বাবা-মা’ই সন্তানের শ্রেষ্ঠ বন্ধু ! : তানভীর বিন আব্দুস সালাম

জীবনচলার বিভিন্ন অধ্যায়ে আমরা অন্যের উপর নির্ভর করতে বাধ্য হই ৷ অন্যের পথনির্দেশ আর পরামর্শের চরম প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয় আমাদের জীবনের অনেকাংশে ৷ আমরা যাই বন্ধুর নিকট,মেয়েরা যায় বান্ধবীর নিকট৷ তারা পরামর্শ দেয় তাদের সাধ্য ও চিন্তানুযায়ী ৷ কেউ কল্যাণের পথ দেখায়,সাহায্য করে সফল হতে ৷

আর কেউ পূর্ব শত্রুতাবশত বা হিংসায় বলে বাহ্য কল্যাণের পথে চলতে আর ভুল সিদ্ধান্ত দিয়ে আড়ালে হাসে কৃত্রিম সাফল্যে ৷ তারা ধ্বংস ও ব্যর্থতার দিকে ঠেলে দেয় বন্ধুকে, বন্ধুত্বকে! আমাদের বন্ধুমহল পুরোটাই ভালো-মন্দের মাঝে দোদূল্যমান ৷ এই মহলেই জন্মে বিশ্বাসঘাতকতা,শত্রুতা ৷

এখানেই সৃষ্টি হয় হিংসা আর অমঙ্গল কামনা ৷ বন্ধুত্বের জন্ম, মৃত্যু দুটো’ই প্রকাশ হয় প্রচলিত বন্ধুকাননে ৷ আমাদের বন্ধুমেলায় বাবা নেই, মা নেই ৷ বন্ধুকাননের এ শাখায় রাশেদ ও শাখায় খালেদ সহ আরো অনেকে ! ক্ষুদ্রতম কোন শাখাতেও নেই আমাদের মা,আমাদের বাবা! বাবা-মা’কে বন্ধু বানানো দোষের ভাবে অনেকে৷ বন্ধুঘরে তাদের সামান্য ঠাঁই দিতেও দ্বিধা করি আমরা ৷

আমরা ভয় করি বাবা-মা’কে৷ লজ্জাবোধ করি প্রয়োজনীয় নাজানা’কে তাদের থেকে জানতে! অথচ তারাই প্রকৃত বন্ধু৷ কেবল তাদের দিকনির্দশনাই ষড়যন্ত্রমুক্ত ও শঙ্কাহীন ৷

বিয়ের কথাই বলা যাক ৷ এবিষয়ে সন্তানরা কিছুতেই শেয়ার করতে চায়না মা-বাবাকে৷ জীবনের সবচে কঠিন ও সবচে নতুন এই অধ্যায়ে তাদের পরামর্শের কোন প্রয়োজনই মনে হয়না আমাদের অনেকের ৷ আমরা ছুটে যাই প্রচলিত বন্ধুমহলে ৷

অনুপ্রবেশ করি নতুন জীবনে বন্ধুদের অপরিপক্ক সিদ্ধান্তে৷ ফলে ভেঙ্গে পড়ে মাঝপথে অনেকগুলি বন্ধন, মুচড়ে পড়ে অনেকগুলো স্বপ্নঘর৷ আর কতক গৃহ যদিও ঠিকে থাকে কিন্তু তা হয় জীর্ণ নিঃসাড় কুঁড়েঘরের ন্যায় ৷  প্রশান্তির বিন্দুটুকুও অবশিষ্ট থাকেনা বন্ধুদের পরামর্শে বাঁধা ঐ স্বপ্ননীড়ে৷

কেন! আমরা পারিনা আমাদের মা-বাবার নিকট জেনে নিতে বৈবাহিক জীবনের আগত জটিলতা ও তার উপযুক্ত সমাধান? তারাও তো ছিলেন আজকের আমাদের মতো ৷ তাদেরও তো বৈবাহিক জীবন প্রথম ছিল একসময় ৷ সমস্যার চরম ঝড়,তুফান শেষে আজকে তারা আমাদের মা,আমাদের বাবা ৷

আমাদের বন্ধুরা তো সেদিনের! কী’ই বা সমাধান জানে তারা? অথচ সুদীর্ঘ এই জীবনে বাবা-মা দেখেছেন কত ধরণের নকশা, কত প্রাকারের সমস্যা! তারা সামাধান দিয়েছেন সেসবের শান্ত চিত্তে প্রভুর সহায়তায় ৷ আমরা তাদের অভিজ্ঞতার নিকটই না হয় তুলে ধরি আমাদের অজ্ঞতাকে,আমাদের নাজানা’কে!