জানুয়ারি ২৪, ২০১৭

হে রাসুল তোমাকেই ভালোবাসি

হে রাসুল তোমাকেই ভালোবাসি

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

আবদুল্লাহ আল ইমরান


পৃথিবী দিন দিন বাস অযোগ্য হয়ে যাচ্ছে। সবলের আক্রমণ দূর্বলের প্রতি বৃদ্ধি পাচ্ছে। অন্ধকার-অমানিশায় ছেয়ে যাচ্ছে এ বাসযোগ্য পৃথিবী। অন্যায় ছাড়া মানুষগুলো কাজ ভুলে গেছে। অন্ধকার গাড় অন্ধকার! গোটা দুনিয়ার আকাশ-বাতাস পাপের বিষ বাষ্পে বিষাক্ত। মানুষের মত দেখালেও তারা আর মানুষ নেই। মানবতা তাদের নিকট বিলুপ্ত প্রায় শব্দ। নীতি নৈতিকতার সাথে তাদের দেখা নেই।

রব্বে কারিম যেন এমন একটি সময় চেয়েছিলেন। অমানুষদের নিকট ‘মানুষ’ পাঠিয়ে তাঁদের সোনার মানুষে রূপান্তরিত করবেন। তাঁদের দেখে পৃথিবী বিস্মিত হবে। কবির কলম থেমে যাবে। গায়কের সুর হারিয়ে যাবে। থমকে যাবে সবাই, অবাক হয়ে দেখবে তাঁদের। সে শুভক্ষণ এসে গেল। কিসরার দম্ভের গম্বুজ ভেঙ্গে, সহস্র বছরের শিখা চিরন্তন নিভিয়ে এলেন ধরার বুকে চির শান্তির দূত। রহমতেরর পয়গাম নিয়ে এলেন রাহমাতুল্লিল আলামিন।

এই মহামানব আজন্ম এতিম হয়ে পৃথিবীর আলো দেখলেন। কিছুদিন পর মায়ের সাথে বাবার কবর দেখতে এসে মাকে হারালেন। এ তো শোকের উপর মহাশোক। এর সান্ত্বনা কোনো যবানে আজো উচ্চারিত হয়নি। বুঝতে শিখার আগেই হারানের ব্যথা অনুভব করলেন। পিতা-মাতাহীন চাঁদমুখ পৌত্রের শোকে বৃদ্ধ দাদা আব্দুল মুত্তালিব কাতর বিহ্বল। ছেলে-বৌ হারিয়ে তিনি শোকে মূক। ভাষা হারানোর উপক্রম। এ বয়সে আর যেন সইতে পারেন না। ভেবে ভেবে দিশেহারা। তিনি দৃঢ় সংকল্প করেন নাতিকে আগলে রাখবেন। ভুলিয়ে রাখবেন মা-বাবার অভাব। ঘটে তাই যা কুদরতের ফয়সালা থাকে। কুদরত সবার জ্ঞানের উর্ধ্বে।

শিশু নবীর ওপর দাদার ছায়াও দীর্ঘ হল না। দাদাকে হারিয়ে আরব দুলাল শোকে মুষড়ে গেলেন। যিনি ধরার জন্য শান্তির দূত, তাঁকে অনেক কড়াই উতরে যেতে হবে। এটাই পরাক্রমশালির ইচ্ছা। দাদা হারানোর ব্যথা লাঘব করতে এগিয়ে এলেন প্রিয় চাচা আবু তালিব। চাচার আশ্রয়ে ভালো যাচ্ছিলো কিশোর নবীর। ব্যবসাও শিখছেন তাঁর সাথে। যৌবনে পদার্পণ করতে করতে তাঁর জোশ-খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ছে সারা মরু আরবে। তাঁর পুত-পবিত্র চরিত্র মাধুরি, আর বিশ্বস্ততায় আরবে তিনি অদ্বিতীয়।

