আচানক জ্বলে ওঠে দ্রোহের দাবানল

আচানক জ্বলে ওঠে দ্রোহের দাবানল

সাইফ সিরাজ

 

আচানক জ্বলে ওঠে দ্রোহের দাবানল
সাইফ সিরাজ

একটা ঐতিহাসিক ভুলের মাঠে
আকাশ আর পাতালের বন্ধুত্ব হতেই
চারপাশে জেগে ওঠে কিছু মোহগ্রস্ত
আগাছার লোভার্ত অগ্নি-জিহ্বা।

আকাশপুরের বন্ধুরা আভিজাত্যের
অসার চিকনাই ধরে রাখে চেহারায়
দু’চোখ তাদের নামে না পাতালপুরে
বেখাপ্পা ঠেকে শত মাইলের ব্যবধান
প্রগলভ অহংকারে স্থুল মাথায় নামে
ধাতব নির্ভরতায়; প্রভুত্বের অভিলাষ!

সহজ জীবনের সরল অভিযাত্রিকেরা
অধিকারের আশায় চেয়ে থাকে দূরে
দূরগম্য মহা-মতিরা কূটচালে নামে
হঠাৎ আমাদের বঞ্চিত পাতালপুরে
নাতিশীতোষ্ণ মার্চের আরাম-লোভে।

মাথাহীন সেই সব ইতিহাস-মূর্খরা
জানে না এ পাতালের মাটি মহাদূর্গম
পদানত জীবনের কোন আলেখ্য নেই
হাজার বছরের সমৃদ্ধ ইতিহাসে তার।

জলপাই রঙে পাপিষ্ঠ রোবটেরা আসে
ধাতব আগুনের ভরসায় উল্লাসে মাতে
বারুদের নিক্ষেপ-নাদে কাঁপে কবিয়াল
শত শত চোখে নামে ভয়ার্ত অন্ধকার
সহজ ধ্বংসের লোলুপ জিহ্বা ও চোখে
হানাদারেরা দেখে আমাদের পরাজয়।

অতঃপর ভয়েরাও জেগে ওঠে বিক্রমে
নেতার কণ্ঠেও প্রদীপ্ত বুলেট-চিৎকারে
আচানক জ্বলে ওঠে দ্রোহের দাবানল
চাষার কাস্তে হয়ে যায় তীক্ষ্ণ বেয়োনেট
প্রিয়ার আঁচলে ঠাঁই নিল আস্ত গ্রেনেড
শান্তির সুশান্ত পায়রাগুলো নেমে এলো
হল, বোর্ডিং আর মায়ের আঁচল ফেলে
কবির কোমল হাতে গর্জে মেশিনগান
আজন্ম বাউলের গানে সুতীব্র চিৎকার
মাঝির ভাটিয়ালি-ভাওয়াইয়ার সুরে
জেগে ওঠে যুদ্ধ-মুক্তির অদম্য উল্লাস।

জীবনবাজীর দৃপ্ত শপথে মুষ্ঠিবদ্ধ হয়
রগের মানচিত্র ওঠা বৃদ্ধদের সব হাত
মাটির ধুলো, নদীর জল, আর দেশের
ফলজ বৃক্ষের প্রতি শাখায় জ্বলে ওঠে
অত্যাচারের বিরুদ্ধ বিদ্রোহের আগুন
ধাতব আগুনের ওপরে প্রেমিক জনতা
ঢেলে দেয় তপ্ত-তরল জলজ প্রতিরোধ।

মায়ের আর বোনের কান্নায় রেগে ওঠে
জীবন, ক্ষমতা আর আরশের মালিক
সরল শান্ত, সহজ মানুষের প্রতিরোধে
ভাঙ্গে গরল শাসকের বুলেট অহংকার।

অতঃপর একদিন মানবিক অহংকারে
পদানত হয় ঠিক দানবের উদ্ধত শীর।