ইসলাম নিয়ে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকানের ধর্মান্তরিত স্ত্রীর ভাবনা

157960_1কেট ডাউনিং খালেদ (৩৩) একজন শ্বেতাঙ্গ আমেরিকান নারী। তিনি একটি খ্রিস্টান মেথডিস্ট পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। অনেক বছরের কৌতূহল এবং অধ্যয়নের পর ২৫ বছর বয়সে তিনি ইসলামে ধর্মান্তরিত হন।

তিনি ওই সময় তার বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত স্বামী তাকি’র সাক্ষাৎ পান। তার স্বামী একজন গ্র্যাজুয়েট।

খালেদ বড় হয়েছেন কানাডায়। তার পিতা একজন আমেরিকান এবং তার মা একজন কানাডীয় আমেরিকান। তিনি জানান, তার বাবার পরিবারের মূল শিকড় আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জন অ্যাডামসের শিকড়ের সঙ্গে সম্পর্কিত।

একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রে সম্প্রতি বিরোধী মুসলিম অনুভূতি নিয়ে তিনি কথা বলছেন।

খালেদ বাজফিড নিউজকে জানান, ৩ শিশুসন্তানকে নিয়ে তিনি আমেরিকার মিনেসোটায় বসবাস করছেন। একজন মুসলিম হতে পেরে তিনি নিজেকে নিয়ে গর্বিত বলেও তিনি জানান।

খালেদ জানান, তার দেশে মুসলিম বিরোধী বিদ্বেষ বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেকের মতো তিনিও গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

তিনি জানান, তিনি সবচেয়ে বেশি চিন্তিত যে এই ঘৃণ্য বিদ্বেষের কারণে তার সন্তানরা প্রভাবিত হতে পারে।

একারণে খালেদ সিদ্ধান্ত নেন বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে লেখালেখি করার। তার সহকর্মী আমেরিকানরা তার ধর্মকে কিভাবে ভয়ানকভাবে ঘৃণা করছেন সে সম্পর্কে শক্তিশালী বার্তা লেখেন তিনি।

ফেসবুকে তার লেখা একটি পোস্টের কিছু অংশ তুলে ধরা হল। তিনি লিখেন, ‘আমি ‘আমাদের’ এবং ‘তাদের’ (মুসলিম) নিয়ে একসঙ্গে জীবনযাত্রার একটি বাস্তব উদাহরণ। যদিও আমার পরিচয়ের এই ব্যক্তিগত অংশটি শেয়ার করা উচিত নয়। কিন্তু আমি নিশ্চিত নই অন্য আর কি করা যেতে পারে। আমার মতো আমেরিকান মুসলিমদের জন্য আপনাদের সাহায্য ও সমর্থনের প্রয়োজন অনুভব করছি। আমি এটাকে ‘আমাদের’ মতোই দেখি। সত্যিকার অর্থে আপনাদের এটা বুঝানোর প্রয়োজন অনুভব করছি যে, আপনারা তাদের (মুসলিমদের) যেভাবে দেখছেন প্রকৃতপক্ষে তারা তেমনটি নয়। তারা প্রকৃতপক্ষে একটি সুন্দর অংশ যা আমাদের মহান করে তুলেছে।’

তার বার্তা শিগগিরই ফেসবুক জুড়ে ছড়িয়ে এবং হাজার হাজার শেয়ার হয়। অনেকে তাকে সমর্থন করে রিপ্লাই দিয়েছেন এবং লিখেছেন, ‘তাদের বিশ্বাস সম্পর্কে তার পরিবারকে ভিন্নভাবে দেখা উচিত নয়।’

খালেদ জানান, তিনি সব ধরনের মানুষের কাছ থেকে সমর্থনসূচক বার্তা পেয়েছেন এবং তিনি আশা করেন শান্তির বার্তা হিসেবে এটিকে সবাই গ্রহণ করবে।

খালেদ বলেন, ইসলামের যে জিনিসটি তাকে আকর্ষণ করেছে তা হলো মুসলমানদের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের বিষয়টি।

‘আমি আরো ধ্যানমগ্ন ধর্মানুশীলন খুঁজছিলাম এবং ইসলামে সেটি খুঁজে পেয়েছি।’ তিনি বলেন।

তিনি বলেন, ‘তার স্বামী যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করেন কিন্তু তার বাবা-মা বাংলাদেশ থেকে অভিবাসী হয়েছেন। এটা তাদের পরিবারের মধ্যে এক আশ্চর্যজনক অভিজ্ঞতার সংমিশ্রন ঘটেছে।’

‘আমার আমেরিকান বাবা-মা এবং আমার শ্বশুর-শাশুড়ি এই সুন্দর সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন।’ তিনি বলেন।

ইসলাম বিরোধীদের বাগাড়ম্বরপূর্ণ উক্তির কারণে তিনি তার সন্তানদের নিয়ে চিন্তিত। এজন্য তিনি সন্তানদের বন্ধুদের কাছ থেকে দূরে রাখতে চান এই ভেবে যে, যদি তাদের (সন্তানেরা) বন্ধুরা কিংবা বন্ধুদের পরিবার সন্তানদের ভালভাবে গ্রহণ না করে।

‘যদি তারা বন্ধুদের কাছ থেকে প্রত্যাখ্যাত হয় তাহলে এটা আমার হৃদয়কে ভেঙ্গে চুরমার করে দেবে।’ তিনি বলেন।

খালেদ জানান, তার ধর্মের ইতিবাচক দিকগুলো মানুষের কাছে তুলে ধরার জন্য তিনি অনলাইনে লেখালেখির সিদ্ধান্ত সম্পর্কে বলেন, ‘আমি ভাবলাম আমার হাইস্কুল জীবনে যেসব বন্ধুরা মুসলমানদের নিয়ে ভয় পেত এ বিষয়ে লিখে অন্তত তাদের ভয় কিছুটা দূর করতে পারব।’

তিনি বলেন, ‘মানুষকে এটা বুঝতে হবে যে আমেরিকার বৈচিত্রের মতো ইসলামও একটি বৈচিত্র্যপূর্ণ ধর্ম এবং এটা একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ যা আমেরিকাকে আরো সুন্দর করবে যাতে আমরা সবাই একসঙ্গে শান্তিতে ধর্মানুশীলন এবং বসবাস করতে পারি।’


বাজফিড ডটকম অবলম্বনে মো. রাহল আমীন