জানুয়ারি ২৫, ২০১৭

মায়ানমারের দুতাবাস ঘেরাও কর্মসূচী ঐক্যবদ্ধভাবে করা হোক

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

মুফতী হারুন ইজহার (হেফাজতের কেন্দ্রীয় নেতা)


পেশাদার নিষ্ঠাবান ও নির্ভরযোগ্য সাংবাদিকদের মাধ্যমে জানতে পেলাম মায়ানমারের আরাকানে লোমহর্ষক উৎপীড়ন অব্যাহত রয়েছে এবং এপারের প্রতিবাদী হৈচৈ ওপারের বুড্ডিষ্ট মানবহন্তাদের উপর কোন প্রভাব বিস্তার করেনি।

শুক্রবারের উত্তাল বাংলাদেশে এখন সফল প্রতিবাদ- প্রদর্শনীর আত্মতৃপ্তির ঢেকুর তুলছেন সকলে। এটাই আমাদের বাস্তবতাবিবর্জিত রাজনৈতিক সংস্কৃতির চরিত্র। চিৎকারটা করার পর কাজ হলো চিৎকার করেছি- এটা বলতে থাকা।
আমাদের সত্যবাদিতা সম্পর্কে মগের মুল্লুকের হায়েনাগুলোর আইডিয়া আছে। কুফ্ফারের ধৃষ্টতার জোরটা মুসলমানের অসত্যবাদী আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই নিহিত।

জিহাদের কথা বাদ দিলাম। রাজনীতিটাইতো ঠিক মত করতে জানিনা। আরকানমুখী কোন কিছুর প্রয়াস নিলে তার উপর মিডিয়ার তরফ থেকে জঙ্গীবাদের ট্যাগ লেগে যায়। সরকারের পক্ষ থেকে সৃষ্টি হয় সন্দেহের বেড়াজাল। তাই সমকালীন প্রেক্ষাপটে প্রজ্ঞার দাবী হলো রাজপথে সময় কম ব্যয় করে সরকারী ও প্রশাসনিক পর্যায়ে অন্দর মহলের তৎপরতাকে জোরদার করা। ডায়ালগের মাধ্যমে বুঝানো, উদ্বুদ্ধ করা,বাধ্য করা। প্রয়োজনে জনশক্তির চাপে তাদেরকে কঠিন বার্তা দেয়া।

বার্মিজ যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের একটা রাজনৈতিক ও সামরিক কড়া ধমক আদায় করে নিতে হবে। নীপিড়িত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মুক্তিসংগ্রামে সাহায্যের জন্য সরকারকে বাধ্য করার সকল উপায় অবলম্বন করতে হবে। এ একমুখী লক্ষ স্থির করেই রাজপথে ও আলোচনাটেবিলে সরব হতে হবে। কিন্তু এখন যা হচ্ছে তাতে জনসচেতনতার কাজটাই হচ্ছে যাতে রোহিঙ্গা মুসলিমের নগদ কোন লাভ নেই। স্রেফ সীমান্ত খুলে দেয়ার দাবীও তাদের সংগ্রামের জন্য যথেষ্ট নয়।

এখনই মোক্ষম সুযোগ। এর পূর্বে রোহিঙ্গা মানবিক সংকটের ইস্যুতে এতো বড় জাতীয় ঐক্য ও রাজনৈতিক আন্দোলন গড়ে উঠেনি। স্বার্থবাদী বি বি সির অনুকরণে ও সোশ্যাল মিডিয়ার ধাক্কায় সেক্যুলার মিডিয়াও প্রথমবারের মত রোহিঙ্গাবান্ধব হয়ে উঠছে মনে হয়।

মায়ানমার দুতাবাস ঘেরাও কর্মসূচি প্রয়োজনে তারিখ পরিবর্তন করে ঐক্যবদ্ধভাবে করা হোক। মজলুমানের এ স্পর্শকাতর ইস্যুতে আমরা শাইখুলইসলাম আমীরে হেফাজতের পাশে মোহতারাম চরমোনাই পীর সাহেবকে এক সাথে দেখতে চাই। এটা কওমী স্বীকৃতির চেয়েও জরুরী, এটা বিশ্ব ইজতিমার চেয়েও জরুরী। এটা ওয়াজ মাহফিল গুলোর চেয়েও জরুরী।

চেতনায় কওমী মাদ্রাসা’ও কিছুদিনের জন্য রূপান্তরিত হোক চেতনায় মজলুমান’ এ। আলা হাল বাল্লাগতু, আল্লাহম্মা ফাশহাদ্!


ফেসবুক থেকে