ধনবতী খাদিজাও শুনলেন এমন মানবের কথা। তাঁর সাথে ব্যবসায়ী চুক্তি করলেন। তাঁর অনুপম ব্যবহার আর ব্যবসায়িক দূরদৃষ্টি তাঁকে রীতিমতো আকৃষ্ট করল তাঁকে। এখন আর বাণিজ্যে নয় তাঁকে চান সারা জীবনের জন্য। মুহাম্মদের চরিত্র মাধুরি দেখে তিনি রীতিমত চকিত। মুখ খুলে বলতে যত সংশয়। দুদ্যোল্যমনায় আছেন,
কি বলবেন মুহাম্মাদ?
তাঁর ভালোবাসা আবেগ-অনুভূতি বুঝবেন তিনি?
সাড়া দিবেন তাঁর হৃদয়ের ডাকে?
সব দ্বিধা-দ্বন্দ্ব দূরে ঠেলে একদিন পৌঁছে দিলেন মুহাম্মাদের কাছে তাঁর মনের আকুতি। তিনিও সাড়া দিলেন তাঁর ডাকে। চাচা আবু তালিবের উপস্থিতিতে শুভ বিবাহ সুসম্পন্ন হল। ধনাঢ্য খাদিজার আর কিছু চাইনা। যত সম্পদ সব স্বামীর খেদমতে। মন-প্রাণ উজাড় করে ভালোবাসতেন স্বামীকে। ধ্যানে মগ্ন মুহাম্মাদ দুনিয়ার মোহে মহিমান্বিত নন।

মরু আরবের তপ্ত বালুকণা থেকে জমজমের শীতল পানি কিছুই আকৃষ্ট করে না তাঁকে। দুনিয়ার জৌলুশ আর চাকচিক্য কিছুই মাতায় না তাঁকে। কোরেশের আত্ম গৌরবে আর গোত্র কলহতে তিনি নিমজ্জিত নন। তিনি ধ্যানে মগ্ন থাকেন। সূর্য কে উঠায় আবার অস্তমিত করেন কে! কার ইশারায় ধরার বুকে সব কিছু ঘটে। হেরায় তিনি থাকেন উগ্র জাতির চিন্তা-ফিকির নিয়ে। গুণবতী খাদিজা স্বামীর খোঁজ-খবর নেন যথাসময়ে। এতে কোন ত্রুটি নেই। তিনি মহান স্বামী, উত্তম বন্ধু। তিনিই সমাজবিদ।

শুভক্ষণে গুরুগম্ভীর বিষয় নিয়ে এলেন জিবরীল। এ বাণীরর জন্য তিনি মনোনীত। তাঁকে অনেক অগ্নি পরিক্ষা দিতে হয়েছে এর জন্য। খাঁটি সোনা পুড়ে আরো খাঁটি করা হল। জিবরাইল বললেন “পড়ুন সে প্রভুর নামে, যিনি আপনাকে সৃষ্টি করেছেন”। মুহাম্মদ সা. রীতিমত ভয় পেলেন এলেন প্রিয়তম স্ত্রীর কাছে। বললেন সবিস্তারে, বিনা বাক্যব্যয়ে মেনে নিলেন তিনি। শান্তনা দিয়ে দৃঢ় করে তুললেন। পেলেন নবুয়তির গুরুদায়িত্ব। শুরু হলো দাওয়াতি কার্যক্রম। নিরিবিলি চললো কিছুদিন। তিনি উম্মতের শুভাকাঙ্ক্ষী, মহান শিক্ষক। আদর্শ পথপ্রদর্শক।

এ কর্মশালা কুফরেব ভীত নাড়িয়ে দিচ্ছে। তাওহীদের ডাকে আত্মাকে প্রশান্ত করছে অনেক হৃদয়। কোরেশের কুদৃষ্টি পড়ল সে দিকে। কোন ছলচাতুরী, হুমকি-ধমকি, লোভ-লালসায় কোনো কাজে আসল না। চাচা আবু তালিব দৃঢ়প্রত্যয়ে সহযোগিতা করলেন ভাতিজাকে। তিনি দাওয়াতকে আরো প্রসারিত করলেন। আল্লাহ খাঁটি সোনাকে আবারো কষ্টিপাথরে ঘষা দিলেন। নিয়ে গেলেন প্রেয়সী খাদিজা ও দয়ারপরশ প্রিয় চাচাকেও। ক্ষত উপর আরো ক্ষত। পুরাণ ঘা থেকে নতুন করে রক্তক্ষরণ। তিনি ধৈর্যের অপার সম্ভার, তিনি দৃঢ়তার উপমা।

