জানুয়ারি ২৫, ২০১৭

হেফাজতের সাথে বৌদ্ধদের বৈঠক নিয়ে বিবিসির জ্বালাপোড়া

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |


বিবিসির আকবর সাংবাদিকতার এথিকস ভঙ্গ করেছেন



পিনাকী ভট্টাচার্য


গত একবছরের মধ্যে বাংলাদেশের সবচেয়ে ইতিবাচক সিগনিফিকেন্ট রাজনৈতিক ঘটনা ঘটেছে কয়েকদিন আগে। হেফাজত আমীরের সাথে বৌদ্ধধর্মীয় নেতাদের বৈঠক হয়েছে। সমস্যা হল; এটা অনেকেরই পছন্দ হয় নাই। জ্বলতেছে।

এই বৈঠক নিয়ে বিবিসি বাংলা একটা খবর সম্প্রচার করেছে। সেখানে তারা বৌদ্ধ নেতাকে একাধিকবার জিজ্ঞেস করেছেনঃ

“হেফাজতে ইসলামের সাথে আপনারা দেখা করতে গেলেন কেন???”

আসলে সাংবাদিক সাহেবকে পাল্টা প্রশ্ন করতে হত, যাবেনা কেন?

নাসিরনগরে আমরা দেখেছি কারা এই হামলা সংগঠিত করেছে, কারা ট্রাক ভাড়া করেছে, মানুষ জোগাড় করে হিন্দুদের উপর হামলা সংগঠিত করেছে। করেছে সরকারদলীয় এমপি। আর রাষ্ট্র কী করেছে? রাষ্ট্র সবকিছু জেনেও সংশ্লিষ্ট এমপিকে ইনডেমনিটি দিয়েছে। তাহলে বিবিসি তুমি বল, রাষ্ট্রের কাছে কেন যাবে বৌদ্ধরা?

রাষ্ট্র যখন ফেইল করতে থাকে তখন নিজ প্রয়োজনেই নতুন প্রজাতন্ত্রের আলামত একটু একটু করে সমাজ তৈরি করতে থাকে। সমাজ সক্রিয় হতে থাকে। হেফাজতের সাথে বৈঠক সেই সক্রিয় হয়ে ওঠা সমাজের চিহ্ন সম্ভবত। যেখানে দুই সম্প্রদায় ডায়ালগ করে নিজেদের সমস্যা নিয়ে কথা বলছে,একজন আরেকজনের সাহায্য চাইছে; একসাথে গড়ে উঠতে চাইছে; কারণ অনেক দূর তাদের একসাথে যেতে হবে। এবং এই ডায়ালগে মুসলিম সম্প্রদায়ের সবচেয়ে প্রবীণ ও শ্রদ্ধাভাজন ধর্মীয় নেতা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে আশ্বস্ত করছেন যে মায়ানমারের ঘটনার নেতিবাচক প্রভাব বাংলাদেশের বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের উপর পরবে না।

বাংলাদেশ ভবিষ্যৎ রিপাবলিকের জন্য তৈরি হচ্ছে, নতুন রাজনৈতিক সম্পর্ক নির্মিত হচ্ছে, বৌদ্ধ সম্প্রদায় আর হেফাজতের মিটিং সেই ভবিষ্যৎ রিপাবলিকের গড়ে উঠার ক্ষেত্রে তাৎপর্যপুর্ণ হয়ে উঠুক সে কামনা করি। হেফাজতের নেতৃবৃন্দ যে বৌদ্ধধর্মীয় নেতাদের সাথে পরস্পর দেখা করতে, পরস্পরকে আস্থায় নিতে পেরেছেন এতেই আমরা অনেকদুর এগিয়েছি।

এইটা বিবিসির মাথার উপ্রে দিয়া যাইতেছে, তাই এইটা তারা বুঝবে না, বা বুঝলেও না বুঝার ভান করবে। বিবিসির চাইতে আমি সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক আকবর হোসেনের সাংবাদিকতার মান নিয়ে বিস্মিত।

বিবিসির আকবর হোসেনের বক্তব্যে যেটা সবচেয়ে আপত্তিকর তা হল তিনি আগাম ধরে নিয়েছেন হেফাজত যেন একটা দোষী সংগঠন; অথবা সম্ভাব্য দোষী সংগঠন। আকবর হোসেনের এই আগাম অনুমানের আচরণ অমার্জনীয়। আগাম অনুমান নিয়ে যে প্রশ্ন করে সে আর সাংবাদিক থাকেন না। তিনি বরং এক হেফাজত ও ইসলাম বিদ্বেষের এজেন্ট হয়ে হাজির হয়েছেন। সাংবাদিক চেহারায় তিনি উস্কানিমূলক সাজেশন রেখে মন্তব্য করছেন। বলছেন, বৌদ্ধদের মধ্যে হেফাজতকে নিয়ে অস্বস্তি আছে, তাই নেতারা নাকি হেফাজতের তরফ থেকে কোন সমস্যা হতে পারে কি না তা বুঝতে গেছেন। এটাই আকবর হোসেনের উস্কানিমূলক সাজেশন। কোন সাংবাদিক এই সীমা ছাড়ানো কাজ করতে পারেন না। আকবর সাংবাদিকতার এথিকস ভঙ্গ করেছেন। বিবিসি কীভাবে এমন একজনকে দিয়ে সাংবাদিকতা করায় সেটা একটা বিস্ময়।

বিবিসির সংবাদটি শুনতে চাইলে এই লিংকে দেখুনঃ লিংক 


ফেসবুক থেকে