একুশ শতকে সীরাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রাসঙ্গিকতা

একুশ শতকে সীরাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রাসঙ্গিকতা

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |


খন্দকার মুহাম্মদ হামিদুল্লাহ


বর্তমান শতাব্দীকে জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উৎকর্ষের জন্য আধুনিকতার বসন্তকাল বিবেচনা করা হয়। যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক উন্নতি, জীবনযাপনের নানা উপকরণের নতুনসব উদ্ভাবন আর সহজ-লভ্যতার চলমান সময়টাকে আধুনিক যুগ নামেও ডাকা হয়। তবে পাশাপাশি যাদের জন্য পৃথিবীর এতো আয়োজন তাদের সামগ্রিক অবস্থাদৃষ্টে গোটা বিশ্বের সমাজবিজ্ঞানী ও চিন্তাশীল ব্যক্তিবর্গকে বিভিন্ন সময়ে বেশ আক্ষেপ করতে দেখা যায়। কথা উঠে আসে বস্তুগত সভ্যতার অভাবনীয় উন্নতি ঘটেছে; মানুষ চাঁদের পর মঙ্গল গ্রহে যাচ্ছে। কিন্তু মানুষের মনুষ্যত্বের উন্নতি-অবনতির হিসেব মিলাতে গেলে আশার আলো নিপ্রভ। ব্যক্তিগত পর্যায় থেকে সামষ্টিকতার সবক’টি ধাপে মানুষ ক্রমেই যেন অন্ধকারে অবগাহন করছে। ফলে বিবেক ও সুস্থবোধের তাড়নায় পৃথিবীর প্রায় সর্বত্রই বারবার ঘুরেফিরে উচ্চকিত হচ্ছে মানবাধিকারের কথা, নারী অধিকার ও মর্যাদা-ইস্যু, হারিয়ে যাওয়া সুস্থ-সুন্দর জীবনের কথা, সামাজিক ন্যায়বিচারের বিষয়, স্বাধীনতার কথা, মানুষের সার্বিক নিরাপত্তার অভাব ও চূড়ান্ত মুক্তির প্রসঙ্গ। আজকের একুশ শতকের ঠিক এ সময়টিতে এসে বিশ্বনবী, সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল মুহাম্মদ সা. এর সীরাতের প্রাসঙ্গিকতা হাজির হয়।

ব্যক্তির নৈতিক উৎকর্ষ
মুখ ও লজ্জাস্থানকেন্দ্রিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমেই ব্যক্তির নৈতিকতায় ধস নামে। এগুলোকে সংযত ও নিয়ন্ত্রণে রাখার মাধ্যমে মানুষ ফেরেশতার চাইতেও শ্রেষ্ঠ আর মর্যাদাবান হতে পারে। মিশকাতুল মাসাবিহ গ্রন্থে বর্ণিত একটি হাদিসে আল্লাহর রাসূল সা. বলেন, ‘যে ব্যক্তি তার দুই চোয়াল ও উরুদ্বয়ের মধ্যবর্তী স্থানের (সীমালঙ্গণ ও অপব্যবহারের) ব্যাপারে আমাকে নিশ্চয়তা দেবে আমি তাকে জান্নাতের নিশ্চয়তা দেব। মিশকাতের অপর এক হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, ‘উত্তম চরিত্রই এককথায় পূণ্য বা সওয়াবের নিয়ামক’। অনুরূপভাবে আল্লাহর রাসূল সা. মিথ্যা, প্রতারণা, ব্যভিচার ও মদজুয়াকে ব্যাপকভাবে নিরুৎসাহিত করেছেন। মিথ্যাকে সকল পাপের মূল আখ্যায়িত করে তিনি বহুবিধ পাপের উৎসমুখ বন্ধ করেছেন। মদ্যপানের কারণে যেহেতু মানুষ হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে যেকোনো গুনাহের কাজ খুবই সহজেই সংঘটিত করতে পারে তাই পর্যায়ক্রমে মদ্যপানকে শূন্যের কোটায় এনে এক পর্যায়ে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছেন। আজকের সমাজে মিথ্যা, প্রতারণা ও মাদকাসক্তি বড় বড় সামাজিক ব্যধির অন্যতম।

