আল্লামা শফীর লিখিত বক্তব্য পাঠ করলেন মাওলানা মুনির

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

_1806750225_n

আরজাবাদ থেকে  : বেফাকের ওলামা সম্মেলনে শাইখুল ইসলাম আল্লামা শফীর লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করলেন প্রেস সচিব ও মাসিক মঈনুল ইসলামের নির্বাহী সম্পাদক মাওলানা মুনির আহমদ।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়্যাহ বাংলাদেশের সভাপতি ও হাটহাজারী মাদরাসার মহাপরিচালক শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাহ্ আহমদ শফী বলেছেন, এদেশে কওমী মাদরাসাসমূহ দেওবন্দের নীতি আদর্শ মতে পরিচালিত হয়, কওমী সনদের ইস্যুসহ যেকোনো বিষয়ে দেওবন্দের নীতি আদর্শের পরিপন্থী কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই।

ভারতে দারুল উলূম দেওবন্দ যেভাবে পরিচালিত হয়, সনদের মান নির্ধারণে দেওবন্দের নীতিমালা যেরকম, এদেশে কওমী মাদরাসা পরিচালনা করা এবং সনদের মান নির্ধারণ সেভাবেই হতে হবে।

 

অন্য কোনো পন্থা মানা হবে না। বাংলাদেশে কওমী মাদরাসার সনদের সিকৃতি না থাকাটা নতুন সমস্যা নয়, এটা বৃটিশ আমল থেকে চলে আসছে, কিন্তু হঠাৎ করে বর্তমান ধর্ম নিরপেক্ষ সরকার কওমী সনদের সরকারী সিকৃতি দিতে অতি আগ্রহ প্রকাশ করছে। কোনো কোনো উলামায়ে কেরামের পক্ষ থেকে যেন তেনভাবে এ সিকৃতি গ্রহণে অতি উৎসাহী অপতৎপরতা গভীর ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত বহন করছে। গত কয়েক বছরের সংবাদ ও ঘটনা পর্যালোচনা করলে এ ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

কওমী স্বীকৃতির ষড়যন্ত্রের বিরোদ্ধে জোরদার ঐক্য গড়তে তুলতে হবে উলামায়ে কেরামকে।
প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে অদ্যাবধী দারুল উলূম দেওবন্দ মাদরাসা দীন ও ইসলামের বহুমূখী খেদমত আঞ্জাম দিয়ে আসছে, যার ফলে ইসলামী শিক্ষার প্রাণকেন্দ্র হিসাবে সারাপৃথিবীতে দারুল উলূম দেওবন্দ একটি বহুল পরিচিত প্রতিষ্ঠান, সাম্রাজ্যবাদী বৃটিশের হাত থেকে এ উপমহাদেশকে মুক্ত করার পিছনে দেওবন্দের অবদান অবিস্মরণীয়।

এদেশের কওমী মাদরাসাসমূহ সেই দারুল উলূম দেওবন্দেরই অনুসারী, দেওবন্দের মতই এসব প্রতিষ্ঠান ধর্মপ্রান মুসলমানদের সভ্যতা ও সংস্কৃতি, ঈমান-আমল, আখলাক ও নৈতিক চিন্তাধারা গঠণে মৌলিক ভূমিকা পালন করে আসছে এবং কোরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী চরিত্রবান দেশপ্রেমীক সুনাগরিক তৈরি করা এবং ইসলাম মহান বাণী সর্বস্তরের জনসাধারানের পৌছে দেয়া-ই কওমী মাদরাসার লক্ষ্য-উদ্দেশ্য। এদেশে কওমী মাদরাসার সাথে এদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের আত্মার সম্পর্ক বিদ্যমান। এ মাদরাসাসমূহ সম্পূর্নভাবে সায়ত্ব শাষিত। দেওবন্দের অষ্টক মূলনীতিই হলো এ প্রতিষ্ঠানসমূহের নির্দেশিকা।

এ মূলনীতির অন্যতম হলো- এসব প্রতিষ্ঠানের সকীয়তা ও মৌলিকত্ব অক্ষুন্ন রাখার স্বার্থে সরকারী সাহায্য গ্রহণ না করা ও নিয়ন্ত্রনমুক্ত থাকা। তবে এটা রাষ্ট্র বা সরকারের কর্তৃপক্ষ হওয়া নয় বরং দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করে ও সংবিধানের আনুগত্ব প্রদর্শনী (কুরআন-সুন্নাহ বিরোধী না হলে) কওমী মাদরাসা কখনো পিছপা হয়নি।

গত দেড়শত বছর থেকে স্বাধীনভাবে চলে আসা কওমী মাদরাসা সমূহের শিক্ষা সনদের মান দেওয়ার লক্ষ্যে কওমী মাদরাসা শিক্ষা কমিশন গঠন, বাংলাদেশ কওমী মাদরাসা শিক্ষা কর্তৃপক্ষ আইন প্রনয়নসহ বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কমিটি গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারীসহ সরকার নানান পদক্ষেপ নিয়েছে। এসব প্রক্রিয়ার পিছনে কারো কারো অতি মাত্রায় আগ্রহ সম্পর্কে আমরা কম-বেশি অবগত। কিন্তু এ বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। তাই কারো কারো অতি উৎসাহমূলক তৎপরতা দেখে কওমী মাদরাসার স্বকীয়তা, শায়ত্ব শাসন অক্ষুন্ন রাখার বিষয়ে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। কিন্তু আমরা মনে করি যে, শত বছর ধরে চলে আসা কওমী মাদরাসার স্বকীয় নীতি আদর্শ, স্বাধীন শিক্ষাক্রম, পরিচালনা বিন্দু মাত্রও নষ্ট হবে না এবং সরকারের নিয়ন্ত্রন থাকবে না এমন নিশ্চয়তা পেলেই আমরা সরকার থেকে দাওরায়ে হাদীসের সনদের মান নির্ধারণের বিষয়ে আলোচনায় বসতে পারি। অন্যথায় আমরা যেভাবে আছি সেভাবে থাকাই আমাদের জন্য নিরাপদ।

এর আগে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, জামিয়া হোসাইনিয়া আরজাবাদের প্রিন্সিপাল মাওলানা মোস্তাফা আজাদ। তিনি বলেন, সনদের স্বীকৃতির নাম করে কওমি মাদরাসাকে নিয়ন্ত্রণ করার পায়তারা চলছে। আমরা কওমি মাদরাসাসমুহে সরকারের কর্তৃত্ব চাইনা।