মার্চ ২৪, ২০১৭

সুশিক্ষা ও কুশিক্ষার পার্থক্য বুঝতে হবে: মুনির আহমদ

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

মুনির আহমদ | আল্লামা শাহ আহমদ শফী’র প্রেস সচিব


মুনির আহমদ

মনীষীরা বলে গেছেন- Education in the useful change in knowledge in skill and in ideals. অর্থাৎ- শিক্ষা মানুষের জ্ঞানে, কর্মকুশলতায় এবং আদর্শে কল্যাণকর পরিবর্তন আনয়ন করে।

যদি তাই না হতো, তাহলে শিক্ষার কী প্রয়োজন? শিক্ষা যদি সর্বাঙ্গীন কল্যাণকর হয়, তবে সেটা ‘সুশিক্ষা’। আর যদি তার ব্যতিক্রম হয়, তবে তা ‘কুশিক্ষা’। সুশিক্ষা মানুষকে চারিত্রিক গুণে গুণান্বিত করে। আর কুশিক্ষা মানুষকে পথভ্রষ্ট করে। ফলতঃ পথভ্রষ্ট ব্যক্তির মধ্যে কোনো সৎ গুণাবলী দেখা যায় না, আচরণে ইতিবাচক কোন পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায় না।

রোগ নিরাময়ের জন্য আমাদেরকে ঔষধ সেবন করতে হয়। কোনো কোনো ঔষধ আছে, যার ক্রিয়া এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকে। তাই এ জাতীয় ঔষধ সেবনে কিছু সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়। যেমন- কোনো ব্যথানাশক ঔষধ সেবনের পূর্বে এ্যান্টাসিড, রেনিটিডিন, ওমিপ্রাজল জাতীয় ঔষধ সেবন করতে হয়, নতুবা ক্ষতির ভয় থাকে।

শিক্ষনীয় কোনো কোনো বিষয়ও এমন রয়েছে, যা পুরোপুরি কল্যাণকর হয় না, ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়ার ভয় থাকে। তাই শিক্ষাব্যবস্থায় ধর্মীয় এবং নীতিশিক্ষা একান্তই অপরিহার্য। ধর্মীয় এবং নৈতিকতাহীন শিক্ষাকে ভারসাম্যহীন বলব এজন্য যে, তাতে কর্মজীবনে দক্ষতা তৈরি করা গেলেও ব্যক্তির নৈতিক ও আদর্শিক চরিত্রে কল্যাণকর কোন পরিবর্তন আসে না। তাই সেটাকে কখনোই সুশিক্ষা বলা যাবে না।

আমি মনে করি, কতকগুলি উপদেশ বাক্য পড়িয়ে নৈতিক শিক্ষা বাস্তাবায়িত করা যায় না। তাতে কখনো কখনো হিতে বিপরীত ঘটার আশংকা প্রবল। বলা হয়ে থাকে- Example is better than advice. এটাই সঠিক।

নৈতিক শিক্ষাদানের জন্য পাঠ্য তালিকায় সদাচারী ধর্মপ্রাণ মহাপুরুষদের জীবনালেখ্য থাকতে হবে। তা থেকেই কার্যকর নৈতিক শিক্ষা দিতে হবে। লালসালু, হাজার বছর ধরে, বহিপীর, প্রগৈতিহাসিক, পদ্মানদীর মাঝি পড়ে দুর্ণীতি মিথ্যাচারিতা ও অনৈতিকতা ছাড়া, কোনো সুনীতি শেখার আশা নেই। অথচ সেগুলিই আমাদের ছেলে-মেয়েদের পঠ্য তালিকায় থাকে। আমাদের ছেলে মেয়েরা মাদকাসক্ত, চাঁদাবাজ, ধর্ষক, ইভটিজার, সন্ত্রাসী হবে না তো কি হবে!!!

স্কুল-কালেজের পাঠ্য পুস্তকে আমরা তাদের যা শেখাচ্ছি, তার মন্দটাই তাদের কাছে অধিক আকর্ষক হয়ে ওঠে।


ফেইসবুক থেকে নেয়া