নৈতিক অবক্ষয়ের সাম্প্রতিক চিত্র
এক সময়ের পাশ্চাত্য সংস্কৃতি লিভটুগেদার এবং এর পরিণতিতে ব্যক্তিগত জীবনে চরম বিশৃঙ্খলা, সহিংসতা ও নানা রকমের মরণব্যাধির শিকার হয়ে অশান্ত জীবনের চিত্র আর এখন পশ্চিমে সীমাবদ্ধ নেই। এটি আমাদের পার্শ্ববর্তী ভারতসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন মুসলিম দেশেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। আবহমানকালের ধর্মীয় তাহযীব-তামাদ্দুনের বিপরীত জীবন, পরিবার ও সমাজবিধ্বংসী এ কুসংস্কৃতির বিস্তারে বিভিন্ন সংস্থা, কতিপয় মিডিয়া ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে প্রায় খবর আসে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘটিত মানবসভ্যতা ও মনুষ্যত্ব চরমভাবে লজ্জিত করার মতো অমানুষিক ঘটনা। আমাদের দেশের চিত্রও ক্রমেই সেই অবয়ব ধারণের পথে অগ্রসর হচ্ছে। জোরপূর্বক শ্লীলতাহানি আর ধর্ষণের হিসেব বাদ দিলেও পশ্চিমাধাঁচের কথিত বয়ফ্রেন্ড-গার্লফ্রেন্ড তথা ছেলে বন্ধু-মেয়ে বন্ধু সংস্কৃতি তলে তলে মহামারীর আকার ধারণ করছে। পারস্পরিক সম্মতিতে বিবাহপূর্ব শারিরিক সম্পর্ক  যা ধর্মীয় দৃষ্টিতে ব্যভিচার অহরহ চলছে। এর পরিণতিতে সমাজে আত্মহত্যা, পারিবারিক হত্যাকাণ্ডসহ বহু সহিংসতা সংঘটিত হচ্ছে। সম্প্রতি একজন ক্রিকেটার ও চিত্রনায়িকার কথিত ‘প্রেমকাহিনী’ ও বিবাহপূর্ব অবৈধ শারিরিক সম্পর্কের কদর্য ইতিবৃত্ত সমাজের ভয়াবহ দৃশ্যপটের কেবল একটি পার্শ্বচিত্র।

একজন অমুসলিম আল্লাহর রাসূলের কাছে আরজ করলেন, আমি ইসলাম গ্রহণ করতে চাই তবে আমার একটি শর্ত আছে। রাসুলুল্লাহ সা. জিজ্ঞেস করলেন, কী শর্ত ? তিনি বললেন, আমাকে ব্যভিচারের অনুমতি দিতে হবে। এ ব্যাপারে আমার বিশেষ দুর্বলতা আছে ….। রাসূল সা. তাকে বললেন, তোমার শর্ত মানতে পারি তবে তুমি আমার একটি প্রশ্নের উত্তর দাও কেউ যদি তোমার বোন, মা, অথবা কন্যার সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হয় তখন তুমি কী প্রতিক্রিয়া দেখাবে ? লোকটি বললো, আমি তার গর্দান উড়িয়ে দেব। এবার আল্লাহর রাসূল সা. তাকে বললেন, তাহলে তুমি আমাকে বলো, তুমি যার সাথে ব্যভিচারে (বিয়েবহির্ভূত শারিরিক সম্পর্ক) লিপ্ত হবে সে নিশ্চয় কারো বোন, মা কিংবা কন্যা! তাহলে তার প্রতিক্রিয়া কি তোমার মতোই হওয়ার কথা নয় ? লোকটি তৎক্ষণাৎ নিজের ভুল বুঝতে বললেন, আমি কোনো শর্ত ছাড়াই ইসলাম গ্রহণ করবো। কাজেই আজকের নীতিবিবর্জিত সমাজের স্বস্তি, শান্তি ও বিশ্বস্ততার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে রাসূলুল্লাহর আদর্শ একবিংশ শতাব্দীতেও বরাবরই প্রাসঙ্গিক তা আবারও প্রমাণিত হয়।

সুন্দর ও প্রশান্তিময় পারিবারিক সচলায়তন :
পাশ্চাত্যে ক্রমেই পরিবারব্যবস্থার বিপর্যস্ত হবার ফলে সৃষ্টি হচ্ছে নানা সংকট। আসলে সুস্থ ও সমৃদ্ধ পরিবার একটি সুস্থ ও সমৃদ্ধ সমাজ ও সভ্যতার জন্ম দেয়। অপরদিকে, পারিবারিক বিপর্যয় সভ্যতা ধ্বংসের কারণ হতে পারে। রাসূলের আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে সুন্দর প্রশান্তিময় পারিবারিক সচলায়তন গড়ে তোলা সম্ভব। সীরাতে রাসূল সা. সাহাবিদের সোনালি জীবন অধ্যয়ন করলে এ বাস্তবতার বহু দৃষ্টান্ত আমরা দেখতে পাবো।

