মার্চ ২৪, ২০১৭

মহানবীর জীবনাদর্শ উম্মতের জন্য অনুসরণীয়

মহানবীর জীবনাদর্শ উম্মতের জন্য অনুসরণীয়

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |


এহসান বিন মুজাহির


মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শুভাগমন ও ইন্তেকাল মানব ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ট ঘটনা। এর চেয়ে অত্যাধিক আনন্দদায়ক, শ্রেষ্টত্ব ও অবিস্মরণিয় কোন ঘটনা বিশ্বের মানচিত্রে দ্বিতীয় ঘটেনি। রবিউল আউয়াল মাসের গুরুত্ব অপরিসীম এতে কোন সন্দেহ নেই। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামর শুভাগমনের কল্যাণে জাহেলিয়্যাত, শিরক, পৌত্তলিকতা ও বর্বরতার ঘোর অমানিশায় নিমজ্জিত দুনিয়ায় হিদায়াতের নূর উদ্বাসিত হয়। জাহিল ও পথভ্রান্ত জাতি হিদায়াতের পরশ পেয়ে জান্নাতের সন্ধান পায়। নবীর আগমনে মানবজাতি দ্বীনের রাস্তার সন্ধান লাভ করে। এমন নবীর আগমনের মাস অবশ্যই অপরিসীম গুরুত্বের দাবি রাখে। বিশ্বনবীর মিলাদ-সিরাত আলোচনা নিঃসন্দেহ গুরুত্বপূর্ণ সওয়াবের কাজ। নবীর জীবনচরিত আলোচনার মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহ ঈমানের চেতনাকে আরও শাণিত উদ্বেলিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখে।

রবিউল আউয়ালের ১২ তারিখ নবীজীর জন্ম হয়েছিলো এ নিয়ে ঐতিহাসিকগণ একমত নন। জন্ম তারিখ নিয়ে ঐতিহাসিকগণের মাঝে মতভেদ রয়েছে। কেউ বলেছেন ৯ রবিউল আউয়াল, আবার কারো মতে ১২ রবিউল আউয়াল। পক্ষান্তরে ১২ রবিউল আওয়ালে নবীর ইন্তেকাল হয়েছিল এ নিয়ে কারো দ্বিমত নেই। তাঁর মিলাদ (জন্ম) ১২ রবিউল আওয়াল সবার কাছে যেমন ছিল ছিল আনন্দের, তেমনি ওফাতুন্নবী (নবীর ইন্তেকাল) ১২ রবিউল ছিল বিরহ শোকের। নবী নেই তাতে কি? নবীর সিরাত (৬৩ বছরের জীবনী) তো আছেই? নবীর সিরাত সর্ম্পকে আল্লাহপাক কুরআন কারীমে ইরশাদ করেন, ‘তোমাদের মধ্যে রাসুলুল্লাহর জীবনে রয়েছে সর্বোত্তম আদর্শ’। (সূরা আহযাব:২১)

মূল কথা, নবীর মিলাদ, ওফাত উম্মাহর জন্য কোন মূল বিষয় বিষয় নয়। তাঁর দীর্ঘ ৬৩ বছরের জিন্দেগীই (আদর্শ) উম্মতের জন্য অনুকরণীয়।

আল্লাহপাক ইরশাদ করেন, ‘যদি তোমরা রাসূলকে অনুসরণ কর, তবেই তোমরা সত্যপথের সন্ধান পাবে’। (সূরা নূর: ৫৪)
জেনে রাখা দরকার যে, রাসূলের অনুসরণ ব্যতিত ইহ ও পরকালে নাজাত পাওয়া নিতান্তই দুরূহ ব্যাপার। রাসুল্লাহ (সা:) এর অনুসরণের মাঝেই সকল প্রকারের সাফল্য নিহিত।

এসর্ম্পকে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘যে কেউ আল্লাহর আনুগত্য করে এবং রাসুলের অনুসরণ করে সে অবশ্যই মহাসাফল্য লাভ করবে’। (সূরা আহযাব:৭১)

রাসুলের আদর্শ বিচ্যুত হয়ে মুখে নবীপ্রেমের প্রস্বতি গেয়ে মুক্তির আশা করা এবং আশেকে রাসুল দাবি করা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এবং অবান্তর। রাসুলকে ভালবাসার নিদর্শন হচ্ছে তাঁর আনুগত্য ও অনুসরণ করা।

এ সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, ‘আপনি বলে দিন, যদি তোমরা প্রকৃতই আল্লাহর প্রতি ভালবাসা পোষণ কর তবে আমার অনুসরণ কর, তাহলে আল্লাহ তোমাদের ভালবাসবেন এবং তোমাদের গোনাহ মাফ করে দেবেন’। (সূরা ইমরান:৩১)

রাসুলের আদর্শ অনুসরণ না করে মুখে রাসুলপ্রেমিক সাজা প্রতারণা নয় কি?।

বুখারি শরিফে উল্লেখ রয়েছে, নবীজী বলেন-‘আমার উম্মতের সকল লোকই জান্নাতী হবে অস্বীকারকারী ব্যতিত। জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসুল! অস্বীকারকারী কে? উত্তরে রাসূল বললেন, যে আমার অনুসরণ করবে সে বেহেশতে প্রবেশ করবে, আর যে আমার নাফরমানী করবে সে অস্বীকারকারী’। রাসুল অনুসরণের অর্থ হলো; তাঁর আদর্শ গ্রহণ করা, ব্যক্তিগত ও ধর্মীয় জীবন থেকে নিয়ে সর্বক্ষেত্রে রাসুলের আদর্শ মেনে চলা। আল্লাহপাক আমাদেরকে সকল ক্ষেত্রে রাসুলের আদর্শ অনুসরণের তাওফিক দান করুন।