কোরেশ মরুদুলালের পৃথিবী সংকুচিত করে দিচ্ছে আর থাকতে দিচ্ছে না স্মৃতির মক্কায়। চলে গেলেন দূর তায়েফে। তারাও তো বুঝেনি সম্মানিত মেহমানের কদর। জখম করল সেই বদন, যেখানে মশা বসা ছিল হারাম। তিনি বদদোয়া করেননি। দুর্ভগা ভারতমাতা তোমার ললাটে জোটেনি সেই পবিত্র ধুলি। তোমার বক্ষে পদাচারণ করনি সেই মহামানব। ফিরে এলেন প্রাণের মক্কায়। ভাবছেন হয়ত মক্কা এবার আমায় হতাশ করবে না। বাপ-চাচা, দাদা নেই তাতে কি হয়েছে?
তারা তো আমার বংশের লোক, আমার পরিচিত জন। এবার তারা আমার কথা শুনবে, আমার ডাকে সাড়া দিবে। তাদের নিকট কিছুই চাই না আমি, হেরার আলোয় আলোকিত হোক কালো হৃদয়। পাশে দাঁড়ালেন ধনী মুতইম, বললেন আমি আছি তোমার পাশে। চালিয়ে যাও তোমার মিশন। নিরাশ্রয়কে আশ্রয় দিলেন কিন্তু না সেই হৃদয় মোহরাঙ্কিত ছিল। তিনি লক্ষ্য-উদ্দেশ্যে দৃঢ় প্রত্যয়ী, লক্ষ্য অর্জনে প্রাণবন্ত।

আর এদিকে কিছু দিল দীর্ঘ প্রতিক্ষা আছে একটু ইশারার। নিয়ে যাবেন তাঁদের ইয়াসরিবে। আপন করে রাখবেন চিরজীবন। আঁচড় লাগতে দিবেন না মরু ভাস্করের গায়ে। এখন শুধু কুদরতের অপেক্ষা। কুদরতের ফয়সালা হল। এত দুঃখ দুর্দশা, লাঞ্চনা বাঞ্চনা আর সহ্য হয় না। ইতিপূর্বে সকল মুসলমান মদিনা চলে গেলেন চুপিসারে। অক্ষমরা ব্যতীত। এটা কোরেশেদের চোখে পড়ল। এখন তাদের চিন্তা মুহাম্মাদ সা. যেতে পারলে তাদের সব ভাণ্ডামি নস্যাৎ হয়ে যাবে। বাপ দাদার ধর্ম ধুলোয় মিশে যাবে। তাদের আত্ম গৌরব সব ভেসে যাবে নবুওতের নূরে।

কোরেশরা চিরাচরিত ফন্দিতে বসল। আবু জাহেলের কূটচাল গৃহীত হল। কোরেশ যুবকদল রাসুল সা. এর ঘরের আশেপাশে। বিচক্ষণতায় মুহূর্ত পার করছে। কুদরতের ইচ্ছায় সবকিছু হয়। সেই আল্লাহই তো তাঁর সাথে। আলী রা.কে তাঁর বিছানায় শুইয়ে দিলেন। আদেশ ছিল সবার আমানত দিয়ে পরে আসবে তুমি। নিঃসংকোচে কম্বল মুড়ি দিলেন। বাতলানো দোয়া পড়ে রাসুল সা. বালি নিক্ষেপ করলেন। চোখ থেকেও তারা অন্ধ হয়ে গেল। গেলেন আবুবকর রা.এর ঘরে, তিনি আগে থেকে প্রস্তুত। দু’জন রাতের আঁধারে মদিনার পথে চললেন। সাথী আল্লাহ তায়ালা। কোরেশদের আর দেরি সহ্য হয় না। কম্বল খুলে দেখলেন এ যে আলী রা.! মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ল। তিনি ভাবলেশহীন, তিনি ইশারা প্রাপ্ত।