সমাজ সংস্কার ও নারীর উচ্চ মর্যাদা প্রতিষ্ঠা
মহানবী হযরত মুহাম্মদ যেসব সংস্কার ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছিলেন, সামাজিক অসাম্য দূরীকরণ ছিল তার মধ্যে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও সুদূরপ্রসারী। নিছক জন্মগত বা বংশগত কারণে একের ওপর অপরের প্রাধান্য তিনি স্বীকার করতেন না। যুগ যুগ ধরে মানুষ কায়েমী স্বার্থের খাতিরে যেসব সামাজিক বৈষম্য গড়ে তুলেছিলে রাসূলে করিমের সা. প্রবর্তিত সাম্যের বিধান তার মূলোচ্ছেদ করলো। তিনি ঘোষণা করলেন, ‘সব মানুষ সমান, মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ সে ব্যক্তি যিনি আল্লাহর প্রতি অধিকতর অনুগত ও মানুষের সর্বাধিক কল্যাণকামী। তাঁর শিক্ষা ও আদর্শের প্রভাবে অল্পকালের মধ্যে আরবে অসাম্য দূরীভূত হলো। তিনি দুনিয়ার বুকে বিশ্বমানবের এমন এক ভ্রাতৃত্ব কায়েম করলেন যেখানে উঁচু-নিচু, ধনী-নির্ধন, কালো-সাদার কোনো বৈষম্য রইলো না।

সমাজজীবনে নারীকে উচ্চমর্যাদা দান তাঁর আরেকটি অভূতপূর্ব বৈপ্লবিক সংস্কার। ইসলামের আবির্ভাবে আগে অপর কোনো ধর্ম নারীকে উপযুক্ত মর্যাদাদানের ব্যবস্থা করেনি। সামাজিক জীবনে নারীরা ছিল অবজ্ঞাত এবং তাদের ভোগের সামগ্রী হিসেবেই শুধু গণ্য করা হতো। ৬৩২ খ্রিস্টাব্দে বিদায় হজের ভাষণে তিনি বলেন, ‘হে জনগণ! নারীদের সম্পর্কে তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় তোমাদের সহধর্মিনীগণের ওপর তোমাদের যেরূপ অধিকার আছে, তোমাদের ওপরও তাদের অধিকার আছে অনুরূপ। মোদ্দাকথা, রাসূলুল্লাহর (সা.)-এর কল্যাণেই নারী জাতি সর্বপ্রথম পারিবারিক মর্যাদা ও সামাজিক নিরাপত্তার গ্যারান্টি পায় এবং নিজেদের যোগ্য আসনে আসীন করার অধিকার ফিরে পায়। মানব-সভ্যতা ও ধর্মের ইতিহাসে এ প্রথম নারী তার ন্যায্য সম্পত্তি পাওয়ার এবং রক্ষণাবেক্ষণ করার অধিকার পেল। রাসূলুল্লাহ নারীদেরকে তাদের পছন্দকৃত স্বামীগ্রহণের পূর্ণ স্বাধীনতা প্রদান করেন। কন্যা সন্তান হত্যা নিষিদ্ধ করেন। উপরন্তু মেয়ে- বোন লালন-পালনকারীদের জান্নাত লাভের সুসংবাদ দেন (মহানবী সা.-এ সময়ে মদীনার সমাজ ও সংস্কৃতি, ড. আ ফ ম খালিদ, পৃ. ২৯ খতিবে আযম ফাউন্ডেশন, এপ্রিল ২০১৪)।

শত্রুর প্রতি মানবিক আচরণ ও মানবাধিকার প্রসঙ্গ
যুদ্ধের ময়দানেও রাসূলুল্লাহ সা. শত্র“র প্রতি বর্বরতা ও নৃশংসতার পরিচয় দেননি। তিনি মুসলিম সেনাদের প্রতি স্পষ্টত নির্দেশ জারি করেন, আল্লাহর নামে আল্লাহর পথে জিহাদ কর, যারা আল্লাহর সাথে কুফরী করে তাদের বিরুদ্ধে লড়াই কর। জিহাদ কর কিন্তু গনীমাতের খেয়ানত করো না, বিশ্বাসঘাতকতা করবে না, নিহত ব্যক্তির নাক-কান-পা ইত্যাদি কেটে বিকৃত করবে না। শিশু হত্যা করবে না। আজকে পৃথিবীর যেখানেই দুর্বলের বিরুদ্ধে শক্তিমানের আগ্রাসন কিংবা দুই শক্তি পরস্পরের বিরুদ্ধে লড়ছে প্রায় সবখানেই বেসামরিক লোকদের হত্যা করা হয়, লোকালয় জ্বালিয়ে দেয়া হয়, নারী-শিশু-বৃদ্ধ অসুস্থ নির্বিশেষে সকলকে হামলার লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়। বিয়ের আসর, জানাযার নামাজে সমবেত মানুষের ওপর বোমা বর্ষণ করা হয়। অথচ তারাই মানবাধিকারের বড় বড় বুলি আওড়ায়। রাসূল সা. তার উম্মতকে পরিষ্কার নির্দেশনা দিয়েছেন এবং নিজের জীবৎকালে দেখিয়ে গেছেন, শত্র“ যদি অস্ত্র সমর্পণ করে তাকে হত্যা করা যাবে না, অসামরিক লোকদের ওপর হামলা করা যাবে না। নারী-শিশু ও বৃদ্ধদেরকে নিশানা করা যাবে না।

