৫ জানুয়ারী মূলত গণতন্ত্র পরাজিত হয়েছিল : গোলাম মোস্তফা ভুইয়া

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর ভোটারবিহনীন নির্বাচনের নামে তামাশা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেদিন মূলতঃ গণতন্ত্র পরাজিত হয়েছিল। পদদলীত হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের চেতনা গণতন্ত্র। অংশগ্রহনহীন প্রহসনের সেই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির ইতিহাসে এক কলঙ্ক লেপিত হয়েছিল। যার দায়ভার বাংলাদেশকে বহুকাল বহন করতে হতে পারে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে নয়াপল্টনস্থ যাদু মিয়া মিলনায়তনে “৫ জানুয়ারী গণতন্ত্রের কালো দিবস উপলক্ষে” বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ ঢাকা মহানগর আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা এ বক্তব্য রাখেন।

নগর সদস্য সচিব মোঃ শহীদুননবী ডাবলু‘র সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন ২০ দলীয় জোট নেতা ও বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া।

আলোচনায় অংশ গ্রহন করেন বাংলাদেশ মুসলিম লীগ-বিএমএল মহাসচিব এডভোকেট শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এনডিপি প্রেসিডিয়াম সদস্য মোঃ মঞ্জুর হোসেন ঈসা, জাতীয় পার্টি (জাফর) যুগ্ম মহাসচিব এএসএম শামিম, ন্যাপ সম্পাদক মোঃ কামাল ভুইয়া, নগর নগর যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ আনছার রহমান শিকদার, জাতীয় ছাত্র কেন্দ্রের যুগ্ম সমন্বয়কারী সোলায়মান সোহেল প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেছেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির ইতিহাসে যে কলঙ্ক লেপিত হয়েছে তা থেকে জাতিকে মুক্ত করতে হবে। আর মুক্তির পথ হচ্ছে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রুপ দেয়া এবং টেকসই গণতন্ত্র। গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রুপ দিতে হলে দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরী করতে হবে। গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি করতে সরকারের উচিত দেশের সকল নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সমন্বয়ে জাতীয় সংলাপের আয়োজন করা। তিনি বলেন, সরকার যেভাবে নিড়িন-নির্যাতনের মাধ্যমে ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী করার চেষ্টা করছে তা গণন্ত্রের জন্য মঙ্গলজনক নয়। সরকারের একদলীয় আচরন গণতন্ত্রের জণ্য অশুভ সংঙ্কেত।

গোলাম মোস্তফা ভুইয়া আরো বলেছেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী ভোটারবিহীন একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে হত্যা করেছে। যে গণতান্ত্রিক ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য এক সাগরের রক্তের বিনিময়ে আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত করেছি আওয়ামী লীগ বার বার সেই গণতান্ত্রিক চেতনাকে আঘাত করেছে। এখন দেশে মূল সংকট গণতন্ত্রের সংকট। এ সংকটের সৃষ্টি হয়েছে ৫ জানুয়ারি ২০১৪ সালের নির্বাচনে; যে নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ওপর বিরাট আঘাত করা হয়েছে।

শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী বলেছেন, আওয়ামী লীগের কাছে গণতন্ত্র, মানবাধিকার, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব কিছুই নিরাপদ নয়। আমরা কে কি করলাম এটি বিষয় নয়, ইতিহাসের ধারাবাহিকতার অনিবার্য পরিনতি থেকে স্বৈরশাসক আওয়ামী লীগের মুক্তি নাই।

মোঃ মঞ্জুর হোসেন ঈসা বলেছেন, জনরোষের মুখে গণআন্দোলনের মধ্য দিয়েই ভোটার বিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত স্বৈরাচারের পতন হবে। বাংলাদেশ একটি পৈশাচিক হত্যার দেশে পরিণত হয়েছে। দেশ আজ এক চরম সংকটে পতিত হয়েছে। এই সংকট গণতন্ত্রের। এ সংকট থেকে বের হওয়ার জন্য অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন দরকার, যেখানে সব দলের অংশগ্রহণ থাকবে। এর বাইরে গোঁজামিলের রাজনীতির সুযোগ নেই।

এ এস এম শামিম বলেছেন, সরকারের গণবিরোধী অবস্থান ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী করার অপরাজনীতি বাংলাদেশের জন্য অভিশাপ বয়ে আনছে। এ অবস্থা থেকে দ্রুত উত্তরণে সকল দলের অংশগ্রহনে অবাধ-সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ নির্বাচনের কোন বিকল্প নাই। আগামী বাংলাদেশে একটি দেশপ্রেমিক সরকার প্রতিষ্ঠায় জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার বিকল্প নাই।

মোঃ কামাল ভুইয়া বলেছেন, অপশক্তির মদদে ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে অধিষ্ঠিত সরকারের কাছে জাতি গণতন্ত্র আর আইনের শাসন প্রত্যাশা করে না। গণজাগরণ অথবা গণঅভ্যূথানের মাধ্যমেই চলমান অচল অবস্থা থেকে দেশকে মুক্তি দেয়ার কোন বিকল্প পথ খোলা নাই।

সভাপতির বক্তব্যে মোঃ শহীদুননবী ডাবলু বলেছেন, দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি করে সকল দলের অংশগ্রহনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন এখন সময়ের দাবী। ৫জানুয়ারী গণতন্ত্রের কালো অধ্যায় থেকে জাতিকে মুক্তি দিতে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তুলতে হবে।