প্রয়োজনে মিয়ানমার অভিমুখে লংমার্চ করবে হেফাজত

unnamed-2আজ বাদ জুমা রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেইটের প্রতিবাদ সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেছেন, মিয়ানমারের রাখাইন মগদস্যু আর সেনাবর্বরতায় কবর রচিত হচ্ছে মানবাধিকারের। রাখাইন রাজ্যে নিরীহ নিরস্ত্র রোহিঙ্গা মুসলিমদের অসংখ্য ঘরবাড়ি জ্বলছে। সেখানে পুড়ছে মানবতা। জ্বলছে মানুষ। জ্বলেছে মুসলিম সভ্যতা-সংস্কৃতি। সন্ত্রাসী আক্রমণে-আগ্রাসনে প্রাণ হারিয়েছে নারী, শিশু এবং বৃদ্ধসহ হাজারো মুসলিম। কোথায় আজ মানবতা? কোথায় মানবিকতা? কোথায় মানবিক বিবেকবোধ? কোথায় মানবাধিকারের ধ্বজাধারী গলাবাজরা ? জাতিসংঘ কী করছে? কোথায় ওআইসি?

আজ শুক্রবার বাদ জুমা রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেইটে মিয়ানমারে মুসলিম নিধনযজ্ঞ ও রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর নৃশংস নির্যাতনের প্রতিবাদে হেফাজতে ইসলাম ঢাকা মহানগর আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে নেতৃবৃন্দ এ কথা বলেন।

বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশ শেষে এক বিশাল বিক্ষােভ মিছিল রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পূণরায় বায়তুল মােকাররমের উত্তর গেইেট সিনিয়র সহসভাপতি মাওলানা আবদুল হামিদ পীর সাহেব মধুপুরের মুনাজাতের মাধ্যমে কর্মসূচী সমাপ্ত হয়। এ সময় পুরানা পল্টন মােড় থেকে দৈনিক বাংলা মােড় পর্যন্ত রাস্তায় দু’পাশ ও আশপাশের পুরাে এলাকা বিক্ষুদ্ধ জনতায় সয়লাব হয়ে যায়। বলা যায়, ২০১৩এর পর রাজধানীতে এটিই ছিল হেফাজতের সর্ববৃহৎ শােডাউন।

হেফাজত ঢাকা মহানগরীর সভাপতি মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমীর সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সমাবশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন মহানগর কমিটির প্রধান উপদেষ্টা মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস, প্রধান বক্তা ছিলেন মহানগর সেক্রেটারি মাওলানা আবুল হাসানাত আমিনী। বক্তব্য রাখেন- ঢাকা মহানগরীর সিনিয়র সহসভাপতি মাওলানা আবদুল হামিদ (পীর সাহেব মধুপুর), মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী, মাওলানা জাফরুল্লাহ খান, কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর সহসভাপতি মুফতী ফয়জুল্লাহ, অধ্যাপক আহমদ আবদুল কাদের, মুফতি তৈয়্যেব হোসাইন, মাওলানা মুহিউদ্দীন একরাম, মাওলানা যোবায়ের আহমদ, মাওলানা ফজলুল করীম কাসেমী, মাওলানা জসিমুদ্দীন, মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, মাওলানা শেখ লোকমান হোসাইন, মাওলানা আলতাফ হোসাইন, মাওলানা ফখরুল ইসলাম, মাওলানা ফয়সাল আহমদ প্রমুখ।

সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমী বলেছেন, বার্মায় মুসলমানদের গণহত্যা চলছে, তা দেখে কোন মুসলমান চুপ থাকতে পারে না। আমি বাংলাদেশ সহ সারা বিশ্বের মুসলমানদের রোহিঙ্গা মুসলিমদের পাশে দাঁড়ানোর আহবান জানাচ্ছি। বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে তাঁদের নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করা ।

প্রধান অতিথির বক্তব্য মহানগর কমিটির প্রধান উপদেষ্টা মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস বলেন, ও আই সি মুসলমানদের রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে। মুসলমানদের রক্ষার জন্য প্রয়োজন পৃথক জাতিসংঘ গঠন করুন। পার্শ্ববর্তী দেশের মুসলমানদের রক্ষার জন্য ইসলামী জিহাদ এখন ফরজে আইন হয়ে পড়ছে।

মাওলানা আবুল হাসানাত আমিনী সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা মুসলমানদের জন্য সীমান্ত খুলে দিন। প্রয়োজনে তাঁদের জন্য প্রাচীর ঘেরা শরণার্থী শিবির করুন। যদি টাকা না থাকে তবে এর খরচের দায়িত্ব হেফাজত বহন করবে। প্রয়োজনে আমার পৈত্রিক সম্পত্তি বিক্রি করে ওদের জন্য কুরবান করে দেবো। আমাদের সর্বস্ব উজাড় করে দেবো।

সমাবেশে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর সহসভাপতি মুফতী ফয়জুল্লাহ বলেছেন, অবিল¤ে॥^ এই হত্যাঝঞ্জ বন্ধ করা না হলে, লাখো কালেমাপড়া এই নিরন্ন, নিঃস্ব মুসলমানের জন্য,অসংখ্য মুসলিম মা-বোনের জন্য টেকনাফ অভিমুখে শান্তিপূর্ণ লংমার্চ করতে বাধ্য হবো। একজন মুসলিম মেয়ের আর্তনাদ শুনে হাজ্জাজ বিন ইউসুফের মতো শাসক হিন্দুস্তানে সেনাবাহিনী প্রেরণ করেছিলেন তেমনি ভাবে মুসলমান হিসেবে মুসলমানদের রক্ষার জন্য আমাদেরকে সব কিছু করতে প্রস্তুত থাকতে হবে।

এমন ভয়াবহ বর্বরতা দেখেও নির্বিকার সন্ত্রাসী সুচিকে শান্তিতে দেওয়া নোবেল পুরস্কার ফেরত নেওয়ার দাবি জানিয়ে মুফতী ফয়জুল্লাহ বলেন, সুচি সাম্প্রদায়িক সংঘাতকে পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে। মিয়ানমারের মুসলিমদের সুচির নেতৃত্বাধীন ক্ষমাতসীন দলের নিয়ন্ত্রিত আরমিরা পাখির মতো খুন করছে। এরপর তিনি শান্তিতে নোবেলজয়ী পরিচয় দিতে পারেন না।

বক্তারা বলেন, মিয়ানমারের রাখাইন মগদস্যু আর সেনাবর্বরতায় কবর রচিত হচ্ছে মানবাধিকারের। রাখাইন রাজ্যে নিরীহ নিরস্ত্র রোহিঙ্গা মুসলিমদের অসংখ্য ঘরবাড়ি জ্বলছে। সেখানে পুড়ছে মানবতা। জ্বলছে মানুষ। জ্বলেছে মুসলিম সভ্যতা-সংস্কৃতি। সন্ত্রাসী আক্রমণে-আগ্রাসনে প্রাণ হারিয়েছে নারী, শিশু এবং বৃদ্ধসহ হাজারো মুসলিম। কোথায় আজ মানবতা? কোথায় মানবিকতা? কোথায় মানবিক বিবেকবোধ? কোথায় মানবাধিকারের ধ্বজাধারী গলাবাজরা ? জাতিসংঘ কী করছে? কোথায় ওআইসি?