মেহনতী মানুষের অধিকার প্রসঙ্গ
একুশ শতকের এ আধুনিক যুগেও ন্যায্য অধিকার ও প্রাপ্য মর্যাদার জন্য বহু কাঠখড় পোড়াতে হয়। শ্রমিক বঞ্চনার দৃষ্টান্তও দুনিয়াজুড়ে কম নয়। ইসলামের নবী শুধু শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠার দর্শন পেশ করে তাঁর দায়িত্ব শেষ করেননি; বাস্তব জীবনে তার এমন প্রয়োগ দেখিয়েছেন, যার উদাহরণ পৃথিবীতে দ্বিতীয়টি নেই। ক্রীতদাস বেলাল (রা.) মুক্ত হবার পর স্বাধীন সাহাবিদের মতো সমান মর্যাদা লাভ করলেন; এমনকি খোলাফায়ে রাশেদীনের প্রথম খলিফা, নবীর পর সকল মুসলমানের মধ্যে যার মর্যাদা সকলের শীর্ষে সেই হযরত আবু বকর রা. বেলাল (রা.)-কে ‘আমাদের নেতা বেলাল’ এ ভাষাতে সম্বোধন করেন। রাসূলুল্লাহ সা. বলেন, তোমরা যাদেরকে চাকর বলো; তারা আসলে তোমাদের ভাই। আল্লাহ তাদেরকে তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন, অতএব, যার ভাই তার অধীনস্থ হয় সে যেন তার খাওয়া-পরা তেমনি দেয় যেমনটি সে নিজে খায় ও পরিধান করে। এবং তার উপর যেন অসহনীয় কোনো বোঝা না চাপিয়ে দেয় (বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ শরীফ)। বিখ্যাহ হাদিস গ্রন্থ ইবনে মাজার এক বর্ণনায় আছে শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগেই তার মজুরি পরিশোধ করো।

সামাজিক ন্যায়বিচার প্রসঙ্গ
আজকের সমাজে ন্যায়বিচার প্রাপ্তির বিষয়টি ধর্ম, বর্ন, শ্রেণী-গোষ্ঠী সকলের অভিন্ন অধিকার। যে ন্যায়ভ্রষ্ট বিচার মানুষকে আইন নিজের হাতে তুলে নেবার প্রবণতাকে উস্কে দেয়। সমাজে ন্যায় বিচারের অনুপস্থিতিতে একদিকে জোর-জুলুম, শোষণ অবিচারের রাজত্ব কায়েম করে অন্যদিকে ন্যায়বিচার বঞ্চিত মানুষ বঞ্চনার ক্ষোভ থেকে নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ে, প্রতিপক্ষের উপর প্রতিশোধ নিতে বৈধ-অবৈধ যেকোনো পথ অবলম্বনে উৎসাহিত বোধ করে। ফলে সামাজিক শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা এক সময় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে সমাজে নেমে আসে নৈরাজ্য, অশাস্তি ও সর্বব্যাপী অরাজকতা। রাসূলের নবুওতি মিশনের অন্যতম লক্ষ্য ছিল জুলুমের অবসান ঘটিয়ে সর্বক্ষেত্রে ন্যায়বিচার, ইনসাফ ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করা। আইনের চোখে যে, সবাই সমান তা তিনি হাতে-কলমে দেখিয়েছেন। মাখযুম গোত্রীয় এক সম্ভ্রান্ত এক মহিলার বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া নির্ধারিত শাস্তি কার্যকরের সময় রাসূলের সা. একান্ত øেহভাজন উসামা ইব্ন যায়েদ সুপারিশ করলে তিনি তাঁকে বলেন, আল্লাহর দন্ডবিধির

ব্যাপারে সুপারিশ করছো ? অতঃপর সকলের উদ্দেশে তিনি ঘোষণা করেন :
‘হে মানবমণ্ডলী ! …আল্লাহর কসম! আমার কন্যা ফাতিমাও যদি চুরি করতো তবে আমি তার হাত কেটে দিতাম (মহানবী সা.-এ সময়ে মদীনার সমাজ ও সংস্কৃতি, ড. আ ফ ম খালিদ, পৃ. ৩৮, খতিবে আযম ফাউন্ডেশন, এপ্রিল ২০১৪)।
আজও যদি রাসূলের আদর্শ প্রতিষ্ঠা করা হয় তবে গোটা দুনিয়ায় আবারো সোনালি সমাজ গড়ে উঠবে। পৃথিবীর আবারও দেখবে দুনিয়ার বুকে এক টুকরো জান্নাত।