উদভ্রান্ত হয়ে খুঁজতে লাগল তাঁকে। লোভাতুর পুরস্কার ঘোষিত হলে এবার দিকভ্রান্ত হল। পদচিহ্ন ধরে গারে সাওরের নিকটে গেল চক্ষু আর ভিতরে গেল না। পুরাতন ভেবে নিরীক্ষণ করল না। তিনদিন অবস্থানেরর পর বিপদ-আপদ মাথায় নিয়ে আবারো পথ চললো। অনেক কড়াই উতরে তিনি আর সাথী পৌঁছলেন মদিনায়। মদিনাবাসির অপেক্ষার প্রহর শেষ হল। তারা গেয়ে উঠল সম্ভাষণ গীত। এমন সুর আর কখনো উঠেনি তাঁদের কণ্ঠে। এমন তৃপ্ত আর কখনো হয়নি তাঁরা। আবাল, বৃদ্ধ- বণিতা সকলের মনের আকুতি রাসুল সা. যদি আমার ঘরের মেহমান হতেন। তিনি যদি আমায় একটু স্পর্শ দিতেন। তিনি মধুর ভাষায় বললেন আমার উটকে ছেড়ে দিন। সে আদিষ্ট যে ঘরে থামবে সেখানে অবস্থান করবো মেহমান সবার। প্রাপ্তির খুশিতে মদিনা টইটম্বুর। আনন্দে ষোলকলা। যখন যে আদেশ তা সবার জন্য সব শীরধার্য। তিনি কর্মকুশলি, তিনি সদাচরণবাদী।

আস্তে আস্তে ইসলামবৃক্ষ শাখাপ্রশাখায় মহীরুহ হল। এখন তাঁদের উপর কথা বলে এমন কে আছে! ঈমানের বলে বলিয়ান, শান্তিতে সাংগ্রামে দৃঢ় প্রত্যয়। কখনো সংখ্যায় ক্ষুদ্র হলে ঈমানি তাজাল্লিতে বিশাল। আবার কখনো সৈন্য সেনায় ও তাঁরা কম নয়। দিক্বিদিকে তাঁদের অস্তিত্বের স্বীকার। মাটির কুটিরে বসে পরাশক্তির ভীত নাড়িয়ে দিচ্ছেন। কখনো দম্ভ করেন না, বিজয়ী হয়ে উল্লাস না করে শুকরিয়া আদায় করেন। পরস্পর তাঁরা সম্প্রীতিশীল কিন্তু দুশমনের ব্যাপারে কঠোর। দিন দিন ইসলাম ও দেশ-জাতির উন্নতি। তিনি অর্থনীতিবিদ, তিনি দূরদৃষ্টিসম্পন্ন রাষ্ট্রনায়ক।

ইসলামের শত্রুরা বসে নেই। তাদের অব্যাহত কূটচালের ফলে মদিনায় তারাই হামলা করতে আসল। সালমান ফারসি রা. অভিনব কৌশলে মদিনাবাসী আত্মরক্ষা করতে পারল। কিছুদিন পর রাসুল সা. তাওয়াফ স্বপ্নে দেখলেন। লেবাসে তাওয়াফে তাঁরা রওয়ানা হলেন প্রাণের মক্কায়, স্মৃতির মক্কায়। হুদায়বিয়া এলে, অগ্রে প্রেরণ করা হল হযরত উসমান রা.কে। মক্কার মোড়লরা চাচ্ছে না নবী করিম সা. ও সাহাবায়ে কেরাম তাওয়াফ করুক। এক সন্ধিচুক্তি হল, অবান্তর কিছু শর্ত দিয়ে তাঁদের ফিরিয়ে দেয়া হল। বলা হল আগামী বছর হজ করবে। পক্ষান্তরে সেটাই ছিল ফাতহে মুবিন বা সুস্পষ্ট বিজয়। কিন্তু মক্কাবাসি তাদের চুক্তি রক্ষা করেনি। তিনি কৌশলী, তিনি পর্যবেক্ষক।

