বিএনপির নেতাদের দেখে মনে হয় তারা খালেদা জিয়ার জানাজা পড়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন : আসিফ নজরুল

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | নিজস্ব প্রতিনিধি


বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তার রাজনৈতিক জীবনে কখনো এত দীর্ঘসময় ধরে কারাভোগ করেন নি।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে তিনি গত বছর ৮ই ফেব্রুয়ারি থেকে ঢাকার পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে কারাভোগ করছেন।

এর মধ্যে দলটি তার মুক্তির দাবিতে আইনি এবং রাজনৈতিক বেশ কিছু কর্মসূচী দিলেও কোন সুবিধা করতে পারেনি।

গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত খালেদা জিয়াকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেন। পরে ওই বছরের ৩০ অক্টোবর খালেদা জিয়ার সাজা বাড়িয়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন হাইকোর্ট।

দলের সিনিয়র নেতারা প্রতিবাদ সভা করে খালেদা জিয়ার নি:শর্ত মুক্তির দাবি করেন। তারা সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন এবং বিগত নির্বাচনের সমালোচনা করেন। তারা নেতাকর্মীদের একত্রিত হয়ে তাদের ভাষায় লড়াই করার আহ্বান জানান।

তবে খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য দলীয় কোন কর্মসূচী ঘোষণা করেনি তারা।

এদিকে এসব দলীয় নেত্রীর মুক্তির বিষয়ে বিএনপির নেতাদের উদাসীনতাকে ইঙ্গিত করে রাজনৈতিক সমালোচক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল তাঁর ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ”বিএনপির নেতাদের দেখে মনে হয় তারা খালেদা জিয়ার জানাজা পড়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন।”

গত ২১ তারিখ ডক্টর আসিফ নজরুল তাঁর ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেন।

এর আগে বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে লিখা মাহফুজ উল্লাহ রচিত বেগম খালেদা জিয়া, হার লাইফ, হার স্টোরি বইয়ের মোড়ক মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে আসিফ নজরুল বলেছিলেন, দেশ ও জনগণের প্রয়োজনে খালেদা জিয়া সব কিছুই করেছেন। জনগণের স্বার্থেই তত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে পুনঃনির্বাচন দিয়েছিলেন। বাংলাদেশের আত্মমর্যাদার সমার্থক হচ্ছেন তিনিই। আর খালেদা জিয়া ভালো থাকলে বাংলাদেশও ভাল থাকে, তিনি ভালো না থাকলে বাংলাদেশও ভাল থাকে না।

তখন আসিফ নজরুল আরো বলেছিলে, দেশে রাজনৈতিক বোধগম্যতা আমাদের এত বেশি যে, কেউ যদি খালেদা জিয়া সম্পর্কে একটা ভাল কথা বললেই ধরে নেয়া হয় তিনি বিএনপি। আমরা এক আশ্চর্য রকমের মানসিকতা নিয়েই আমরা বসবাস করছি। কেউ জিয়াউর রহমানকে ভালবাসলে বঙ্গবন্ধুকে ভালবাসতে পারবেন না? যারা মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন তাদের সবাইকে মূল্যায়ন করতে সমস্যা কোথায়? শেখ হাসিনার প্রসংশা করতে পারলে, খালেদা জিয়ার প্রসংশা করতে দোষ কোথায়?

তিনি বলেছিলে, শুধু বিএনপি নয়, বাংলাদেশের ইতিহাস জানতে এই বই খুব গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক সংস্কৃতি বুঝতে খালেদা জিয়াকে নিয়ে লেখা বইটি পড়া দরকার। লেখকরা যদি কিছু লিখতে যায়, কেউ বলেন উনি আ’লীগ, কেউ বলেন উনি বিএনপি। আমাদের মন মানসিকতা এত পোর যে, কোনো লেখক সাহস করে কিছু লিখতে চায় না।

তিনি আরো বলেছিলে, বাংলাদেশের মতো দেশে খালেদা জিয়াকে নিয়ে বই লেখা খুবই কঠিন। বইটি লেখার মাধ্যমে অসাধারণ একটি সূচনা করেছেন সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ। বইয়ে খালেদা জিয়ার ১৫ আগস্টের জন্মদিন নিয়ে কথা আছে। লেখকের দাবি, এতদিন কেনো এই বিষয় নিয়ে কথা হয়নি। যখন খালেদা জিয়ার কঠিন সময়, তখনই এই বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক করা হচ্ছে।