ইসরাইলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করিনি: বারাক ওবামা

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তার বিরুদ্ধে ইসরাইলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার যে অভিযোগ এনেছেন তা সম্পূর্ণ অবাস্তব ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সম্প্রতি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ইসরাইল বিরোধী একটি প্রস্তাবে আমেরিকা ভেটো না দেয়ায় ওবামার বিরুদ্ধে ওই অভিযোগ এনছিলেন নেতানিয়াহু।

বারাক ওবামা একটি ইসরাইলি টিভি চ্যানেলকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ইহুদি বসতি স্থাপন নিয়ে তেল আবিব ভাবমূর্তির যে সংকটে পড়েছে তা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য মার্কিন প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হচ্ছে যা বাস্তবতা বিবর্জিত। ওবামার পূর্ণাঙ্গ সাক্ষাৎকারটি বৃহস্পতিবার প্রচার হওয়ার কথা রয়েছে।

অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে অবৈধ ইহুদি বসতি নির্মাণ অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে গতমাসে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে একটি প্রস্তাব পাস হয়।  ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদে ১৪-০ ভোটে প্রস্তাবটি অনুমোদন লাভ করে। ঐতিহ্য ভেঙে ইসরাইল বিরোধী প্রস্তাবে ভেটো দেয়ার পরিবর্তে ভোটদানে বিরত থাকে আমেরিকা। এ ঘটনায় তেল আবিবের পাশাপাশি আমেরিকার ইহুদিবাদী লবি ওবামা প্রশাসনের ওপর মারাত্মক ক্ষুব্ধ হয়।

প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজের মেয়াদের শেষ দিনগুলোতে ইসরাইলের বিরুদ্ধে এমন একটি পদক্ষেপে নেয়া উচিত হয়েছে কিনা- এমন প্রশ্নের উত্তরে বারাক ওবামা বলেন, যে কাজটি করা উচিত বলে মনে করেছেন সেটিই করেছেন তিনি।

ইসরাইলি বিরোধী পদক্ষেপ নেয়ার পর আপনি কীভাবে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারছেন- ইসরাইলি টিভির এমন প্রশ্নের জবাবে বিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমি পাল্টা প্রশ্ন করতে চাই। নেতানিয়াহু  কি ২০ জানুয়ারির (ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের) পর নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারবেন?”

এর আগে ওবামা প্রশাসন নিরাপত্তা পরিষদে ইসরাইল বিরোধী প্রস্তাবে ভেটো না দেয়ার ব্যাখ্যায় বলেছে, ইসরাইলের বিরুদ্ধে ভোট দেয়নি ওয়াশিংটন; বরং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে দেশটি ভোটদানে বিরত থেকেছে।  ওই নীতি হচ্ছে, ওয়াশিংটন ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইহুদি বসতি স্থাপনকে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে অন্তরায় বলে মনে করে।

পার্সটুডে