এবার সময়, সুযোগ এলো মক্কা বিজয়ের। রাসুলে আরাবি সা.এর ইচ্ছে কোন প্রকার রক্তপাত ছাড়াই প্রাণের মক্কা বিজয় করা। আকস্মিক আক্রমণে মক্কাবাসি দিকভ্রান্ত হয়ে গেল। তিনি ঘোষণা করলেন ‘যত পাপ করেছ জমা করতে এসেছি ক্ষমা, প্রতিশোধ নিতে আসিনি’। যে নিজের ঘরে, আবু সুফিয়ানের ঘরে, বাইতুল্লাহ এ থাকবে তারা নিরাপদ। আবু সুফিয়ান, হিন্দা, ওহাশিসহ একে একে সকল দাগি আসামিকে ক্ষমা ঘোষণা করা হল। তিনি বীর যোদ্ধা সমরবিদ, তিনি মহান নেতা।

এভাবে আস্তে আস্তে সকল এলাকায় ইসলামের হেলালি পতাকা উড্ডীন হল। দিক্বিদিকে তাঁদের বিজয়ী ডঙ্কা বেজেই চলল। কেসরা-কায়সার সকলে তাঁদের প্রতাপে প্রকম্পিত হল। আর এদিকে নবুওয়তির সময়ও ধীরে ধীরে কমতে লাগলো। ক্রমান্বয়ে ইসলামের সকল বিধি-নিষেধ, হুকুম-আহকাম সকলের কাছে পৌঁছে দেয়া হল। অনেক ঘটনাপ্রবাহর মধ্য দিয়ে নবুওয়তের জীবন লক্ষ্য পানে চলতে লাগল, সকল ঘাত-প্রতিঘাত, প্রতিকূলতা সহ্য করে মনজিলে মাকসাদে যাওয়ার দৃঢ়প্রত্যয় নিয়ে। দেখতে দেখতে বিদায় হজ এলো। এ ভাষণ-সম্ভাষণতো অন্য কথার মত নয়। তাতে সুনির্দিষ্ট কোনো বিষয়ের ইঙ্গিত রয়েছে। তা শুনেই সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে এক আশংকা দেখা দিয়েছে। তিনি বিশ্বাসী, তিনি উত্তম আমানতদার। তিনি দায়িত্ব পূর্ণরূপে আদায় করছেন।

তাঁরা বুঝে নিলেন নবুওয়তির সূর্য অস্ত যাওয়ার সময় হল। তাতে আরো দৃঢ়তা এনে দিল রাসুল সা.এর দীর্ঘ জ্বর। তিনি আর স্বাভাবিক হতে পারেননি। সাড়া দিলেন রফিকে আ’লার ডাকে, ছেড়ে গেলেন এ নশ্বর পৃথিবী। শোকের সাগরে ভাসিয়ে গেলেন তাঁর প্রাণ প্রিয় সাহাবায়ে কেরামকে। এভাবেই নবুওয়তের সূর্য চির দিনের জন্য অস্তমিত হল।

রাসুলে আরাবী সা. জীবন মুসলিম অমুসলিম সবার চোখে এক বিস্ময়! যেমন মাইকেল এইচ হার্টের দ্য হান্ড্রেডে তিনিই সবার শীর্ষে। আধুনিক বিজ্ঞান, সমাজবিদ, রাষ্ট্রনীতিবিদ, অর্থনীতিবিদ, চিকিৎসা বিজ্ঞানী সবাই যেন তাঁর রীতিনীতি মেনে নিতে বাধ্য হচ্ছে। তিনি একমাত্র ব্যক্তিত্ব যাকে পৃথিবীর সব মানুষ অনুসরণ করতে পারে। তিনি রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ জীবন থেকে সামাজিক, পারিবারিক, ব্যক্তি জীবনের সকল বিষয় শিক্ষা দিয়ে গেছেন তাঁর অনুসারীদেরকে। তাঁকে পৃথিবীর জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরণ করেছে আর তিনি তা বাস্তবায়ন করে গেছেন। আল্লাহ জান্নাতে তাঁর মাকাম উঁচু করুন।