সড়ক দুর্ঘটনা: ছোট্ট দুই শিশু খুঁজে ফিরছে তাদের বাবা-মাকে

3_7763পূর্ণ আর বুশরা খুঁজে ফিরছে তাদের বাবা-মাকে। গত ২৬ জানুয়ারি, কুমিল্লার দাউদকান্দিতে সড়ক দুর্ঘটনায় তারা হারিয়েছে তাদের মা,বাবা ও বোনকে। ভাগ্যক্রমে সেই দুর্ঘটনায় দুই ভাই বোন বেঁচে ফিরলেও, এখনো তারা চিকিৎসাধীন ঢাকার আগারগাঁওয়ে ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেস হাসপাতালে।

মা-বাবা ও বোনের অকাল মৃত্যু কিছুতেই ভুলতে পারছে না দু’বছরের ছোট্ট পূর্ণ। পূর্ণ হাতে ব্যান্ডেজ নিয়ে কান্না করছে আর বলছে- ‘আব্বু যাব, আম্মু যাব।’ কিছু সময় পরপর মা-বাবার কাছে যাওয়ার জন্য কান্না করছে। তার মাথায় আঘাত লেগেছে। হাত ভেঙে গেছে। উপস্থিত দুই ফুফু তাকে কিছুতেই থামাতে পারছেন না। পূর্ণর বোন ফাইজাও ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এদিকে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা বলেছেন, দুই শিশু শারীরিক ক্ষতি সহসা কাটিয়ে উঠলেও তাদের মানসিক ক্ষত সারতে লাগবে অনেক দিন।
চোখে, মুখে ক্লান্তি আর কষ্টের অভিব্যক্তি। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে-বসে কাটছে পূর্ণের জীবন।

এখনো সে জানেনা, জীবনের তরে সে হারিয়েছে তার মা-বাবা আর বোনকে। আর যে বোন পূর্ণর মত ভাগ্যক্রমে বেঁচে ফিরেছে, সেও জানেনা যাদের হারিয়েছে তারা, ফিরে পাওয়া যাবেনা, তাদের আর কোনভাবেই।

হাসপাতালে দুই ভাই বোন, তদারকিতে রয়েছেন তাদের বড় ফুফু। তিনি জানালেন, ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছে দু জন,তবে বারে বারে প্রশ্ন তাদের বাবা-মা কোথায়।

ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব নিউরোসাইন্সেস ও হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা: মো. জাহেদ হোসেন সংবাদমাধ্যমকে জানান, শারীরিকভাবে খুব দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে দুই শিশুই। তবে মানসিক ধকল সামলে উঠতে সময় লাগবে তাদের।

প্রতিদিনই ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা, বাড়ছে বুশরা আর পূর্ণর মত ভুক্তভোগীর আর স্বজনহারার সংখ্যাও। তবে এরকম কষ্টের আখ্যান আর যাতে রচিত না হয়, সেটাই স্বজনদের কামনা।