক্তব্য দিচ্ছে। তাদের কাছে মুসলমানদের রক্তের কোন দাম নেই। তারা মনে করে মুসলমানের রক্তের রং সাদা। এই যদি হয় অবস্থা তাহলে হত্যাকারীদের রক্তের রং লাল কিনা তা পরখ করার সময় এসেছে।

তিনি বলেন, আল্লাহর জমিনে আল্লাহতে বিশ্বাসী মুসলমানেরা যদি নিরাপদ না থাকে তাহলে যারা আল্লাহতে বিশ্বাসী নয়, তারা পৃথিবীতে নিরাপদ থাকবে কিনা তা আমাদের ভাবতে হবে। হামলা চালিয়ে মুসলমানদের অগ্রযাত্রা দমানো যাবে না। এই রক্তের মাধ্যমে শুধু নিউজিল্যান্ডে নয়, সমগ্র ইউরোপে ইসলামের আলোকিত আদর্শ পৌছে যাবে। আমি জাতিসংঘ এবং মুসলিম বিশ্বের প্রতিনিধিত্বকারী ওআইসিকে এই নিমর্ম হত্যাকান্ডের বিরুদ্ধে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করার আহবান জানাচ্ছি। যদি তা না করে মুসলমানদের ঘুম পাড়ানোর জন্য লোক কোন কোন পায়তারা বিশ্বের মুসলমানরা মেনে নেবে না।

ইসলামী ঐক্যজোটের ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুর রশিদ মজুমদার বলেন, খ্রিষ্টান সন্ত্রাসবাদী গুলি চালিয়ে মুসল্লীদের হত্যা করে মজজিদকে রক্তের বন্যা বইয়ে দিয়েছে। এই হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত মুসলমানদের আন্দোলন চলবেই।

ইসলামী ঐক্যজোট ঢাকা মহানগর সভাপতি মাওলানা আবুল কাশেমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মিছিল পূর্ব সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন ইসলামী ঐক্যজোটের যুগ্ম মহাসিচব মুফতী তৈয়্যব হোসাইন, মাওলানা শেখ লোকমান হোসাইন, মাওলানা আলতাফ হোসাইন, মাওলানা জিয়াউল হক মজুমদার, মুফতী সাইফুল ইসলাম, মাওলানা একেএম আশরাফুল হক, মাওলানা মনজুর মুজিব, মাওলানা হেদায়েতুল্লাহ গাজী, ছাত্রনেতা মু. খোরশেদ আলম, মু. নুরুজ্জামান, আবুল হাশিম প্রমুখ। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেইটে এসে মুনাজাতের মাধ্যমে শেষ হয়।