ইমরান সরকারের বিয়ে, নিহত সংসদ লিটন প্রসঙ্গ ও জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শংকা

ইমরান সরকারের বিয়ে, নিহত সংসদ লিটন প্রসঙ্গ ও জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শংকা

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

শহিদুল ইসলাম কবির (চেয়ারম্যান, মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম কাউন্সিল)


২০১৬ ইং সনের শেষ দিন ৩১ ডিসেম্বরের দুটো ঘটনা নিয়ে ফেসবুকে নেতিবাচক আলোচনা দেখে আমি আশ্চর্য হয়েছি।

মনে হয় কিছু কিছু বন্ধু ফেসবুক ব্যবহার করেন শুধু বিরোধীতার জন্য। কোনো বিষয়কে তারা ইতিবাচক ভাবতে পারেন না।
এমন মানুষিকতা আমাদের নিশ্চয়ই পরিত্যাগ করা জরুরী।

আলোচনা করা যাক ইমরান এইচ সরকার ও নাদিয়ার বিয়ে প্রসঙ্গে – শুরুতেই যখন তাদের বিয়ের সংবাদ প্রকাশ পেল তখন কিছু বন্ধুর স্টাটাস খেয়াল করলাম রতনে রতন চিনে ইত্যাদি।

আমার কথা হচ্ছে নুরুল ইসলাম নাহিদ সাহেব যদি ইমরান সরকারকে মেয়ের জামাতা হিসেবে যোগ্য মনে করেন তাতে আপনার সমস্যা কোথায়? তার মেয়ে যদি ইমরান সরকারকে পছন্দ করেন তবে আপনার সমস্যা কোথায়?

এর পরেও বলি ইমরান সরকার যদি কোনো পর্দানশীন বা আলেমা পাত্রীকে বিয়ে করতেন সেটাও তো আপনি ঐ মেয়ের পরিবারের সমালোচনা করতেন।

আবার শিক্ষা মন্ত্রীর মেয়েকে যদি কোনো আলেম বা ইসলামপন্থী পাত্র বিয়ে করতেন তাতেও তো আপনি সমালোচনা করতেন। তবে এখন হবে কি? তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ না হয়ে জেনা আর বেভিচারীতে লিপ্ত হবে? আপনি কি তাই চান? তবে অযথা সমালোচনা করার প্রাকটিস করেন কেন? এর কি কোনো ফলাফল আছে?

আলেম কতৃক বিবাহ পড়ানো প্রসঙ্গ : এমরান এইচ সরকার ও নাদিয়ার বিবাহ পড়ানো আলেমের সমালোচনার বিষয়টি আমার নজরে এসেছে।

আজ একজন সাংবাদিকও আমার অফিসে বসে আলোচনা তুলতে বিবাহ পড়ানো ঐ আলেমের প্রতি গৃনা প্রকাশ করছিলেন।

কিন্ত আমার কথা হচ্ছে এখানে কার কি দোষ? : কেউ যদি ইসলামের বিধান অনুযায়ী বিবাহ কাজ সম্পন্ন করতে চান তাতে অসহযোগিতা করার কি কোনো নির্দেশনা আছে?

আমি মনে করি ইসলামী শরীয়ত অনুযায়ী বিবাহ সম্পন্ন করতে তাদের সহযোগিতা করে ঐ আলেম প্রশংসার কাজ করেছেন।
তিনি বা কোনো আলেম যদি তাদের বিবাহ না পড়ান তবে তারা তো জেনার পাপে লিপ্ত হবে এর দায় কি সহযোগিতায় অসম্মতি জানানো আলেমদের উপর পতিত হবে না?

আর আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যদি তাদের রিজিক এর ফয়সালা করতে পারেন তবে আপনি সামান্য একটু বিয়ে পড়ানো নিয়ে আপত্তি করে কি করতে বলছেন?

নিহত সংসদ লিটন প্রসঙ্গ : সংসদ সদস্য লিটন শত্রুদের গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনায় অনেককে আনন্দ প্রকাশ করে প্রতিশোধ হয়েছে এমন মন্তব্য করতে দেখা গেছে।

কিসের প্রতিশোধ? বাচ্চা শিশুর পায়ে ২০১৬ এর শুরুতে গুলি করছে এখন সে গুলিতে নিহত হয়েছে, মানে কেউ কেউ জয়লাভ করেছে। আপনাদের এই উৎফুল্ল হওয়া প্রমান করে আপনি নিজেও একজন অপরাধী।

কারন ছেলেটার পায়ে গুলি করা যেমন অপরাধ তার চেয়ে বড় অপরাধ একজন মানুষকে গুলি করে হত্যা করা। তাতে নিহত ব্যাক্তি, সংসদ সদস্য, সরকারী কিংবা বিরোধী দলীয় অথবা রাস্ট্রের সব চেয়ে দুর্বল ব্যাক্তিকে হত্যা করলেও।

আমার কথা হচ্ছে আমি পায়ে গুলি কারী সংসদ সদস্য লিটন এর যেমন বিচার চাই। তেমনিভাবে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত লিটন এর হত্যাকারী সন্ত্রাসীদের দৃস্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

কারণ আমি বিশ্বাস করি কোনো মানুষকে হত্যা করার দায়িত্ব আল্লাহ তায়ালা কাউকে দেননি। তাতে সে যত বড় অপরাধীই হোক না কেন?

আমাকে তো আমার কর্মের জন্য আল্লাহ তায়ালার নিকট জবাবদিহি করতে হবে। বড় কোনো অপরাধীকে হত্যা করার অপরাধে আল্লাহ তায়ালা যদি আমাকে ক্ষমা না করে শাস্তি দিয়ে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করেন, তখন কি আমরা জাহান্নাম এর আজাব সহ্য করতে পারবো? নিশ্চয়ই নয়।

হ্যাঁ রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যাদেরকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তারা অপরাধীদের যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করবেন। তাদের বিচার যদি আপনার অপছন্দ কিংবা ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী না হয় তবে হক্কানী একজন আমির বা ইসলামী নেতার নেতৃত্বে আপনাকে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করতে হবে।

আর যদি কোনো নেতা/ আমীর আপনার পছন্দ না হয় আপনার সিদ্ধান্ত আপনাকেই নিতে হবে।

তবে কোনো ক্ষেত্রেই অপরাধীদের অপরাধকে সমর্থন করে কল্যাণ আসবে না।

জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে সঙ্কা : সরকার দলীয় একজন সংসদ যদি নিজ বাড়িতে অবস্থানকালীন সময়ে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হতে হয়। তবে সাধারন মানুষের জান মালের নিরাপত্তা কোথায়?

আমরা আশাকরি সরকার সকল প্রকৃত অপরাধীদেরকে আইনের আওতায় এনে মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন।


ফেসবুক থেকে