মার্চ ২৪, ২০১৭

আল্লামা শফীর সাথে বৌদ্ধদের সাক্ষাৎ; মিডিয়া কেন নেতিবাচক ছিল?

আল্লামা শফীর সাথে বৌদ্ধদের সাক্ষাৎ; মিডিয়া কেন নেতিবাচক ছিল?

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |


মুফতী হারুন ইজহার
হেফাজতের কেন্দ্রীয় নেতা


বাংলাদেশের মুসলমানদের প্রধান কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্ব আমীরে হেফাজতের সাথে বৌদ্ধ প্রতিনিধি দলের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতটি সামাজিক ও রাজনৈতিক কারণে কতটুকু তাৎপর্য রাখে তা আমরা কম বেশি হয়তো সকলে বুঝি।

রোহিঙ্গা মুসলিম নিধনের প্রেক্ষাপটে কিছু সতর্কতামূলক দৃষ্টিভঙ্গিও আছে। থাকতই পারে।

কিন্তু আমাদের আরো বেশী করে বুঝার ও ভাবার বিষয়টি অন্য জায়গায়। মিডিয়া নামক যন্ত্রটির ভূমিকা কেন এ ব্যাপারে নেতিবাচক ছিল? কেন সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে উচ্চকন্ঠে সোচ্চার এ অঙ্গনে ব্যপারটা সমাদৃত হলোনা? তারা তো সেটা লুফে নেওয়ার কথা ছিল।

আমাদের সমাজ ভাবনা আর রাজনৈতিক চেতনার মাঝে ‘শত্রু- মিত্র তত্ত্ব’ সক্রিয় নয়। তাই আমরা কথায় কথায় আসল শত্রু খুজে বেড়াই হিন্দুদের মধ্যে, আইনশৃংখলা বাহিনী আর আওয়ামি লীগের মধ্যে। আমরা একটা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তৈরী করেছি, কিন্তু আসল শত্রু চিহ্নিতকরণে কোন আদর্শিক মেরুকরণের পথে কদম বাড়াইনি।

বাংলাদেশের সমস্ত গোলযোগ আর সংঘাতের অন্তরালে যারা সংস্কৃতির (মিডিয়া যার একটি অংশ) মুখোশ ধারণ করে অদৃশ্য জায়গা থেকে কলকাঠি নেড়েই যাচ্ছে তাদের মানস-বিচার করিনি আমরা। তাদের পরিকল্পনাটাও অনুধাবনে সক্ষম হইনি।

মূলতঃ তারাই বাংলাদেশের প্রধান শত্রু। মুসলিম বাংলাদেশের জাতীয় সিলেবাসের পূর্ণ সেক্যুলারইজেশন আর পৌত্তলিকীকরণটা হয়েছে তাদের স্কীম অনুসারে।

আওয়ামি লীগের ভূমিকা হচ্ছে অনেকাংশে ক্রিড়নকের। এরকমভাবে অন্যান্য রাজনৈতিক ও সংস্কৃতিক এজেন্ডাগুলো। আমরা ভারতের কথাও কম বলিনা। কিন্তু নব্য সে আধিপত্যবাদের পথ এতোটা কে মসৃণ করে দিল?বরং বহু ক্ষেত্রে তো তাকে ডেকে ডেকে আনা হয়েছে!

কমিউনিজম, পাশ্চাত্য মূল্যবোধ, পৌত্তলিকতা আর বাঙ্গালী সংস্কৃতির মিশ্রিত উপাদানে জগাখিচুড়ি মার্কা বাংলাদেশীয় উগ্র সেক্যুলারবাদ কখনও ইসলামপন্থীদের সাথে সংখ্যালঘুর সুসম্পর্ক কামনা করেনা।

তাতে তাদের অসম্প্রদায়িকতার বাণিজ্য বন্ধ হবে, যে বাণিজ্যের পণ্য হল হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান।

জগাখিচুড়ির কোন গভীর ভিত্তি না থাকায় সংকটকে জিয়ে রাখার মাধ্যমে তাদের মতবাদের দৃষ্টান্তগুলো বেঁচে থাকে, মিডিয়া আষ্ফালন বেচে থাকে, উস্কানি আর প্রপাগান্ডা বেঁচে থাকে। জুজুর ডর-ভয় মুক্ত বৌদ্ধের ঘুম তাদের কাম্য নয়।

দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়ে হেফাজত যদি এবার এন জি ও এবং নারী আন্দোলনের প্রতিনিধিদের সাথে সংলাপের আয়োজন করে তাতে বিদ্বেষী সেক্যুলারদের গাত্রদাহ আর গা জ্বালা আরও বেড়ে যাবে। কারণ,নারী অধিকারের ধর্মনিরপেক্ষ ব্যাবসাটাও গচ্ছা যাবে।