কল্যাণপুর বস্তি উচ্ছেদে নিষেধাজ্ঞা; হাইকোর্টের আদেশই বহাল

pic a_114739ঢাকার কল্যাণপুরের পোড়া বস্তি উচ্ছেদে হাইকোর্টে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে আপিল বিভাগ।

রোববার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

একইসঙ্গে আপিল বিভাগ চার সপ্তাহের মধ্যে মামলাটি নিষ্পত্তির আদেশ দিয়েছে।

এরআগে গত ২১ জানুয়ারি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউটের জমি থেকে এই বস্তি উচ্ছেদ কার্যক্রমে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা দেয় হাইকোর্ট।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) এক আবেদনে বিচারপতি তারিকুল হাকিম ও বিচারপতি ভিষ্মদেব চক্রবর্তীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

একইসঙ্গে ‘যথাযথ আইন প্রক্রিয়া ছাড়া’ ওই বস্তির বাসিন্দাদের উচ্ছেদ ও হয়রানি না করতেও নির্দেশ দেয় আদালত।

এই আদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন করলে ২৪ জানুয়ারি চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর আদালত হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে।

একই সঙ্গে চেম্বার বিচারপতি তার আদেশে এ বিষয়টি আগামী ৩১ জানুয়ারি আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য দিন ধার্য করে দেন। আজ শুনানি শেষে হাইকোর্টের আদেশই বহাল থাকল।

গত ২১ জানুয়ারি কল্যাণপুরের পোড়া বস্তি জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ উচ্ছেদ করতে গেলে বস্তিবাসী বাধা দেয়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের আইনজীবী মো. সামীউল আলম সরকার বলেন, এ বস্তি উচ্ছেদের বিষয় নিয়ে ২০০৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), কোয়ালিশন ফর দ্য আরবান পুওর (কাপ) এবং দুজন বস্তিবাসী হাইকোর্টে একটি রিট করে। এ রিটের শুনানি নিয়ে একই সালের ২৮ ডিসেম্বর আদালত স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেয়।

এর মধ্যে ২০০৬ সালের ১০ জানুয়ারি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় বস্তি উচ্ছেদে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাছে পুলিশ চায়। এ উচ্ছেদ কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ চেয়ে বাদীপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৬ সালের ৬ জুন উচ্ছেদ কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা দেয় হাইকোর্ট। পরের বছর হাইকোর্ট এ রিট নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে বলে আদেশ দেয়।

আট বছরের বেশি সময়ে কোনো কার্যক্রম হাতে না নিলেও চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি মন্ত্রণালয় আবারো উচ্ছেদের জন্য পুলিশ চায় এবং পুলিশ নিয়ে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার সময় সংঘর্ষ হয়।